২০ আগস্ট ২০১৯

লিমার চোখে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন

-


গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণকলস গ্রামের ইউসুফ হাওলাদারের মেয়ে লিমা জন্ম থেকেই হাঁটতে পারে না। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে লিমা সবার ছোট। মা মাজেদা বেগম ও মেজো বোন সাবিনাকে সাথী করে নিজেকে একটু একটু করে গড়ে তুলছে লিমা। লিমা সবার সহযোগিতায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে এখন খারিজ্জমা কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। কিন্তু নিয়মিত কলেজে যেতে পারে না। আর্থিক অসচ্ছল হওয়ায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতো। এরপরও সবার সহযোগিতায় লেখাপড়া কোনোরকমে চালিয়ে যেতে থাকে লিমা।
এ সংবাদ জানতে পেয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ আখতার মোর্শেদ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে লিমাকে একটি হুইল চেয়ার দেন। পাশাপাশি একই থানার সেকেন্ড অফিসার নজরুল ইসলাম লিমাকে নগদ অর্থ ও এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ এবং থাকা-খাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো: হাফিজুর রহমান, খারিজ্জমা কলেজের অধ্যক্ষ আফরোজা বেগম, প্রভাষক (গণিত) হুমায়ুন কবির, সাংবাদিক সাকিব হাসান ও লিমার মেজো বোন সাবিনা ইয়াসমিন প্রমুখ।
হুইল চেয়ার হস্তান্তরের সময় গলাচিপা থানার ওসি আখতার মোর্শেদ বলেন, ‘আমি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে লিমার দুরবস্থার কথা জানতে পেরেছি। সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, সবাই যেন পিছিয়ে থাকা প্রতিবন্ধীদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।’
হুইল চেয়ারটি পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলে লিমা জানায়, ‘আমি কী বলব বুঝতে পারছি না। আমি উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন শিক্ষক হতে চাই। পাশপাশি আমার মতো প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চাই। হয়তো এ সহায়তা না পেলে আমাকে আরো কষ্ট করতে হতো। আমি মন থেকে দোয়া করি, সবাই যেন এভাবেই আমাদের মতো অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে সবসময় থাকেন।’ জন্মের পর থেকে যে মেয়েটি দু’পায়ে হাঁটতে পারেনি, সে এখন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শিক্ষকতা করে অসহায়দের পাশে থাকতে চায়।
গলাচিপা, পটুয়াখালী


আরো সংবাদ

bedava internet