২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নারী নির্যাতন চলছেই

-


বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ঘটছে নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা। সন্ত্রাসী কর্তৃক এসব নির্যাতনের শিকার হলেও এর কোনো সুবিচার পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা। সম্প্রতি সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলার শিকার হয়ে গুরুতর মাথায় ও বুকে আঘাত পায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার মেধাবী ছাত্রী সাবিকুন নাহার (২২)। গরিব মেধাবী ছাত্রী সমাজের বিত্তবানদের দেয়া আর্থিক সহায়তায় চিকিৎসা করালেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। তবে এ ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের শাস্তি দেয়া এখনো সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, সাবিকুন নাহার গলাচিপা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামলীবাগ এলাকার বাসিন্দা কাঠশ্রমিক জালাল মৃধার মেয়ে। তিনি পটুয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বিবিএস (অনার্স) হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। গত ১১ জুলাই বুধবার বাসার সামনে গাছের পেয়ারা ছেঁড়ে একই এলাকার বেল্লালের নেতৃত্বে চার-পাঁচজন বখাটে। এতে সাবিকুন নাহার নিষেধ করায় বাগি¦তণ্ডার একপর্যায়ে বেল্লালের নেতৃত্বে বখাটেরা তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড আঘাত করে। এতে ছাত্রী সাবিকুন নাহার অচেতন হয়ে গেলে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ২৬ ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরলেও বাকরুদ্ধ ও বিছানায় শয্যাশায়ী। বাবা জালাল মৃধা টাকার অভাবে সম্পূর্ণ চিকিৎসা না করিয়ে বরিশাল থেকে গলাচিপার নিজ বাসায় নিয়ে আসেন। সাবেকুন নাহারের এই সঙ্কটাপন্ন অবস্থা স্থানীয় সংবাদকর্মীর মাধ্যমে জানতে পেরে তার বাসায় যান। পরে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে সোমবার সকালে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌছিফ আহমেদ, অধ্যক্ষ ফোরকান কবির, অধ্যক্ষ মো: শাহজাহান মিয়া, সাংবাদিক জাকির হোসাইন, হারুন-অর রশিদ, সাকিব হাসান, শিক্ষক শাওন পালসহ আরো অনেকে গিয়ে দেখা করেন এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ঢাকা আগারগাঁওয়ে নিউরোলজি হাসপাতালে রেফার করেন। পরে ইউএনওসহ আরো অনেকের সহযোগিতায় চিকিৎসা করাতে ঢাকায় আসেন। চিকিৎসা করানোর পর সাবিকুন নাহার শারীরিকভাবে মোটামুটি সুস্থ হলেও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
সাবিকুনের মা রাশিদা বেগম বাদি হয়ে সন্ত্রাসী বেল্লালসহ চার-পাঁচজনকে আসামি করে গলাচিপা থানায় মামলা করেন। তিনি সন্ত্রাসীদের শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যাপারে জোর দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশে নারী নির্যাতন কি কখনো বন্ধ হবে না? তাদের নিরাপত্তা আদৌ নিশ্চিত করা যাবে কি না এই প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।

 


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme