১৭ অক্টোবর ২০১৯
আমিও বলতে চাই

এই সব নির্যাতন

-

এই যে আলিশান বাড়ির লাখ টাকার নরম সোফায় বসে আছি, এই বাড়ির মালিকের স্ত্রী আল্পনা করিমের সাথে আমরা পরিচয় মূলত ফেসবুকে। দেখতে যথেষ্ট রূপসী হওয়ার পরও ভদ্রমহিলা ফেসবুকে সচরাচর ছবি দেন না। আজ প্রথম তাকে তার বাড়িতে দেখে প্রথমেই বললাম, ‘এত সুন্দর রূপখানা ফেসবুকে কখনো দেখি না কেনো?’ মিষ্টি হেসে বললেন, ‘হিহিহি। আচ্ছা এখন থেকে ছবি দেবো। তুমি এসেছ, খুব খুশি হয়েছি।’
আমার আগমনে তিনি যে খুশি, এটা এখানে এসেই বুঝতে পেরেছি। দুই বছর আগে আমাদের পরিচয় ফেসবুকের ভার্চুয়াল জগতে। শুরু থেকেই তিনি খুব আন্তরিকভাবে আমার সাথে মিশেছেন। প্রায়ই তার বাড়িতে চায়ের আহ্বান করতেন। আসি আসি করেও আসা হয়নি। অবশেষে আজ এসেই গেলাম এবং তার সাথে এই ক্ষণিক আলাপনে বুঝলাম আল্পনা করিম একজন নারী হিসেবে খুবই অসাধারণ। এই অসাধারণ নারীকে আমার সাধারণ দু’টি চোখ খুবই শ্রদ্ধার সাথে দেখে।
পড়ন্ত বিকালের এই বেলায় আল্পনা করিমের বাসার টি টেবিলে আমার সামনে অভিজাত সব নাশতার সমারোহ। ধনীদের জীবনটাই বোধহয় এমন। আমরা মুখরিত হলাম নানা গল্পে। নানা বিষয় উঠে আসছে সেসব গল্পে। গল্পের একপর্যায়ে আল্পনা করিমের ছোট্ট মেয়ে শ্রেয়া ড্রয়িংরুমে দৌড়ে এসে ওর আম্মুর কোলে বসল। শ্রেয়ার দৌড়ে আসার সময়ে ডান হাতের ধাক্কা লেগে টি টেবিলের উপরে রাখা দামি ফুলদানিটি মেঝেতে পড়ে কয়েক টুকর হয়ে গেল। আল্পনা করিম মেয়েকে আদুরে গলায় বললেন, ‘ইশ আম্মু, তুমি এই দামি জিনিসটি ভেঙে ফেললে? এর দাম কত, জানো! তিন হাজার টাকা।’ মনে মনে বলি, ‘এই ছোট্ট ফুলদানির দাম তিন হাজার টাকা। অথচ এক হাজার টাকার অভাবে আমার ছোট বোন মিম প্রাইভেট পড়তে পারছে না।’
আমাদের কথা বলার লগ্ন বেশ জমে উঠেছে। ততক্ষণে নাশতা অর্ধেক সাবাড়। মিনিট দশেক পর দুই কাপ কফি নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হলো মিতা, আল্পনা করিমের কাজের মেয়ে। বয়স বিশ পেরিয়ে। কংকালসার দেহ দেখে বোঝা যায় শরীরে পুষ্টির খুব অভাব।
পুষ্টির অভাবে মিতা এতটাই ভেঙে পড়েছে যে, তার হাতের কফির কাপ ব্যাপক কাঁপছে এবং একপর্যায়ে হাত কাঁপতে কাঁপতে ডান হাতের কফির কাপটি মেঝেতে পড়ে ঝনঝন করে ভেঙে গেল।
কাজের মেয়ে কাপ ভেঙেছে, এই অপরাধে আল্পনা করিম তেড়ে গিয়ে মিতাকে তীব্র গলায় বললেন, ‘তোর এতবড় স্পর্ধা, তুই কাপ ভেঙেছিস?’ বলেই আল্পনা করিম ঠাস ঠাস করে মিতার গালে কষে কয়েকটি চড় বসিয়ে দিলেন। মিতা কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। এই মেয়ে এখানে কতটা অসহায়, তা তার কান্না শুনে বুঝতে পারলাম।
২.
আল্পনা করিমের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যার আবছায়া গায়ে মেখে বাড়ি ফিরছি। মিতার কান্না আমার কানে বাজছে। সামান্য একটা কাপ ভাঙার অপরাধে মেয়েটাকে কী নাজেহাল না হতে হয়েছে। যেখানে কয়েক হাজার টাকা দামের ফুলদানি ভেঙে শ্রেয়া কোনো অপরাধ করেনি, সেখানে সামান্য একটা কাপ ভাঙার অপরাধে মিতাকে কতগুলি চড়...। এটাই হচ্ছে ব্যবধান। ধনীর দুলালী আর কাজের মেয়েদের অদ্ভুত এক চিরন্তন ব্যবধান। বাংলাদেশে এই ব্যবধান খুব চোখে পড়ে। মিতারা গরিব বলে বেঁচে থাকার দায়ে আল্পনা করিমদের মতো ধনীর বাড়ির কাজের মেয়ে হতে এসে কী পরিমাণ নির্যাতিত হয়, তা আমি ভালোই জানি। প্রায়ই পত্রিকায় পড়ি গৃহপরিচারিকাদের নির্মম সব কাহিনী। মিতাদের মতো এই সমাজে অনেক কাজের মেয়ে, গৃহবধূ নির্যাতনের শিকার। সামান্য ছুঁতো পেলেই অনেক গৃহবধূ তাদের ওপর অমানবিক অত্যাচার চালায়। এসব থেকে ওরা কবে যে মুক্তি পাবে!
জোবায়ের রাজু
আমিশাপাড়া, নোয়াখালী।

 


আরো সংবাদ

ট্রাম্পের 'অতুলনীয় জ্ঞানের' সিদ্ধান্তে বদলে গেল সিরিয়া যুদ্ধের চিত্র (৩২১৮৮)ভারতের সাথে তোষামোদির সম্পর্ক চাচ্ছে না বিএনপি (১৮৪৫৫)মেডিকেলে চান্স পেলো রাজমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া সুলতানা (১৪৯৪৬)তুরস্ককে নিজ ভূখণ্ডের জন্য লড়াই করতে দিন : ট্রাম্প (১৪৭০৩)আবরারকে টর্চার সেলে ডেকে নিয়েছিল নাজমুস সাদাত : নির্যাতনের ভয়ঙ্কর বর্ণনা (১৩৮১৫)পাকিস্তানকে পানি দেব না : মোদি (১১২৭৪)১১৭ দেশের মধ্যে ১০২ : ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে ভারত (৮৯৭০)তুহিনকে বাবার কোলে পরিবারের সদস্যরা হত্যা করেছে : পুলিশ (৮৮৮৫)বাঁচার লড়াই করছে ভারতে জীবন্ত কবর দেয়া মেয়ে শিশুটি (৮৬৮৭)এক ভাই মেডিকেলে আরেক ভাই ঢাবিতে (৮৫২৩)



astropay bozdurmak istiyorum
portugal golden visa