১৪ নভেম্বর ২০১৯
আমিও বলতে চাই

মেয়েদের অবহেলা আর নয়

-

মেয়ে মানেই দোষগুলো তার। প্রতিটি পদক্ষেপে দোষ ধরার জন্য যেন চোখের অভাব নেই। এখনো অনেক পরিবার আছে যেখানে একটি মেয়েসন্তানের জন্ম মানেই কালো মুখে সাদর সম্ভাষণ জানানো।
এখনো অনেক পরিবার আছে যেখানে একটা মেয়ের জন্ম মানেই কপালে চিন্তার ভাঁজ সৃষ্টি হওয়া। এখনো অনেক পরিবার আছে যেখানে একটা মেয়ের জন্ম মানেই তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হলেই বিতাড়িত করার জন্য জন্ম থেকেই তার জন্য টাকার থলে পূর্ণ করা।
একটা পরিবারের প্রত্যেক মানুষের ভাবনা মেয়েটা বড় হচ্ছে বিয়ে দিতে হবে যৌতুকের টাকা জোগাড় করতে হবে খরচের ভার বহন করতে হবে, যেন জন্মের প্রথম দিন থেকেই ভাগ্যজুড়ে থাকে অনাকাক্সিক্ষত এক বৈষম্যের দিকে।
এখনো অনেক পরিবার আছে যারা ভাবে মেয়েদের থালায় বড় মাছের মাথাটা দিয়ে লাভ নেই, অতিরিক্ত মাংস দিয়ে মুটিয়ে ফেললে সমস্যা আছে, পড়াশোনায় টাকা খরচে লাভ নেই। তাদের চিন্তাভাবনা মেয়েরা কিছু করতে পারে না। একটি পরিবারের লোকজন তখনই হতাশ হয়, যখন কর্মক্ষমতার কথা বিবেচনা করে, তারা ভাবে ছেলে তাদের বৃদ্ধ বয়সের সম্বল। তারা ভাবে বৃদ্ধ বয়সে তারাই দেখাশোনা করবে।
এখানে একটা প্রশ্ন, যদি সব ছেলেই তার বৃদ্ধ মা-বাবার দায়ভার নিত তবে কি সমাজে বৃদ্ধাশ্রম বলে কিছু গড়ে উঠত?
আমরা এখন আধুনিক যুগে বাস করি। তবে মনের অলি গলির মধ্যে কোথাও না কোথাও অন্ধকার রয়ে গেছে।
আজও আমরা ছেলে আর মেয়েদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করি। একবার ভাবুন, মেয়েরা আজ কি সত্যিই রান্নাঘরে উনুনে আগুন জ্বালাতে ব্যস্ত নাকি তারাও বিশ্বজয়ী। অনেকেই বলে মেয়েরা কিছু করতে পারে না। কিন্তু ভেবে দেখুন আজ মেয়েরা অ্যাডভেঞ্চার, এভারেস্ট জয়ী। নিশাত মজুমদার ও সেভেন সামিট সম্পন্নকারী ওয়াসফিয়া নাজরীন কি মেয়ে নয়? তারা কি মেয়ে হয়ে সাফল্য লাভ করেনি?
অনেকেই ধারণা করে খেলাধুলা করে কি হবে তার চেয়ে রান্নাঘরে হাত নাড়লেই কিছু শেখা যাবে তাদের উদ্দেশ্যে বলছিÑ
এশিয়া কাপজয়ী দল কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েরাই।
যারা বলে মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে লাভ নেই, মেয়েরা কখনোই ভালো কিছু করতে পারবে না গোয়ালঘর পরিষ্কার ছাড়া, তাদের উদ্দেশ্যে বলছিÑ
ড. ফেরদৌসী কাদরী, ড. রুবহানা রকিব কি মেয়ে নন? তারা কি পারেননি গবেষক কিংবা বিজ্ঞানী হতে?
আচ্ছা, নাঈমা হক এবং তামন্না-ই লুতফি মেয়ে হয়েও কি তারা সফল হননি? ভেবে দেখুন, আজ তারাই মেয়ে হয়ে প্রথম যুদ্ধবিমান পাইলট।
তাই আসুন মেয়েদের হেয়প্রতিপন্ন না করে তাদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে সহযোগী হিসেবে ভেবে নেই।
দৃঢ়কণ্ঠে আওয়াজ তুলিÑ
মেয়েদের অবহেলা আর নয়,
মেয়েরাও করছে বিশ্বজয়।

জেলী আক্তার
উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ

 


আরো সংবাদ