১৬ জুলাই ২০১৯

বিশেষজ্ঞ মতামত

-

ডা: মাহামুদ হাসান বলেন, এ ধরনের ড্রাগ অ্যাডিক্টেড রোগীদের অতি দ্রুত যেকোনো ভালো রিহ্যাব সেন্টারে অর্থাৎ মাদকাসক্তিবিষয়ক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করে সুন্দর জীবন ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। আর এই চিকিৎসা সময়সাপেক্ষ। এ সময় রোগীকে সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিতে পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধু সবার সহযোগিতা অবশ্যই প্রয়োজন। শিশু জন্মানোর আগেই তার পিতামাতাকে তৈরি থাকতে হবে, এই শিশুর সুন্দর জীবন দান করার জন্য তারা কতটা তৈরি। অর্থাৎ শিশুটির যাবতীয় দায়িত্ব, কর্তব্য, আনন্দ, বিনোদন, সহযোগিতা-সহমর্মিতাসহ তারা তাকে কতটা সুযোগ সুবিধা দিতে পারবে। তারপর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতা, হৃদ্যতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সন্তানের জন্য পজেটিভ। যে সংসারে পিতামাতা ও সন্তানের মধ্যে সম্পর্ক হয় সুন্দর-সাবলীল, সে সন্তান সাধারণ বিপথগামী হয় না। সন্তান যে প্রতিষ্ঠানে পড়ছে সে স্কুল-কলেজের পরিবেশ, সন্তান যাদের সাথে মিশছে তাদের খোঁজখবর নেয়া, সন্তানের বন্ধুদের সাথে এবং তাদের পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলাও জরুরি। এতে সন্তানের ভুলত্রুটি অবজারভ করা সহজ হয়। সন্তান কোথায়, কখন কী করছে সেগুলো সুকৌশলে খোঁজখবর নেয়া যায়। তবে এসব ব্যাপার বিশেষ করে ১২ থেকে ২০ বছরের সন্তানের জন্য প্রযোজ্য। কারণ, এ বয়সই একটি শিশুর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বয়ঃসন্ধিকাল। এ সময় পার হওয়ার পর ছেলেমেয়েরা নিজের ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা অর্জন করে এবং তার বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।
যারা ড্রাগ অ্যাডিক্টেড হয়েছে, তাদের যেকোনো রিহ্যাব সেন্টারে নিরাময়ের জন্য প্রয়োজনে পরামর্শ ও ভর্তি করা জরুরি, যাতে ধীরে ধীরে সে এ জীবন থেকে ফিরে আসে। তারপর বাসায় ফিরে যাওয়ার পর যথাসম্ভব পরিবারের সবার স্বাভাবিক আচরণ করা উচিত, যাতে সে বুঝতে পারে, কত বড় ভুলপথে সে ছিল। আজকাল ছেলেদের তুলনায় মেয়েরাও কম ড্রাগ নিচ্ছে না। মেয়েদের ব্যাপারগুলো লুকানো অবস্থায় থাকে লোকলজ্জার ভয়ে। মানুষ মনে করে, মেয়েরা পরের বাড়ি যাবে, তাদের ব্যাপারগুলো কেউ জানলে মেয়েটির আর ভালো বিয়ে হবে না। অথচ একজন ড্রাগ অ্যাডিক্টেড মেয়েকে বিয়ে দিলে সে যে সংসারে বেশি দিন টিকবে না, এটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

 


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi