২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রজমানে ব্যস্ত গৃহিণীরা

বাজার সদাই করাও এখন গৃহিণীদের নিয়মিত কাজের মধ্যে পড়ে -

শুরু হলো পবিত্র রমজান। মাসটা সবাই ভালোভাবে উদযাপন করতে চায়। সাহরি, ইফতার সব মিলিয়ে গৃহিণীদের ওপর কাজের চাপ বেড়ে যায় অনেক। হোক সে গৃহিণী কর্মজীবী কিংবা হোমমেকার। অথচ বাড়ির সবাই একটু সচেতন হলে গৃহিণীও একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন।
এসব নিয়ে লিখেছেন
বদরুন নিসা নিপা
শুরু হলো রহমত, নাজাত, মাগফিরাতের মাস রমজান। এ মাস সবার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসে সবাই চাই একটু বেশি ইবাদত করতে। কিন্তু রমজান মাসে গৃহিণীদের ওপর কাজের চাপ এতটা বেড়ে যায় যে, একটু বেশি ইবাদতের সময় বের করা কঠিন হয় অনেকের কাছেই। নারী সে গৃহিণী হোক কিংবা কর্মজীবী, কাজের যেন কোনো শেষ নেই, নেই কোনো সময়সীমা। রমজানে সে কাজ আরো বাড়ে। দিনভর রোজা রেখে, ইবাদত বন্দেগি করে আবার ইফতার ও সাহরির সময় বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করতে হয় তাদের।
ব্যাংক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, রমজান মাসে আমাদের খাবারের রুটিনটা পাল্টে যায়। ইফতারি, রাতের খাবার আর সাহরি। পরিবারের সবার রুচি ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে লক্ষ্য থাকে প্রতি বেলার খাবারেই যেন বৈচিত্র্য আসে। আর সে কারণেই আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি জোগাড় করতে হয়। মাসের শুরুতেই মাসকাবারি বাজার এ ক্ষেত্রে অনেকটাই সহায়ক হয়। শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, গোশত অল্প পরিমাণে কিনে সপ্তাহের জন্য সংগ্রহ করি। শুধু তা-ই নয়, কোনো জিনিস ঠিক কী পরিমাণ কিনতে হবে তারও একটি তালিকা তৈরি আর বাজার করা সবই একরকম নিজেকেই করতে হয়। অফিস শেষে বাড়ি পৌঁছানোর তাড়া থাকে সবার মধ্যেই। অনেক সময় গাড়ি পেতে দেরি হয় কিংবা রাস্তার যানজটে বাড়ি পৌঁছতে দেরি হলেও বিশ্রাম করার সুযোগ হয় না। ক্লান্তি দূরে ঠেলে সব কাজ গোছাতে হয়। পরিবারের সদস্যদের ইফতারের আইটেমে স্বাদ ও নতুনত্বের সাথে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টি দেখে বাইরের দোকানের কেনা ইফতারি না কিনে ঘরেই প্রতিদিন ইফতার তৈরি করি নিজ হাতে। এতে একটি অন্য রকম তৃপ্তি ও আনন্দ উপভোগ করি। তারাবির নামাজ আদায় করে ক্লান্ত শরীরে ঘুমাতে গেলেও সাহরির সময় সবার আগে ঘুম থেকে উঠে সব খাবার টেবিলে সাজিয়ে পরিবারের সদস্যদের ডাকতে হয়। এত সব কাজের ফাঁকেই এরই মধ্যে চলবে ঈদের প্লানিং ও শপিং।
মিসেস হক চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। রমজানে যানজট পেরিয়ে বাসায় পৌঁছতে বেজে যায় ৫টা। এরপর ইফতারি, সন্ধ্যা রাতের খাওয়া, সাহরি। এতটা এক সাথে করতে পারেন না। তাই প্রথমে ইফতারি তৈরি করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইফতার করেন। এরপর রাতের আর সাহরি রান্না করতে করতে বেজে যায় ৯ থেকে ১০টা। এরপর নামাজ পড়া, টেবিলে খাবার দেয়া। খাবার পরে আবারো সাহরির প্রস্তুতি নেয়া। এসব সারতে বিছানায় যেতে বেজে যায় রাত ১২টার বেশি। রমজানে সারা মাসই ব্যস্ত থাকতে হয়। একটু যে বেশি ইবাদত করব সে সুযোগ থাকে না প্রায়ই, কথাগুলো বলছিলেন মিসেস হক। এভাবে কেটে যায় রমজান।
সংসারের কাজের বেশির ভাগই নারীর কাঁধে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরই শুরু হয় ব্যবস্থা, যা চলে রাতে বিছানায় যাওয়া অবধি। বাড়ির রান্না করা, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো, ঘর পরিষ্কার এমনকি বাজারেও থাকে তার সম্পৃক্ততা। পরে ইফতার ও রাতের খাবার, সাহরি, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার প্রতি নজর দেয়ার সাথে থাকে পরিবারের সবার সুস্বাস্থ্যে গৃহিণীর অনবদ্য ভূমিকা। বলতে গেলে দিন রাত কর্মব্যস্ত থাকতে হয় তাকে। এটাই হয় একজন শহুরে গৃহিণী নারীর দৈনন্দিন কার্যক্রম। গৃহিণীদের এমন ত্যাগ, শ্রম অতুলনীয়। ঠিক তেমনি কর্মজীবী মায়ের অবদানও অনস্বীকার্য। তারাও তাদের কর্মব্যস্ততা শেষে ছুটে আসেন সন্তানের কাছে, মাতৃত্বের টানে। আমাদের যে সংস্কৃতি তাতে, ঘরের কাজে পুরুষরা নারীদের তেমন একটা সাহায্য করেন না। সন্তান লালন পালন যুগ যুগ ধরে তো সব ক্ষেত্রেই মাকেই করতে হয়। আর রমণীর গুণের সর্বোত্তম বহিঃপ্রকাশ তার রন্ধনশালায়। তাই রান্নাবান্না তো নারীকেই করতে হবে। আমাদের সংস্কৃতিতে নারীদের মূল্যায়ন কখনোই হয় না। সমাজ বা পরিবারে নারীর অনেক অবদান। নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যায় আজীবন। অতীতে আমরা দেখেছি নারীরা শুধু ঘরে কাজ করবে, পরিবার দেখবে। এ ধারার পরিবর্তন হয়েছে। নারীরা এখন বাইরের কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তার পর ঘরের কাজে নারীর সম্পৃক্ততা, শ্রমের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো অপরিবর্তিত আছে। উৎসবের আয়োজনে নারীকেই শতভাগ দায়িত্ব পালন করতে হয়।
আমাদের সমাজে বাড়ির পুরুষরা বা শিশুরা সংসারের কাজে সহায়তা করেন কমই। কিন্তু পরিবারের সবাই যদি একটু সহযোগিতা করে, তাহলে গৃহিণীও একটু সময় পায়। নিতে পার বিশ্রাম। তাই পবিত্র এ মাসে পরিবারের সবাই একটু সচেতন হলে, সবাই কাজে সহযোগিতা করলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।


আরো সংবাদ