২১ নভেম্বর ২০১৮

দুইডা পয়সার লাইগ্যা হারাদিন খাডি

পাখা বিক্রি করে সংসার চালান দিবা রানী -

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী বাজারে হেঁটে হেঁটে তালের পাখা বিক্রি করে নিজের সংসার চালান বিধবা দিবা রানী। তাকে সবাই এক নামেই চেনে তালের পাখার কারিগর হিসেবে। তার এই হাঁক-ডাক মির্জাগঞ্জ উপজেলা শহরের অনেকের কাছে পরিচিত। তিনি নিজে পাখা তৈরি করে প্রতিদিন উপজেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করেন। দোকানে দোকানে নিয়ে পাইকারি বিক্রি করেন। সারা দিনের পাখা বিক্রির আয় দিয়ে চলে তার সংসার। বিক্রি করতে না পারলে উনুনে আগুন জ্বলবে না। দিবা রানীকে দেখে বোঝা যায় না তার বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছে। কান্ত-শ্রান্ত শরীরটা নিয়ে কোনো রকমে সচল রেখেছেন সংসারের চাকা। অপ্রতুল খাবার, কঠোর পরিশ্রমে শরীরটা যেন হাড্ডিসার হয়ে পড়েছে। পাখা কেনার সময় কথা হয় দিবা রানীর সাথে। একটি চাপা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, কষ্টের মধ্যেই এ জীবনটা পার করেছি। সতিনের সংসারে এসে যা হয় তাই হয়েছে। পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম দিবা রানীর।
পনের বছর পার হতে না হতেই একই গ্রামের দিনমজুর সুরেন দেবনাথের সাথে বিয়ে হয় তার। কিন্তু সুরেন দেবনাথের আরো এক স্ত্রী ছিল। সতীনের সংসারে এসে বহু কষ্টে দিন কাটত দিবা রানীর। তার সতীনের ঘরে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে এবং তার নিজের ঘরে রয়েছে দুই মেয়ে। তার স্বামী সুরেন দেবনাথ মারা যাওয়ার আগে বড় স্ত্রীর দুই ছেলের নামে তার যেটুকু সম্পত্তি ছিল তা দলিল করে দিয়ে যান। সতিনের ছেলেরা তার বাবার মৃত্যুর সময় বলেছিল যে, তারা সৎ বোন ও মাকে দেখাশোনা করবে। কিন্তু কিছু দিন যাওয়ার পর আর তাদের ভরণ-পোষণ দেন না। এ কারণে গত ১৫ বছর ধরে দিবা রানী পাখা বিক্রি ও গ্রামে গ্রামে আইসক্রিম বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এক দিন কাজ করলে দুই দিন বিশ্রামে থাকতে হয়। দিন দিন যেমন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে সে রকম তো আমার পাখার দাম বাড়ছে না। নিজের পেটের কথা চিন্তা করে অন্যের তালগাছের পাতা চেয়ে এনে পাখা তৈরি করে উপজেলা শহরে বিক্রি করি। বিভিন্ন এলাকার বাসা বাড়িতে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করি ‘দুইডা পয়সার লাইগ্যা হারাদিন খাডি’। এতে প্রতিদিন যা আয় হয় সে টাকা দিয়ে চলে দিবা রানীর সংসার।


আরো সংবাদ