১৭ নভেম্বর ২০১৮

এ সমস্যা সারা বিশ্বের জন্য হুমকি : ইয়ানিনা জারুজেলস্কি

ভিন দেশ
-

ইয়ানিনা জারুজেলস্কি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা বা ইউএসএআইডির বিদায়ী পরিচালক। বিশ্ব সমাজ তথা নারীদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানোই যেন তার প্রধান কাজ। সম্প্রতি ইয়ানিনা জারুজেলস্কি বাংলাদেশও এসেছিলেন। তিনি রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখেন। তা দেখে তিনি খুবই দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা খুবই জরুরি।
মাতৃকালীন পরিবার পরিকল্পনা, শিশুস্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করতে তিনি খুবই পছন্দ করেন। এসব ছাড়াও বন্যাকালীন নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ঝুঁকি নিরসন, শ্রমদক্ষতা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে সেবামূলক কাজও প্রচুর করেন। ক্যারিয়ার মিনিস্টার পদে উচ্চতর কর্মকর্তা হিসেবে ইউএসএআইডি নামে প্রতিষ্ঠানে ওয়াশিংটন ডিসি ও এর বাইরের কিছু দেশে কাজ করে যাচ্ছেন ১৯৯৫ থেকে। জারুজেলস্কি বাংলাদেশেও মিশন ডাইরেক্টর ছিলেন জানুয়ারি ২০১৪ থেকে। এ ক্ষেত্রে এশিয়ান ব্যুরোতে মোটামুটি ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট নিয়ে আমেরিকা, বাংলাদেশ ও তৃতীয় বিশ্বের প্রায় ১৫০ জন কর্মী নিয়ে সবচেয়ে বৃহৎ মিশন পরিচালনা করেন। উল্লিখিত সেবাগুলো তিনি এর মাধ্যমেই সমাধান করেন।
বাংলাদেশে যোগদানের আগে বলিভিয়াতে মিশন ডাইরেক্টর ছিলেন জারুজেলস্কি। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ইউএসএআইডি মিশনে একই পদে ইউক্রেন, মলডোভা ও বেলরাজে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কর্মসূচিতে উল্লিখিত দেশগুলোতে তিনি গণতন্ত্র, প্রশাসন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শক্ত বুনিয়াদ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এইচআইভি বা এইডস এবং মানব পাচারবিরোধী কর্মসূচি দক্ষতার সাথে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেন। ‘মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কোঅপারেশনস বা এমসিসি, ‘থ্রেসহোল্ড’ নামে প্রতিষ্ঠানে ইউক্রেন ও মলডোভায় দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে এমসিসির পক্ষে ইউএসএআইডির সব ব্যবস্থাপনার কাজ করেন।
কাইভে মিশন ডাইরেক্টর হিসেবে কাজ করার আগে তিনি এইএসএআইডি রাশিয়াতে ডেপুটি মিশন ডাইরেক্টর এবং রিজিওনাল লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন সফলতার সাথে। অধিকন্তু মিসর ও ইয়েমেনে অবস্থিত ইউরোপ ও ইউরেশীয় ব্যুরোর রিজিওনাল লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ছিলেন।
ইউএসএআডিতে যোগদানের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্ব সভায় উপদেষ্টা বা হাউজ অব রিপ্রেজন্টেটিভস ছিলেন। পাশাপাশি এনার্জি ও কমার্স কমিটিতেও পালন করেন একই দায়িত্ব। জারুজেলস্কি আরো কাজ করেন কলাম্বিয়া সার্ভিস ও ম্যাকমিলান পাবলিশিক কোম্পানিতে কোর্ট অব আপিল (আইনজীবী) হিসেবে।
১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনে বোর্ড অব গভর্নর ছিলেন। তার এ-সংক্রান্ত কাজে ব্যাপক সফলতা আসায় ইউএসএআইডি কর্তৃক তাকে বিশেষ সম্মাননা পদক, তিনটি সুপিরিয়র অনার পদক, মেরিটরিয়াস অনার পদক ও দলীয় পদক গ্রুপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট রিজিওনাল মিশনে ইউএস এজেন্সির পরিচালক হিসেবে ইউক্রেন, বেলারুশ ও মলডোবায় দায়িত্বে ছিলেন। পরে দিনিপরোপেট্টোভসক অব লাইটস ভ্রমণ করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল শক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত বিষয়ে আলোকপাত করা; যা ছিল ইউএসএআইডি পার্টনারশিপ ফর কিনার এনার্জি প্রজেক্টের অংশ। ইনারগোপ্রম ২০১২ অল ইউক্রেনিয়ান এক্সিবিশনের উদ্বোধনীতেও অংশ নেন। যার উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক শক্তি বাড়ানোর কারিগরি দিক উন্নয়ন করা এবং স্থানীয় ব্যবস্থা, অন্যান্য শক্তি ব্যবহারকারী ও কারিগরি উৎপাদনকারী সবার সাথে সমন্বয় সাধন করা।
ইয়ানিনা জারুজেলস্কি বাংলাদেশের কক্সবাজারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্যও কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এখানে এসে তাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট এমনভাবে মোকাবেলা করতে হবে যাতে করে এর কাজগুলো উন্নয়নের মৌলিক চাহিদাগুলো থেকে সটকে না যায়। এ জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আর এ জন্য বরাদ্দ করতে হবে আলাদা পর্যাপ্ত বাজেট।
ইয়ানিনা জারুজেলস্কি বলেন, আমি কাজ করেছি দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ আরো অনেক স্থানে। এ সংক্রান্ত নানা সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন বুদ্ধি ও ধৈর্য। এ জন্য রোহিঙ্গাদের সহায়তা দানের জন্য প্রদান করা হয়েছে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার। কেননা, এই চাপ বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও। এ জন্য সমস্যা পীড়িতদের জন্য বিশেষ প্রয়োজন বাড়তি সহায়তা। আর এখন গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
রোহিঙ্গাদের চরম দুঃখ-দুর্দশা স্বচক্ষে দেখে তিনি বলেন, এ সমস্যার মূলই হচ্ছে মিয়ানমার। সমাধানও ওই দেশের সরকারের মাধ্যমে হওয়া জরুরি। তিনি আরো বলেন, এ সমস্যা কেবলই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য হুমকি নয়, বরং তা সারা বিশ্বের জন্যও হুমকি।

 


আরো সংবাদ