১২ নভেম্বর ২০১৯

আল-বাগদাদির ডেরায় হামলার প্রথম ছবি প্রকাশ

-

আমেরিকান সৈন্যরা কীভাবে তাকে হত্যা করেছে তার প্রথম ভিডিও ছবি প্রকাশ করেছে আমেরিকার সেনা বাহিনী। ভিডিওর কিছুটা অস্পষ্ট। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, যে বাড়িতে আল-বাগদাদি লুকিয়েছিলেন সেই বাড়ির চত্বরে ঢোকার পথ পরিষ্কার করতে সৈন্যরা জঙ্গীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে চালাতে চত্বরের দিকে এগোচ্ছে।

আল-বাগদাদি অভিযানের মুখে পালিয়ে একটি সুড়ঙ্গে আশ্রয় নেন এবং পরে তার আত্মঘাতী ভেস্টে বিস্ফোরণ ঘটান যার কারণে তার মৃত্যু ঘটে। আমেরিকান হানার পর ঐ চত্বরটি ধ্বংস করে ফেলা হয়, যেখানে গোলাবারুদ মজুত ছিল।

আমেরিকান সেন্ট্রাল কমাণ্ডের প্রধান, জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেন, সেখানে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত করে দেবার পর এলাকাটি দেখে মনে হয়েছে সেটি ‘বড় বড় গর্তে ভরা একটি গাড়ি পার্ক করার বিশাল খালি জায়গা।’

জেনারেল ম্যাকেঞ্জি বলেন, সুড়ঙ্গের ভেতর আল-বাগদাদির সঙ্গে মারা যায় দুটি শিশু। এর আগে খবরে বলা হয়েছিল সুড়ঙ্গের ভেতর আল-বাগদাদি তিনটি শিশুকে নিয়ে ঢুকেছিলেন এবং তারা তিনজনই বিস্ফোরণে আল-বাগদাদির সঙ্গে মারা গেছে।

সিরিয়ায় আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির গোপন আস্তানায় আমেরিকান সৈন্যদের অভিযানে নিহত হন আল-বাগদাদি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় আল-বাগদাদির পালানোর পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিতে গিয়ে যে বলেছিলেন মৃত্যুর আগে বাগদাদি কাঁদছিলেন, কাতরাচ্ছিলেন-সেটা সঠিক কিনা তা জেনারেল ম্যাকেঞ্জি নিশ্চিত করতে পারেননি।

‘বাগদাদি দুটো বাচ্চাকে নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে একটা সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢোকেন এবং তার সঙ্গীসাথীদের চত্বরে ফেলে রেখে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেন। এর থেকেই আপনারা বুঝে নিতে পারেন তিনি কীধরনের মানুষ,’ সংবাদ সম্মেলনে বলেন ট্রাম্প।

‘ওখানে কী ঘটেছে, সে ব্যাপারে এটা আমার পর্যবেক্ষণ। তার শেষ কয়েকটা মুহূর্ত ঠিক কেমন ছিল সেটা নিশ্চিত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সেই মুহূর্তের কথা আমি বলতে পারব না।’

জেনারেল ম্যাকেঞ্জি বলেন, চারজন মহিলা যারা আত্মঘাতী ভেস্ট পরেছিলেন, তারা এবং আরো একজন পুরুষ ঐ চত্বরে নিহত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমেরিকান হেলিকপ্টারের ওপর গুলি চালানোর পর সংঘর্ষে তাদের বেশ কিছু যোদ্ধা মারা গেছে। তবে সংখ্যা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নয়। তিনি আরো বলেন: ‘আমি স্পষ্ট বলতে চাই এই অভিযান যেহেতু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই বেসামরিক মানুষের হতাহত হবার আশঙ্কা এড়ানোর এবং ওই ভবন ও চত্বরে যেসব শিশু আছে বলে আমরা সন্দেহ করছিলাম তাদের সুরক্ষার জন্য সবরকম প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে।’

জেনারেল ম্যাকেঞ্জি নিশ্চিত করেছেন যে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আইএস নেতার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেছেন, আল-বাগদাদি ২০০৪ সালে ইরাকের কারাগারে থাকার সময় থেকে তার ডিএনএ নমুনা আমেরিকানদের ফাইলে সংগ্রহ করা ছিল। তিনি বলেন, আল-বাগদাদির দেহাবশেষ পরিচয় শনাক্ত করার জন্য একটি বিশেষভাবে তৈরি ঘাঁটিতে বিমানযোগে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ‘সশস্ত্র সংঘাতে নিহতদের অন্ত্যেষ্টি বিষয়ক আইন অনুযায়ী’ তার মৃত্যুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে সমুদ্রে দাফন করা হয়।

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ