২০ অক্টোবর ২০২০

নামী ব্র্যান্ডের আদলে নি¤œমানের চা পাতা প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তা

-

বাজারে নামীদামি ব্র্যান্ডের প্যাকেটের ডিজাইন ঠিক রেখে নকল ও নি¤œমানের চা পাতায় বাজার এখন সয়লাব। এতে এক দিকে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্য দিকে প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা। চা শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে রীতিমতো উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র চোরাই পথে ভারতীয় নি¤œমানের চা পাতা এনে নামী ব্র্যান্ডের আদলে প্যাকেটজাত করে গ্রাহকের হাতে তুলে দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি টন চা পাতা আমদানিতে সরকার শুল্ক হিসেবে প্রায় দুই লাখ টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু চোরাই পথে আসা চা পাতার বিপরীতে এক টাকাও রাজস্ব পাচ্ছে না। সূত্র মতে, প্রতিদিন চোরাই পথে আসা চা পাতায় বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়ায় দেশীয় চা শিল্পের অবস্থা ক্রমে শোচনীয় হয়ে উঠছে।
নগরীর সর্বত্রই এখন নামী ব্র্যান্ডের আদলে নকল চা প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের পণ্য বিক্রি করা ঠেলাগাড়িতে বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের মোড়কের আদলে নকল প্যাকেটজাত চা পাতা বিক্রি হচ্ছে।
গত সোমবার দেশের অন্যতম সেরা চা পাতার ব্র্যান্ড সিলন গোল্ড-এর মোড়ক নকল করে নি¤œমানের চা পাতা বিপণনের অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে আবুল খায়ের গ্রুপের সিলন ব্র্যান্ডের আদলে হুবহু নকল প্যাকেট বানিয়ে করা সেভরন ব্র্যান্ডের ১০০ প্যাকেট চা পাতা, ২০০টি খালি প্যাকেট, তিনটি প্যাকেট তৈরির রোল এবং একটি মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ আজিজ নয়া দিগন্তকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতারক চক্র আবুল খায়ের গ্র“পের উন্নতমানের সিলন ব্র্যান্ডের প্যাকেট, মনোগ্রাম এবং বিএসটিআইর সিলমোহরের আদলে নকল নি¤œমানের ‘সেভরন’ নামের চা পাতা বাজারজাত করে আসছিল।
মোহাম্মদ আজিজ জানান, আবুল খায়ের গ্রুপের সিলন ব্র্যান্ডের আদলে নকল করা চা পাতার প্যাকেটগুলো অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় তৈরি করা হচ্ছিল। প্যাকেটের মোড়কগুলো হুবহু সিলনের প্যাকেটের মতো দেখতে। শুধু সিলনের নামের জায়গায় সেভরন বসিয়ে দেয়া হয়েছে। আবার নামের প্রথম এবং শেষ অরও একই। ট্্েরড মার্কসহ সবগুলো প্রসিদ্ধ সিলন চা পাতার প্যাকেটের মতো।
চা শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিনই হাজার হাজার কেজি চা পাতা সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে ঢুকছে বাংলাদেশের বাজারে। নি¤œমানের ভারতীয় এসব চা পাতার বেশির ভাগই প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা ও ভারতসহ বিশ্বের নানা দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ চা পাতা আমদানি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন মানসম্পন্ন চা পাতার দাম আড়াই হাজার ডলারের বেশি। বাংলাদেশে চা পাতা আমদানি করতে সব মিলিয়ে ৯২ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয় উল্লেখ করে সূত্র জানায়, প্রতি কেজি চা পাতা আমদানিতেই শুল্ক পরিশোধ করতে হয় প্রায় ২০০ টাকা।
গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন, শুধু সিলন ব্র্যান্ডই নয়, ইস্পাহানি, রিং, ফ্রেশসহ বিভিন্ন প্রচলিত ব্র্যান্ডের চা পাতা মোড়কজাত করে বাজারজাত করে থাকে। আধা কেজি চা পাতা প্যাকেটজাত করতে তাদের গড়ে ১০ টাকারও বেশি খরচ পড়ে। ১৫০ টাকার কম দামের চা পাতা শুধু মোড়কজাতকরণের কারণে ৩৫০ টাকার উপরে বিক্রি করেন। এভাবে ক্রেতাদের পকেট থেকে সঙ্ঘবদ্ধ প্রতারক চক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে সূত্র জানায়।


আরো সংবাদ