২০ মে ২০১৯
আ মি ও ব ল তে চা ই

আমাদের বিপরীতমুখী ভাবনাগুলো!

-

ভাবনা-১
আমরা চাই আমাদের মেয়েকে কোনো এক রাজ কুমার এসে বিয়ে করে নিয়ে যাবে। তারপর সোনার পালঙ্কে আর রূপার পালঙ্কে রেখে সারা জীবন খেয়াল রাখবে। আমাদের নিজের মেয়ে যেন শ্বশুর বাড়িতে বেশি বেশি কাজ করতে না হয় সে জন্য আমরা খুব উদ্বিগ্ন থাকি। আমরা চাই আমাদের মেয়ে স্বামীর বাড়িতে খুব ভালো থাকুক। আরাম-আয়েশ আর যতেœ থাকুক! শ্বশুর-শাশুড়ির আদর-যতেœ সবসময় কাটুক। ননদ- দেবর খুব সম্মান করুক। আমরা চাই আমাদের মেয়ে ঘন ঘন বাপের বাড়ি বেড়াতে আসুক। আর বেড়াতে এলে যেন দীর্ঘ দিন থাকতে পারে সে কামনা করি।
আমরা চাই আমাদের মেয়ের জামাই আমাদের মনমতো চলুক! আমাদের সাথে বেশি আপন হয়ে উঠুক। আমাদের মেয়ের মন রক্ষা করে চলুক। নিজের পরিবারের অন্য সদস্যদের কথা ভাবুক আর না ভাবুক আমার মেয়ের কথা ভাবলেই হবে।
আমরা এমনও কামনা করি আমাদের মেয়ের ঘরের নাতি-পুতিরাও যেন আমাদের মনমতো হয়।
ভাবনা-২
আমাদের ছেলে আমাদের পছন্দমতো খুব কাজের একটা মেয়ে বিয়ে করে আনুক। যে কিনা সারা জীবন আমাদের সেবা আর সংসারের সব কাজ আগলে রাখবে। শুধুই আমাদের কথা ভাববে। এখন থেকে শ্বশুর বাড়িই হবে যার স্থায়ী ঠিকানা! সারাক্ষণ শ্বশুর-শাশুড়ির মন রক্ষা করে চলবে। ননদ-দেবর খারাপ আচরণ করলেও যে কিনা কিছু মনে করবে না। আমরা এটা চাই না যে, আমার ঘরে থাকা ছেলের বউটা ঘন ঘন বেড়াতে যাক। কিংবা বেড়াতে গেলেও বেশি দিন না থাকুক! কারণ তখন ঘরের কাজকর্ম সামলানোর চিন্তা পেয়ে বসবে আমাদের।
আমাদের ছেলেরা যেন শ্বশুরগোষ্ঠীর সাথে বেশি আপন হতে না পারে সে বিষয়ে আমরা সজাগ থাকি। আমাদের ছেলের ঘরের নাতি-পুতিরা যেন আমাদের মনমতো হয় সর্বদা এটাই কামনা করি।
আমরা চাই নিজের মেয়েটা খুব ভালো থাকুক। কিন্তু এটা চাই না যে, ‘দুনিয়ার সব মেয়েই ভালো থাকুক’।


আরো সংবাদ