১৪ অক্টোবর ২০১৯

পাগলিটা মা হলো

-

রাতের অন্ধকার কাটিয়ে ভোরের সূর্য যখন উঁকি দিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে মানসিক ভারসাম্যহীন মা খোলা আকাশের নিচে এক ফুটফুটে পুত্রসন্তান প্রসব করেছেন। মানিকগঞ্জের আরিচা ট্রাক টার্মিনাল অভ্যন্তরে বুধবার রাতে প্রসব বেদনায় কাতর এ পাগলির আর্তচিৎকারে এগিয়ে আসেন এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তিনি তাৎক্ষণিক কয়েক নারীকে ডেকে নিয়ে তাকে প্রসব করান। প্রসবের পরে নবজাতককে দত্তক নিতে স্থানীয় অনেকেই আগ্রহ দেখালেও দীর্ঘদিন যাবৎ এ অঞ্চলে থাকা প্রায় ২২ বছর বয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত এ মায়ের পরিচয় কেউ জানে না। সন্তান প্রসবের পর প্রশাসনের সহায়তায় পাগলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নবজাতকের পরিচর্যার জন্য রাখা হয়েছে ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাছে।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী জাহানারা বেগম জানান, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে বাজার-ঘাট ঝাড়– দিতে শেষ রাতে বের হই। ওই রাতে টার্মিনালে ঢুকতেই পাগলির কান্নার শব্দ শুনে এগিয়ে যাই। খোলা আকাশের নিচে সন্তান সম্ভাবনা পাগলি প্রসব বেদনায় কাঁদা মাটিতে গড়াগড়ি দিতে দেখে ধাত্রী মেহেরুনসহ পাশের বাড়ির দুই মহিলাকে ডেকে নেই। অনেক চেষ্টার পর পাগলি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে। সকালে উৎসুক লোকজন তা দেখতে ভিড় জমায়।
এমন খবরে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অসুস্থ পাগলিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও নবজাতকের পরিচর্যার জন্য আর্থিক সহায়তা করে একটি সুন্দর নাম দেন।
ফিরোজ মাহমুদ বলেন, রাতের অন্ধকার কাটিয়ে ভোরের সূর্য উঁকি দেয়ার সময় এ নবজাতকের জন্ম হওয়ায় তার নাম ‘সূর্য’ রাখা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে এ শিশুকে ঢাকায় ছোট্টমনি নবজাতক সেইফ-হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিকে ‘সূর্য’কে দত্তক নিতে আগ্রহ পোষণকারীদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অগ্রসর হওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যে নরপশু মানসিক ভারসাম্য এ যুবতীর এহেন অবস্থা করেছে তাকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum