১৫ নভেম্বর ২০১৮
ভিন দেশ

গোটা বিশ্বে অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয় : আইরিন নাতিভিদাত

-

নারী নেতৃত্বের পুরোধায় রয়েছেন আইরিন নাতিভিদাত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে গোটা বিশ্বে প্রসার পেয়েছে এ নাম। গ্লোব ওমেন রিসার্চের প্রধান তিনি। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থাসহ সারা বিশ্বে নারীদের সভা সমাবেশের ক্ষেত্রে সভাপতিত্বের ভূমিকা পালন করে আসছেন আইরিন। গোটা বিশ্বে ব্যবসা, অর্থনীতি প্রভৃতি বিষয়ে নারীদের সম্মেলনে তিনি আন্তর্জাতিক নারী সমবায়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যবসা ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সাথে একত্রিত হয়ে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ২৭ বছরের পুরনো গ্লোবাল সামিট অব উইমেন নামে সংস্থাটির সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। গত প্রায় ১৯ বছরে বিভিন্ন দেশ, অঞ্চল ও শিল্প ক্ষেত্রসহ আরো ক্ষেত্রে প্রায় ২৬টি প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং বোর্ড অব ডাইরেক্টরস ও নির্বাহীদের সভা আহ্বান করেন। ওই সভায় সভা শুরুর ঘণ্টা তিনিই বাজান। তিনি আশা করেন, সারা বিশ্বের স্টক এক্সচেঞ্জভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবশ্যই দেখা মিলবে নারীদের।
প্রায় ৪৫ বছরের পুরনো দ্বিপক্ষীয় সংস্থা, যার নাম ন্যাশনাল উইমেন পলিটিক্যাল ককাস, সেখানে আইরিন নাতিভিদাত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারীদের উন্নয়নে (সার্বিক) প্রতিজ্ঞা নিয়ে থাকেন। সরকারি দফতরে আরো বেশি নারী নিয়োগের ব্যাপারে জোরালো সুপারিশ করেন তিনি। ককাসে তার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৮৫ সালের দিকে এর সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালেও তিনি এর সভাপতি নির্বাচিত হন।
আইরিন প্রথম এশিয়ান আমেরিকান নারী হিসেবে মিনি একটি রাজনৈতিক সংস্থাকে তার প্রধান হিসেবে পরিচালনা করেন। নব্বইয়ের দশকের দিকে তিনি নারীশ্রমিকদের একটি জাতীয় কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
ওই কমিশনে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের কর্ম ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে রেকর্ড ভূমিকা পালন করেন প্রচুর গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর কাজ করেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, যেন গোটা বিশ্বে অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়। এ ক্ষেত্রে তিনি নারীর অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রকে ত্বরান্বিত করার জন্য গ্লোবাল সামিট অব উইমেন নামে একটি ফোরাম গঠন করেন। দীর্ঘ ও সুপরিচিত সমবায় কর্মসূচির মাধ্যমে পরিচালক সভা, উপদেশ সভা ও বিশ্ব অর্থনৈতিক সিম্পোজিয়াম নামক জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে বিনা মজুরিতে কাজ করে ব্যাপক প্রশংসা পান।
আইরিন যুক্তরাষ্ট্রে কলাকৌশলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব উইমেনের উপদেশ সভায় নারীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন।
২০১২ সালে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব করপোরেট ডাইরেকটরস, রিবন কমিশন অব বোর্ড ডাইভারসিটি ও ইউরোপিয়ান কমিশন নেটওয়ার্ক নামক প্রতিষ্ঠানে নারীদের সিদ্ধান্ত তৈরির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। উল্লিখিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নীতিনির্ধারণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যাপ্তি বা পরিধি সৃষ্টিতে সৃজনশীলতা আনয়ন করেন।
১৯৯৪ সালে ফরচুন ১০০ কোম্পানি নামক একটি প্রতিষ্ঠানে বোর্ড অব ডাইরেক্টরস অব সাল্লিমায়ী হিসেবে নিয়োগ পান। এখানে তিনি প্রায় আট বছর সুনামের সাথে কাজ করেন। ফিলিপাইনের নাগরিক আইরিন নাতিভিদাত এশিয়ান আমেরিকান কমিউনিটির নেত্রী, যিনি এ প্রতিষ্ঠান থেকে তার ক্ষমতাকে নারীর ক্ষমতায়নের ওপর আলোকপাত করেন এবং বারবার নারীকে অদৃশ্য সংখ্যালঘু হিসেবে উল্লেখ করেন। ১৯৮২ সালের দিকে এশিয়াক ককাসের গণতান্ত্রিক দলের ডেপুটি ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেন। এবং ১৯৮৪ সালে এ কাজ শেষ করতে সক্ষম হন।
তিনি বিভিন্ন স্তরে এশিয়ান আমেরিকান দল সৃষ্টি করেন। সর্বপ্রথম এশিয়ান আমেরিকান এলমেনাক নামক পত্রিকা, যা ১৯৯৫ সালে গেল রিসার্চ কর্তৃক প্রকাশিত হতো। সেখানে তিনি নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। একজন সংবাদ পর্যালোচক হিসেবে পিবিএসে তার মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারিত হয়েছে জাতীয়ভাবে। দ্য টুডে শো ও গুড মর্নিং প্রভৃতি টিভি চ্যানেলে তাকে সংবাদ পাঠে দেখা গেছে। তার সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে শিকাগো ট্রিবিউন ও ডেস মাইনেস রেজিস্ট্রার প্রভৃতি পত্রিকায়।
সারা বিশ্বে নারীদের পক্ষে কাজ করার জন্য লং আইসল্যান্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তাকে হিউম্যান লেটারস বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়, যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৭১ সালে গ্র্যাজুয়েট ভেলেডিকেটরিয়ান অর্জন করেন। ১৯৯৪ সালে নিউ ইয়র্কে মেরিমাউন্ট কলেজ থেকেও তাকে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। বলা যেতে পারে, মানবাধিকার বিষয়েই তিনি এখন সবচেয়ে বেশি সময় পার করেন।


আরো সংবাদ