১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩০, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫ হিজরি
`

পাখির নরম পালকের মতো

পাখির নরম পালকের মতো - ছবি : সংগৃহীত

দেখার বিষয় হলো মানুষ তার কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা? আমি বর্তমানে যে কাজ নিয়ে আছি তা নিয়ে কি সুখী হতে পারছি? কোথায় আমি সুখী হব তাও জানি না। মানুষ তার ভবিষ্যৎ জানে না। আল্লাহ তাআলা জানেন। গায়েবের চাবিকাঠি তো তাঁর কাছেই। মানুষ তার জীবন নিয়ে অভিযোগ করে। মনে করে সে খুব দুঃখে আছে। আসলে কি তাই? আমিও অন্যদের মতো অভিযোগের বাক্স খুলে বসি মাঝেমধ্যে। কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখি- কত ভালো আছি আমি!

কয়েকদিন যাবৎ বাসা খালি।‌ বিকেলবেলা যাই, কোনো কাজ নেই। কাজের মতো একটাই কাজ আছে- চা বানিয়ে খাওয়া। শেষ বিকেলের কমলা রোদ পশ্চিম দিক থেকে ছড়িয়ে পড়ছে। রোদের নম্র আলোতে বোঝায় যাচ্ছে সে তার শেষ রৌদ্রকিরণ ছড়িয়ে অতি দ্রুত অন্ধকারে ডুবে যাবে।

পড়ন্ত বিকেলের মায়াবী রোদ পাতার ফাঁক গলে আমাদের রুমে ছড়িয়ে পড়ছিল। ওই সময়টা কেমন এক বিদায়ের কথা বলে যায়। যত আনন্দ নিয়েই বিকেলে বাসায় যাই সন্ধ্যাটা নেমেই পড়ে। সন্ধ্যাটা এমন এক সময়, যখন জীবনের খুঁটিনাটি নানা স্মৃতি ভিড় করে। এর জন্য জীবনে সন্ধ্যা এবং মাগরিবের আজান এ দুইয়ের মধ্যে যে পার্থক্য পেয়েছি তা হলো, সন্ধ্যা বিষাদের কথা মনে করিয়ে দেয় আর মাগরিবের আজান আল্লাহ তাআলার কাছে প্রত্যাবর্তনের কথা বলে যায়। আমি দু’টির মধ্যে মাগরিবকে পছন্দ করি।

একদিন মাগরিবের আজান পড়ল। ফসলের দিগন্ত জুড়ে মিহি বাতাস। আদিগন্ত চলছে সন্ধ্যার আয়োজন। সব কিছুতে হারিয়ে যাওয়ার ছাপ। তখন মনে হলো, প্রভুর আশ্রয়ে ফিরে আসাটাই আমার জন্য ভালো।

আমার ছেলেবেলা কেটেছে হজক্যাম্পে। যদিও আমি দূর দূরান্তের মাদরাসায় পড়তাম। অতি ছোটবেলা থেকেছি বাবর রোডে। ওখান থেকেই হজক্যাম্পে চলে আসি। ২০০৫-এর দিকে ভর্তি হই দক্ষিণখানে মাদরাসাতুর রহমানে।

লেখাগুলো হয়ে যাচ্ছে আত্মজীবনীর মতো। অবশ্য, ইদানীং আমি এক লেখকের আত্মজীবনী পড়ছি। তাই লেখার মধ্যে আত্মকথা বলার প্রভাব পড়ছে। এই চিন্তাও আসে, একটা আত্মজীবনী লিখব। পরে হাসি পায় যে, জগতের অনেক অপ্রয়োজনীয় কাজের মধ্যে এটাও একটা অপ্রয়োজনীয় কাজ হবে। খুব সাদামাটা জীবন যাদের তাদের আবার আত্মজীবনী কিসের? মাঝেমধ্যে মনে হয় খুব নিরিবিলি একটি জীবন পার করে দেব। নামহীন পরিচয়হীন অনুল্লেখযোগ্য সাদা মেঘের মতো একটি জীবন।

বলছিলাম হজক্যাম্পের কথা। মাগরিবের নামাজের শেষ রাকাতে বিদ্যুৎ চলে গেল। সমস্ত মসজিদ জুড়ে পিনপতন নীরবতা। শুধু তাসবিহ পাঠের ক্ষীণ শব্দ। অন্ধকারে এমন গাঢ় নৈশব্দে আল্লাহ তাআলার আযমতের কথাই মনে পড়ল। কারণ পৃথিবীর অন্য কোনো কাজ হলে আমরা অন্ধকার এবং গরমের কষ্টের কারণে সে কাজ থেকে বের হয়ে পড়তাম। কিন্তু নামাজ এমন এক ইবাদত যা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কাজ নিষিদ্ধ।

ওই গরমে খুব কষ্ট হলেও ভালো লাগছিল। বরং গাঢ় নীরবতায় দরুদ, তাসবিহ আরো তৃপ্তময় হয়ে উঠছিল। হজ‌ক্যাম্পে আমরা দীর্ঘদিন ছিলাম। মানুষের শৈশব যথারীতি সুন্দর হয়। আমারও দিন কেটেছে সুন্দর, পাখির নরম পালকের মতো। এই সেই চিন্তা করতে করতে স্মৃতির ডালপালা মেলা শুরু করল। ততক্ষণে সন্ধ্যার অন্ধকার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে।

(প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব)

লেখক : মাদরাসাশিক্ষক ও তরুণ লেখক


আরো সংবাদ



premium cement
স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ‘এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন’ নিয়ে বিপাকে ২ পুলিশ কমিশনারসহ ৫ এসপি প্রত্যাহার পেঁয়াজের বাজারে অভিযান : ৮০ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ফেনীতে ম্যাজিস্ট্রেট দেখে ১০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি আসন ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠকে ১৪ দলের নেতারা গাজা যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ১৮ হাজার যতক্ষণ পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মুক্তি না দেয়া হবে আন্দোলন চালিয়ে যাব : আরিফুল হক টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরাই মানবাধিকারের কথা বলে, প্রেসক্রিপশন দেয় : তথ্যমন্ত্রী ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমে আসবে : অর্থসচিব কাতারে ‘দোহা ফোরাম-২০২৩’-এ যোগ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সকল