২৬ জুন ২০১৯

রাস্তায় বের হলে মেয়েরা কেন পানি কম খায়?

-

সাম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে এক শতাংশের কম মানুষ খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগ করে।

শহরে জনসংখ্যার তুলনায় পাবলিক টয়লেটের সঙ্কট একটি বড় সমস্যা। আর এর ফলে নিত্য ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারীরা।

"রাস্তায় বের হলে জ্যামের কারণে যেকোনো জায়গায় জায়গাতে পৌঁছানো একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এই সময়ের মধ্যে যদি টয়লেট চাপে, কই যাবো? টয়লেট তো নাই। দু-একটা যদি পাওয়াও যায়, সে সব এত নোংরা থাকে যে, যাওয়া যায় না।"

"আবার পাবলিক টয়লেটে যে যাব, সেখানে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটবে না, তার কোনো গ্যারান্টি নাই। ফলে রাস্তায় বের হওয়ার আগে থেকেই পানি বা কোনো খাবার খাই না।"

"টয়লেট চাপলেও সেটা চেপে রাখি, কারণ অনেক সময় মার্কেট বা রেস্তোরাতে টয়লেট থাকলেও তারা ঠিক পছন্দ করে না রাস্তা থেকে এসে কেউ টয়লেট ব্যবহার করবে।"

বেশ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী জানালেন, অনেক সময় ভ্রাম্যমান টয়লেট পেলেও পরিচ্ছন্নতার অভাবে সেগুলো তারা ব্যবহার করতে চান না।

আবার টয়লেটের ভেতরে গোপন ক্যামেরা থাকতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে অনেকের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, তার এক গবেষণায় দেখেছেন, এমনকি রাস্তায় দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশের নারী সদস্যরাও এ নিয়ে ভোগান্তির শিকার হন।

"আমরা ঢাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা এবং কনস্টেবল পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে দেখেছি, যারা রাস্তায় কর্মরত থাকেন এমন নালী পুলিশ সদস্যরা টয়লেট চেপে রাখেন। এদের অনেকেই ইউরিন ইনফেকশনসহ নানা ধরণের সমস্যায় ভুগছেন।"

কিন্তু এই যে মেয়েরা দীর্ঘ সময় পানি না খেয়ে থাকেন, কিংবা চেপে রাখেন পায়খানা ও পেশাব- এর কী ধরণের প্রভাব পড়ে শরীরে?

ঢাকার আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাসুমা নাওয়ার বলছেন, এজন্য মূত্রথলীর সংক্রমণসহ নানা ধরণের শারীরিক সমস্যায় পড়তে হয় নারীদের।

"দীর্ঘ সময় পানি না না খেয়ে থাকলে প্রথমেই পানিশূণ্যতা হয়। এরপর টয়লেট চেপে রাখা ইউরিন ইনফেকশনের একটি কারণ। আরো অনেক রোগ হতে পারে।''

''কিডনীর কাজ পরিচালনার জন্য পানি পান জরুরি, শরীরের বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়া এবং গ্লুকোজসহ অন্যান্য উপাদান অ্যাবজর্ব করে কিডনি। ফলে তার কাজ ব্যহত হওয়া মানে পুরো শরীরের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।"

ঢাকার দুইটি সিটি কর্পোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, রাজধানী শহরে পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা এখন সব মিলিয়ে এক শ'টির মতো।

যদিও এই সংখ্যার এক তৃতীয়াংশই ব্যবহার অনুপযোগী বলেও জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

২০১৫ সালে দুই সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আরো ৩০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়, যার সবগুলো এখনো চালু হয়নি।

কিন্তু কর্তৃপক্ষ কেন এ ব্যপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না? জানতে চেয়েছিলাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাইদ খোকনের কাছে

"পাবলিক টয়লেটের সমস্যা আগের মত নেই। এখন নতুন ৫০টি টয়লেট নির্মাণের কাজ চলছে। তবে আমাদের মূল সমস্যা জমির সঙ্কট। মানে নতুন টয়লেট বানাতে জমি লাগে, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটির সংযোগ লাগে, সব ম্যানেজ হলেও জমির ব্যবস্থা করা সময়-সাপেক্ষ ব্যাপার।"

সরকারি হিসাবে এই মুহূর্তে যে শহরের জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি, অর্থাৎ প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় দুই লাখ মানুষ বাস করে, সে শহরকে মানুষের জন্য একটু স্বস্তিকর করতে হলে পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষের আশু উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।


আরো সংবাদ