১৯ নভেম্বর ২০১৮

আ মি ও ব ল তে চা ই

-

উপঢৌকনের যাতনায়!
আলী আশরাফ। বয়স প্রায় ৬০ পেরিয়ে। একজন হতদরিদ্র কৃষক। আমার কাছে এসে খুব বিষণœতার সাথে টাকা ধার চাইলেন। তিনি আমার পূর্বপরিচিত ছিলেন। আমি তার বিষণœতার কারণ জানতে চাইলাম। জানালেন, আজ তার মাসিক কিস্তি পরিশোধের তারিখ। একজন থেকে ধারদেনা করেছেন। আমি ধারদেনার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানালেন, ‘মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে রমজান মাসে সেমাই, চিনি, ইফতারি আর ঈদের কাপড় দেয়া বাবদ তিনি ঋণ করতে বাধ্য হয়েছেন। আমি বললাম, ‘সামর্থ্য না থাকলে ঋণ করে দেয়ার কি দরকার ছিল?’ তিনি উত্তরে জানালেন, ‘না দিলে মেয়ের মুখ ছোট হতো। খোটা শুনতে হতো। ফলের সিজনে ফল কম দেয়ায় মেয়েকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে!’
ওপরের চিত্রটি এ দেশের লাখ লাখ চিত্র থেকে মাত্র একটি চিত্র। আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থায় যৌতুক ছাড়াও বিয়ের পরে মেয়ের মা-বাবাকে নিয়মিত কর পরিশোধ করতে হয়! যেমন আসবাবপত্র, বছর বছর ফলের সিজনে ফল পাঠানো, ঈদের সময় সেমাই, চিনি, থেকে শুরু করে কাপড়-চোপড় প্রভৃতি। কোরবানির ঈদে কেউ কেউ আবার গরু, ছাগল দিতেও বাধ্য হন!
অথচ উপঢৌকনের নামে এসবও কি যৌতুকের মধ্যে পড়ে না? আর শুধু নারীর বেলায় এমন প্রচলন কেন? নারীরা কি ফেলনা কিছু? উপঢৌকনের নামে এসব যাতনায় আজ মেয়ের মা-বাবারা অস্থির প্রায়। আর আমার মনে হচ্ছেÑ এসব জিনিস পেতে মরিয়া মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চুলজ্জা মাটির তলায় গিয়ে ঠেকেছে। স্বাভাবিকভাবে অন্য মানুষের থেকে কিছু নিয়ে ভোগ-বিলাসিতা করতে গিয়ে মানুষের লজ্জা হওয়ার কথা ছিল। অথচ মেয়ের পরিবারকে প্রায়ই শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের তুষ্ট রাখতে হয়। এসব রীতি ভূতের মতো আমাদের মনে স্থায়ী আসনে বসে আছে। এ রীতি খণ্ডাতে হবে। আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। মেয়ের মা-বাবাকে আর স্বজনদের এসব উপঢৌকনের যাতনা থেকে মুক্তি দিতে হবে।

কাজী সুলতানুল আরেফিন
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী

 


আরো সংবাদ