মোহনপুরের টুপি যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে

মালেক আদনান টাঙ্গাইল

‘টুপি’ মুসলমানদের একটি অপরিহার্য উপকরণ। দিন দিন বিশ্বে মুসলমানের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি টুপির কদরও বাড়ছে। তবে ঈদ এলে টুপির কদর আরো বেড়ে যায়। আর এ টুপির প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে টুপি তৈরি হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মোহনপুরের একটি ফ্যাক্টরিতে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৪ হাজার টুপি তৈরি করা হচ্ছে। ওই হিসেবে প্রতি মাসে টুপি তৈরি হচ্ছে ছয় থেকে সাত লাখ। এগুলো বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশে। এসব দেশে এ টুপি ব্যাপক জনপ্রিয়। তাই সেখানে এই টুপির চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। মোহনপুরের এ টুপি কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার ৬২০ নারী-পুরুষের। এখানে কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়েই চলছে তাদের সংসার।
টাঙ্গাইল শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এ মোহনপুর গ্রামের অবস্থান। গোপালপুর উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। গত শুক্রবার সরেজমিন মোহনপুরে গিয়ে কথা হয় ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে।
তারা জানান, ১৬ বছর আগে মোহনপুরের মতো একটি অজপাড়াগায়ে টুপি তৈরির এ কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ হাফিজ উদ্দিন জানান, প্রথম দেড় বছর হাত দিয়ে টুপি তৈরি করা হতো। কিন্তু চাহিদার সাথে তালমিলিয়ে টুপি তৈরি করা যাচ্ছিল না। তাই মেশিনের মাধ্যমে টুপি তৈরির কাজ শুরু হয়। টুপির চাহিদার সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানের পরিধিও বাড়তে থাকে। হাফিজ উদ্দিন আরো বলেন, প্রতিদিন এখানে গড়ে ২০ হাজার থেকে ২৪ হাজার টুপি তৈরি হয়। টুপির ডিজাইন রয়েছে ৩৪৭টি। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫টি ডিজাইনের টুপি সারা বছরই চলে। আমরা এখান থেকে টুপি তৈরি করে ঢাকা পাঠাই আর সেখান থেকে নির্ধারিত বায়ারের মাধ্যমে তা চলে যায় মধ্যপ্রাচ্যের সব মুসলিম দেশসহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশে। তবে সৌদি আরব ও পাকিস্তানে বেশি টুপি রফতানি করা হয়। শুধু রমজান মাসই নয়, সারা বছরই একইভাবে চাহিদা মতো টুপি তৈরি করা হয় এখানে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ডিজাইনার রয়েছেন। তারা ঢাকা থেকে ডিজাইন করে এখানে পাঠিয়ে দেন। সেভাবেই এখানকার শ্রমিকেরা টুপি তৈরি করে থাকেন। নারী-পুরুষ মিলিয়ে এখানে ৬২০ শ্রমিক কাজ করেন। সবাই স্থানীয়। তারা কাজ করেন মাসিক বেতনে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা আবার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শ্রমিকেরা কাজ করেন। এ ছাড়া শুক্রবারে কাজ হয় দুপুর ১২টা পর্যন্ত। ১২ বছর আগে স্থানীয় যুবক রুবেল ভূঁইয়া এখানে কাজ নেন। প্রথমে তিনি টুপি তৈরি করতেন। এখন তিনি টুপি তৈরির মেশিন দেখাশোনা করেন। তিনি বলেন, এখানে মেশিন আছে দুই হাজারের বেশি। একজন শ্রমিক এক সাথে চারটি মেশিন চালাতে পারেন। যতগুলো ডিজাইন আছে এর মধ্যে সেলাই করা সাদা টুপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। একটি টুপির দাম ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এখানকার টুপি আরব দেশে যায় বেশি।
৬২০ নারী-পুরুষ এ টুপি কারখানায় কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। কোনো কোনো পরিবারের সবাই এখানে কাজ করে তাদের সংসার চালান। মোহনপুরের হোসেন আলী চার বছর আগে থেকে এখানে কাজ করছেন। তার পরিবারের সবাই এখানে মাসিক বেতনে টুপি তৈরির কাজে নিয়োজিত। তিনি বলেন, প্রথমে আমার স্ত্রী এখানে কাজ নেন। তারপর আমি আসি। এখন আমার মেয়ে ও আমার ছোট ভাইও এখানে টুপি তৈরির কাজ করেন। আমরা প্রতি মাসে সবাই মিলে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করি। তা দিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলে যাচ্ছে। একই এলাকার আরেক শ্রমিক খলিলুর রহমান ১০ বছর ধরে এখানে কাজ করছেন। তিনি বলেন, এইখানে টুপির কারখানা হওয়ায় আমাদের খুবই ভালো হয়েছে। এখানে কাজ করে পরিবার নিয়ে ভালোভাবেই চলছি।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.