২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নিরাপদ মাতৃত্ব

-

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং অধিকার। চিকিৎসা মানুষের চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম। সরকারের স্বাস্থ্য খাতে প্রতি বছর অর্থ বরাদ্দ থাকলেও মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে এখনো প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।
বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলগুলোতে। সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর দূরত্ব থাকে অনেকখানি। সংখ্যায় কম এমনকি রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই অনেক ক্ষেত্রেই। ডাক্তারের স্বল্পতা, বিনামূল্যে ওষুধ না পাওয়া এসবই গ্রামে স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে এবং জীবন নিয়ে মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয় সন্তান সম্ভবা গর্ভবতী নারীরা। এমনিতেই নাজুক প্রকৃতির গ্রামাঞ্চলের মহিলারা সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল কবিরাজের চিকিৎসায়। এতে তারা স্বস্তিবোধ করে। কারণ কবিরাজি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যেতে হয় না। পুরুষ ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাতেও আপত্তি থাকে গ্রামাঞ্চলের নারীদের। তাই প্রসবকালীন সময় গ্রামের অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীর ওপর নির্ভরশীল থাকে তারা। বিভিন্ন সংস্থার জরিপ থেকে জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলের হাজার হাজার মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত। গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার আর কবিরাজের পানি পড়া, তেল মালিশের ফলে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রকম জটিল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে শিশু ও মহিলারা। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো সুযোগ সুবিধা না থাকায় বেশির ভাগ সময় তাদের জীবন থাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। বেপর্দা হওয়ার ভয়ে অসুস্থ হলেও নারীদের সহজে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসেন না পরিবারপ্রধান পুরুষেরা। তারপর আছে গ্রামের নারীদের মধ্যে কুসংস্কার বিশ্বাস করার প্রবণতা। এসব নানা কারণ মিলেই গ্রামাঞ্চলের নারীরা থাকে নিরাপদ মাতৃত্ব বঞ্চিত। প্রসবকালীন জটিলতা, মা ও শিশুর সঠিক চিকিৎসা না হওয়ার ফলে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়। গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও থেকে নেই। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কোনো চিকিৎসক থাকে না। ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কিংবা দূরবর্তী স্থান হওয়ায় গ্রামের ভেতর বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা দিতে নজরে আসার মতো কোনো বেসরকারি সংস্থা এগিয়ে আসে না। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই হোক আর সেবামূলক উদ্দেশ্যেই হোক শহরগুলোতেই হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছড়াছড়ি। অথচ প্রত্যন্ত অঞ্চলে সামান্যতম ভালো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্রও নেই হতদরিদ্র মানুষগুলোর জন্য। প্রতি বছর গ্রামগঞ্জে অনেক মা-ই সন্তান প্রসবের সময় নানা জটিলতার সম্মুখীন হয়। পত্রিকায় মাঝে মাঝে কিছু কিছু খবর আসে। তবে তা বাস্তব অবস্থা তুলে ধরার চেয়ে অপ্রতুল। এখন আমাদের দেশে মাতৃমৃত্যুর হার অনেক বেশি। এসব সমস্যা সমাধানে যেমন সচেতনতা জরুরি তেমন স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া জরুরি।
সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি সাধ সাধ্যের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগ করে, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থাকে গ্রামে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে নিজেকে মুক্ত করে তাহলেই গ্রাম অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যাবে।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme