২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

আমিও বলতে চাই কন্যা

-

দুপুরের দিকে দুলাভাই ফোন করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানালেন, ‘তোর আবারো ভাগ্নে হয়েছে। চিন্তা করিস না। রোজী আর ওর বাবু ভালো আছে। হাসপাতালে তোর নতুন ভাগ্নেকে দেখতে আসবি না?’ দুলাভাইকে জানালাম, ‘অবশ্যই আসব।’
শেষ বিকেলে রওনা দিলাম প্রাইম হাসপাতালে, যেখানে আমার রোজী আপা সিজারের মাধ্যমে আজ দ্বিতীয়বারের মতো পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন। সন্ধ্যার আগে হাসপাতালে গিয়ে দেখি ৩০৭ নম্বর কেবিনে রাজপুত্রের মতো এক নবজাতক শুয়ে আছে। আজ আমি এই নবজাতকের মামা হলাম। হাসপাতালজুড়ে দুলাভাইয়ের সব আত্মীয়স্বজনের মুখে হাসির রেখা। এবারো পুত্র সন্তান হওয়াতে তারা খুশি।
হাসপাতালের বারান্দায় এসে সন্ধ্যার আকাশ দেখছি। হঠাৎ পাশের কেবিন কক্ষ থেকে এক নারীকণ্ঠের করুণ কান্নার সুর। কান্নাগুলো খুব যন্ত্রণা হয়ে আমার কানে ঢুকছে। গেলাম সেই কক্ষে। দেখলাম বেডে শুয়ে আছে এক নারী, তার পাশে এক ফুটফুটে নবজাতক। সেই নবজাতককে ঘিরে আছে তিনটি ছোট্ট মেয়ে। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে বিলাপ করে কাঁদছেন মধ্য বয়সের এক মহিলা। তার এমন কান্নার রহস্য আমার জানা নেই। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কাঁদছেন কেন চাচী?’ জবাবে বললেন, ‘বাবা, আমার এই মেয়েটা আজ চতুর্থবারের মতো মেয়েশিশু জন্ম দিয়েছে। ওর স্বামী আগেই বলেছে, এবারো মেয়ে হলে খবর আছে। সে আর দায়দায়িত্ব নেবে না। আজ সকালে তার আবারো মেয়েসন্তান হয়েছে জেনে সে খুব ক্ষেপেছে। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সে তার স্ত্রী-সন্তানের আর খবর নেবে না। এদিকে হাসপাতালের এত খরচ কিভাবে আমি বহন করি!’ অবাক হয়ে বললাম, ‘তার মানে এবারো মেয়ে হয়েছে বলে আপনার জামাইবাবা ক্ষিপ্ত?’ মধ্য বয়সী মহিলা বললেন, ‘হ্যাঁ বাবা। তুমিই বলো, সন্তান ছেলে হবে কী মেয়ে হবে, এটা কেউ বলতে পারে! জামাইবাবার অভিযোগ, ছেলে না হলে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। মেয়েসন্তান বড় করে নাকি লাভ নেই!’
কোনো কথা না বলে চলে এলাম হাসপাতালের বারান্দায়। বাতাসে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দিলাম। এই কেবিনের মানুষগুলোর এই গল্প আমাকে ভাবিয়ে তুলল। মেয়েসন্তান বড় করে লাভ নেইÑ এই অন্ধ সমাজের অযৌক্তিক ধারণা থেকে এ দেশের কিছু কিছু মানুষ কবে যে মুক্তি পাবে, জানি না।
জোবায়ের রাজু
আমিশাপাড়া, নোয়াখালী


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik