২০ মে ২০১৯

কিশোরী লেখিকা আদিনা হাসান

-

'ঞৎধসঢ়ষবফ ঋষড়বিৎ ইঁফং.' অর্থাৎ পিষে ফেলা ফুলের কলি। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় ইংরেজি ভাষায় রচিত একটি কিশোর গল্পগ্রন্থ। যার রচয়িতা একজন কিশোরী। নাম আদিনা হাসান। মাত্র ১১ বছর বয়সে আদিনা গ্রন্থটি লিখতে শুরু করে। পুরো গ্রন্থটি শেষ করতে ছয় মাস লেগেছে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল বিষয় আর এত কম বয়সে এ বিষয় নিয়ে লেখার উৎসাহ ও প্রেরণাই বা কোথা থেকে পেল,এমন কথা জানতে চাইলে আদিনা বললÑ ‘আমি মূলত চিত্রশিল্পী অর্থাৎ খুদে আঁকিয়ে। বিভিন্ন আর্ট কম্পিটিশনে যুদ্ধের ছবি আঁকতে গিয়ে যুদ্ধের ওপর মা, নানু-নানা, দাদা এবং রুমা মিসের কাছ থেকে গল্প শুনতে শুনতে কখন যে মুক্তিযুদ্ধের ভেতর ঢুকে গিয়েছিলাম নিজেই, বুঝতে পারিনি। তারপর প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গল্প, আনাফ্রাঙ্কের ডায়েরি পড়েও আমার ভেতর কাজ করতে শুরু করলÑ আমিও আমার দেশের মানুষের এত বড় অর্জন, স্বাধীনতার গল্পগুলো পৃথিবীর ছোট্ট শিশুদের জানাব। আর তাই সেগুলো আমি ইংরেজি ভাষায় লিখতে শুরু করলাম। লিখতে লিখতে ছয় মাস পার হয়ে গেল। সেটি ২০১৫-২০১৬ সালের কথা, তখন আমি চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়ছি। পড়ালেখার অনেক চাপ। তাই স্কুলের পড়া শেষ করে গভীর রাতে আমি লিখতে বসতাম। আবার ভোরে স্কুল, কোচিংয়ে যাওয়া, সপ্তাহে এক দিন আর্ট ক্লাসে যাওয়াÑ সব মিলিয়ে খুবই ব্যস্ত জীবনযাপন। তারপরও আমি লিখে গেছি। আমি মূলত সায়েন্স ফিকশন লিখতে ভালোবাসি। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধ হচ্ছে আমার অহঙ্কার। আমার গর্ব। এই গর্বের ইতিহাস লিখতে আমার একটুও কষ্ট লাগেনি; বরং খুব ভালো লাগত।’ গ্রন্থটি প্রথম হাতে পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে বললÑ ‘সে যে কী আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের প্রশংসা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ভালো লেগেছেÑ শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক স্যারের প্রেরণা, যা আমাকে দ্বিতীয় রচনায় হাত দিতে উদ্বুদ্ধ করছে।’ আদিনা হাসান খুদে আঁকিয়ে, কিন্তু তার চিত্রকর্মগুলো অসাধারণ। আদিনার এক-একটা চিত্রকর্ম যেন এক একটা গল্প। তাকে যেকোনো বিষয় সম্পর্কে লিখতে বা আঁকতে বললেই সে তা খুব সুন্দর করে সৃষ্টি করে ফেলে। হোক সেটা কোনো পেইন্টিং বা রচনা। ইংলিশ বা বাংলা ভাষা ছাড়াও আদিনা চাইনিজ ভাষাও জানে। বনানীর রংধনু আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও শিক্ষক রুমা মিস আদিনা সম্পর্কে কথাগুলো বলছিলেন। যার হাত ধরে এই শিল্পের জগতে আসা, যিনি মাত্র সাত বছরের ছোট্ট আদিনাকে এই শিল্পের জগতে নিজেকে তৈরি করতে শিখিয়েছেন। তিনি আরো জানান, আদিনা হচ্ছেÑ এড়ফ এরভঃবফ, ওকে একবার একটু কিছু বুঝিয়ে দিলে তা আর দ্বিতীয়বার বলতে হয় না। ওর মেধা অসাধারণ।
২০১৫ সালের কথা প্রথম আলোর ‘গোল্লাছুট ও হরলিকস’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে হাজার হাজার ড্রইং ও গল্প জমা পড়ে। এর মধ্যে আদিনা লেখা ও আঁকায় পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করে। ব্যস হয়ে গেল সেই থেকে পথচলা, আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সরকারি-বেসরকারি জাতীয়-আন্তর্জাতিক নানান পুরস্কারে ওর ঘর ভরে গেল। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি সার্টিফিকেট ও পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সে। এই অনন্য সাধারণ মেয়েটি স্কুলের দেয়ালপত্রিকা, বিজ্ঞান প্রজেক্ট, যেমন খুশি তেমন সাজো ডিসপ্লেতে অংশ নিয়ে নিজের প্রতিভার অবদান রাখছে প্রতি বছর। লেখাপড়ায় অত্যন্ত মেধাবী এ মেয়েটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। নম্র-ভদ্র অমায়িক এই বালিকার মা নাজমুন নাহার ‘আন-নাজাহ’ ফ্যাশন হাউজের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর। বাবা কামরুল হাসান লিংকন এবি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট। বর্তমানে আদিনা হাসান মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী।

 


আরো সংবাদ