film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Ezhel Şarkıları indirEzhel mp3 indir, Ezhel albüm şarkı indir mobilhttps://guncelmp3indir.com Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien webtekno bodrum villa kiralama
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অগ্রণী এক নারী দিলসাদ শম্পা

-

টু ফেস বিউটি জোনের স্বত্বাধিকারী দিলসাদ শম্পার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার স্বপ্ন ছিল ছোট বেলা থেকেই। তাই পড়াশুনার পাশাপাশি নিজেকে তৈরি করেছেন। এরপর এক সময় সত্যি সত্যিই হয়ে উঠেছেন উদ্যোক্ততা। তার এ পথ চলার কথা লিখেছেন
বদরুন নেসা নিপা

ছোটবেলা থেকে সাজগোজের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ ছিল। কেউ সাজতে চাইলে খুব আগ্রহ নিয়ে সাজাতে রাজি হয়ে যেতাম। ফ্যাশন ম্যাগাজিন পত্রিকায় মডেলদের ছবিগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতাম, তাদের সাজের ধরন, পোশাক, হেয়ার স্টইল। সুযোগ পেলেই ছোট বোনকে মডেল বানিয়ে হয়ে যেতাম মেকআপ আর্টিস্ট। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বের হওয়ার আগে সাময়িক বিরতির সময়টাতে বিউটিফিকেশন কারিগরি কোর্সটি করে ফেলি। সেই থেকে শুরু আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার। এরপর পড়াশোনার পাশাপাশি করে থাকি বিউটিফিকেশনের ওয়ার্কসপগুলো। সেই থেকে নিজের প্রতি আসে আত্মবিশ্বাস সাথে আগ্রহ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। একসময় সেই আগ্রহ পরিণত হয় নেশায়। দেশ বিদেশের বিভিন্ন নামকরা প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্কসপগুলো করেছি উদ্যম স্পৃহার সাথে। ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে করেছি বিউটিফিকেশন কোর্স। সম্পূর্ণভাবে তৈরি করেছি নিজেকে একজন বিউটিশিয়ান হিসেবে। নারীদের নিয়ে কিছু করার প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি থেকে আর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিউটি পার্লার বিজনেসের শুরু। এভাবেই নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার কথাগুলো বলেন দিলসাদ শম্পা, হাস্যোজ্জ্বল প্রাণবন্ত এবং তরুণ উদ্যোক্তা, রূপ বিশেষজ্ঞ, টু ফেস বিউটি জোনের স্বত্বাধিকারী। টু ফেস বিউটি জোন শুধু একটি বিউটি পার্লার নয় বরং আধুনিক সুযোগ সুবিধায় স্বয়ংসম্পূর্ণ বিশেষ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ছোট্ট একটি প্রচেষ্টা।
পুরান ঢাকার লালবাগে জন্ম ও বেড়ে ওঠা দিলসাদ শম্পার। শৈশব থেকেই ইচ্ছা ছিল এমন একটা কিছু করার, যার জন্য নিজ এলাকায় তথা পুরান ঢাকার উন্নতি এবং অগ্রগতির পাশাপাশি একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অবদান রেখে যাবেন এবং তার দেখাদেখি সমাজের আরো নারীরা যারা কুসংস্কার বা পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে অগ্রগতির দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল ও স্বাবলম্বী হতে পরে, নারী অগ্রযাত্রা যাতে উৎসাহিত হয় এবং নতুন নতুন উদ্যাক্তা তৈরি হয়, নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় সেই প্রয়াসও করে যাচ্ছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ইচ্ছা ও আকাক্সক্ষার সাথে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা সামর্থ্যরে কথা চিন্তা করে এই এলাকার নারীদের আন্তরিক সেবা দেয়ার চেষ্টাও করে যাচ্ছেন। নারীদের জন্য উন্নত ট্রেনিং সেন্টার, কারিগরি শিক্ষা ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা সম্মিলিত মেয়েদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করারও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে।
দিলসাদ শম্পার বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকার একটি সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত পরিবারে। বাবা প্রবীণ সাংবাদিক ও কবি আসলাম সানি। মা নুসরাত জাহান একজন উদ্যাক্তা (বুটিক হাউজের স্বত্বাধিকারী)। তিন বোনের মধ্যে দিলসাদ শম্পা দ্বিতীয়। বড় বোন রুম্পা একজন সফল ব্যাংকার এবং সংস্কৃতি কর্মী। ছোট বোন ঝুম্পা একজন নৃত্যশিল্পী। অত্যন্ত মিশুক আর প্রাণবন্ত উচ্ছল স্বভাবের মেয়ে শম্পা। ছোটবেলা থেকেই আত্মবিশ্বাসী আর স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতেন। বাবা-মা মেয়েদের নিয়ে তেমনিই স্বপ্ন দেখতেন। তাই ছোটবেলা থেকেই পরিবার থেকে পেয়েছেন নিজেদের চিন্তা, শখ, মেধা বিকাশের ও মতামত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা। সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা শম্পা নিজেও একজন আবৃত্তি ও সঙ্গীতশিল্পী। পাশাপাশি ভালো একজন উপস্থাপিকা ও বিতার্কিক। দৈনিক পত্রিকা, লাইফ স্টাইল, ম্যাগাজিনে এবং টিভির বিভিন্ন লাইফ স্টাইল শোগুলোতে তিনি রূপবিশেষজ্ঞ হিসেবে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। স্বামী জুয়েল চৌধুরী পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দুই সন্তানের জননী শম্পা বাবা-মায়ের স্বাধীন চিন্তচেতনায় নিজেকে আধুনিক নারী হিসেবে তৈরি করেছেন। বিয়ের পর পেয়েছেন তার কাজের প্রতি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন। শম্পা মনে করেন, আধুনিক নারী বলতে বুঝায় স্বয়ংসম্পূর্ণ একজন মানুষ। ঘরে বাইরে অর্থাৎ একই সাথে সংসার ও কর্মক্ষেত্রে রাখছেন তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর। পরিবার থেকে সহযোগিতা ও সমর্থন পেলে নারীদের পথ চলাটা আরো সহজ হয়ে যায়।
প্রতিটি নারীর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে শ্রম, মেধা, ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা ও কঠিন প্রচেষ্টা। জীবন যদি প্রতিযোগিতা ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে না কাটে তবে আত্মবিশ্বাসের অভাব তো হবেই। তাই চেষ্টা থাকতে হবে নানা রকম সৃজনশীল কাজের সাথে নিজেদের যুক্ত রাখা। প্রতি মুহূর্তে আমরা যা করি তা আসলে আমাদের নতুন করে শেখার একটি সুযোগ, আরো ভালোভাবে বেঁচে থাকার আরো একটি সম্ভাবনা। এটি জীবনের একটি চক্র হিসেবে মনে করতে হবে; তাহলে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সাহসের অভাব হবে না। মেধা, ধৈর্য, সততা, পরিশ্রম ও সঠিক সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত জীবনকে সাফল্য ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে।

 


আরো সংবাদ




short haircuts for women