১২ নভেম্বর ২০১৯

‘ধর্ষণের ঘটনা দ্রুত বিচার আইনে নিষ্পত্তি করতে হবে’

‘ধর্ষণের ঘটনা দ্রুত বিচার আইনে নিষ্পত্তি করতে হবে’ - ছবি : সংগৃহীত

দেশে শিশু যৌন নির্যাতন-ধর্ষণের আশংকাজনক হারে বেড়েই চলেছে। ধর্ষণের ঘটনা দ্রুত বিচার আইনে নিষ্পত্তি করতে হবে। সোমবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে এদাবি করা হয় আয়োজকদেও পক্ষ থেকে।

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। কাল হচ্ছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস । আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটির সভাপ্রধান শামীমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান প্রফেসর মমতাজ বেগম অ্যাডভোকেট। সচিবালয় সমন্বয়কারী ফেরদৌস আরা রুমীর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আয়োকজকদের পক্ষ থেকে মূলবক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় কমিটির সদস্য তামান্না রহমান। এছাড়া জাতীয় কমিটির জাতীয় কমিটি সদস্য মাহবুব আলম ফিরোজ, ঢাকা জেলা কমিটির সম্পাদক সৈয়দা শামীমা সুলতানা, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল, ইক্যুইটিবিডি’র মোস্তফা কামাল আকন্দে প্রমূখ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

প্রফেসর মমতাজ বেগম এডভোকেট বলেন, শিশুদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নির্ভরতা দিয়ে তার জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। জাতীয় মহিলা সংস্থা দেশের ৬৪টি জেলায় কাজ করে। শিশুদের সুস্থ’-সুন্দর মানসিক বিকাশের জন্য সংস্থটি এই কমিটির সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। পাশাপাশি সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

ফেরদৌস আরা রুমী বলেন, দেশের ৫০ টির বেশি জেলায় উদ্যাপন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও সারাদেশে র‌্যালি, সেমিনার, মানববন্ধন, মেলা আয়োজন এবং গ্রামীণ নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদ্যাপন করা হচ্ছে। তারা আরও জানান, বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন স্বে”ছাসেবী ও উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন করে আসছে। উল্লেখ্য, ইক্যুইটিবিডি আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন জাতীয় কমিটি’র সচিবালয় হিসেবে কাজ করছে।

তামান্না রহমান মূল বক্তব্যে বলেন, গত ছয় মাসে সারাদেশে ৫৭২ জন শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর এই শিশুদের মধ্যে একজন ছেলে শিশুসহ ২৩ জন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। অভিভাবকরা এই বিষয়ে পারিবারিক সম্মানের কথা শিশুদের চুপ করিয়ে রাখে ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটে।

সৈয়দা শামীমা সুলতানা বলেন, একটি শিশুকে তার শরীরের তিনটি বিশেয় জায়গা যেমন, ঠোঁট, গোপনাঙ্গ ও পায়ুপথ সম্পর্কে জানাতে হবে। এখানে কেউ স্পর্শ করতে পারবে না, যদি কেউ স্পর্শ করতে চায় তাহলে সে যেন চিৎকার করে-এগুলো জানাতে হবে।

মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, ধর্ষণের ঘটনা দ্রুত বিচার আইনে নিষ্পত্তি করতে হবে। থানায় ভিকটিম বা তার পরিবার মামলা করতে গেলে দোষারোপ না করে মামলা গ্রহণ করতে হবে এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে।

শামীমা আক্তার বলেন, নির্যাতনের শিকার শিশুদের সম্পর্কে মানসিক চিকিৎসকরা বলেছেন, যেসব শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, তারা পরবর্তী জীবনে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগে। কেউ কেউ পরবর্তীতে যৌন নিপীড়কও হয়ে ওঠে। এই শিশুরা ট্রমায় থাকে বলে এদের বিশেষ সেবার প্রয়োজন হয়।


আরো সংবাদ