২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সব পেশাতেই আজকের নারীরা

-

বিমানের পাইলট থেকে ডাক্তার, ব্যাংক থেকে করপোরেট জগৎ, প্রকৌশলী থেকে জাহাজের নাবিক, বিজ্ঞানী, শিল্প সংস্কৃতি এমনকি পুলিশ, সামরিক বাহিনী, সাংবাদিকতা, সমাজসেবা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, শিক্ষকতা এমনকি রাজনীতিতেও আজ নারীদের উদ্যম পদচারণা। আজকের নারীরা সব পেশায়ই যোগ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রেখে চলেছেন।
বিভিন্ন পেশায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নারী এখন কৃতিত্বের সাথে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে। পরিবার সামলানোর পাশাপাশি দেশ সেবার এ মহান পেশা বেছে নিচ্ছেন তারা। সফলতার সাথে পালন করছেন চ্যালেঞ্জিং এ পেশা। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে নারীরা প্রথম পুলিশ হিসেবে নিয়োগ পান। সে সময় সাদা পোশাকে ১৪ জন নারী স্পেশাল ব্রাঞ্চে কাজ করতেন। এরপর ১৯৭৬ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে নিয়োগ পান নারীরা। বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে মহিলা পুলিশ সদস্য আছে শতকরা পাঁচ ভাগেরও বেশি। যারা অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে পুলিশ বাহিনীতে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।
সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কোরে নারী অফিসার থাকলেও ছিল না নারী সৈনিক। ২০১৫ সালে প্রথম দিকে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারী সৈনিক যুক্ত হয়। এটি নারী অগ্রযাত্রায় একটি মাইলফলক। তা ছাড়াও ২০১৫ সালে বাংলাদেশের নারীরা বাণিজ্যিক জাহাজে নাবিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ২০১৪ সালে প্রথমবার যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশে উড়েছিলেন দু’জন নারী। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পেশায় গত এক দশকে বাংলাদেশে নারীরা উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রসর হয়েছেন। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কোরে নারী অফিসার, নারী সৈনিক, বিমান বাহিনীতে নারী বৈমানিক এমনকি বাংলাদেশের নারীরা বাণিজ্যিক জাহাজে নাবিক হিসেবে কাজ করছেন। সামরিক বাহিনীতে নারীদের এ অংশগ্রহণ দেশকে যেমন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তেমনি পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত করছে। জাতিসঙ্ঘ শান্তিমিশনগুলোতে নারীরা অংশ নিচ্ছেন। সাংবাদিকতা পেশা যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু এ পেশায়ও নারীর সরব উপস্থিতি দেখা যায়। সংবাদ উপস্থাপনা থেকে রিপোর্টিং, সম্পাদক, ক্যামেরাপারসন, ফটোগ্রাফার সবখানেই নারীরা যোগ্যতা আর মেধা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বিপুল মেয়ে সাংবাদিকতায় আসছে, যা নারীর জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। শুধু শখের বশেই নয়; পেশা হিসেবে নারীরা বিমানের পাইলট, ট্রেনের চালক এমনকি জীবিকা অর্জনের জন্য গাড়ি চালানোকে এখন পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। বর্তমানে অনেক নারীই ব্যক্তিগত বা অফিসিয়াল গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করছেন।
বাংলাদেশের নারীদের এই অগ্রগতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে সমাজের সব অংশে নারীর ক্ষমতায়নের এই চিত্র বিশ্বের জন্য রোল মডেল হয়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। যদি নারী এগিয়ে যায় তবেই এগিয়ে যাবে সমাজ। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তিনি অনেক খুশি হতেন তার সুলতানার স্বপ্ন এবার পূরণ হতে দেখে।

 

 


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme