১৫ অক্টোবর ২০১৯

কাশ্মিরে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ চান মার্কিন সিনেটররা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প - সংগৃহীত

কাশ্মিরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রভাবশালী মার্কিন আইনজীবীদের এক দল। কাশ্মির উপত্যকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। একই সাথে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর আটককৃতদের মুক্তি দিতে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ট্রাম্পকে লেখা এক চিঠিতে সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন, টড ইয়ং, বেন কার্ডিন এবং লিন্ডসে গ্রাহাম জানান, প্রতিটি দিন কাশ্মিরের জনগণের পরিস্থিতি ‘সঙ্কটময়’ হয়ে উঠছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিটির অনুলিপির বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া গত শুক্রবার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। চিঠিতে লেখা ছিল, ‘অতএব, আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টেলিযোগাযোগ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার, কারফিউ ও অবরোধ তুলে নেয়া এবং ৩৭০ ধারা বাতিলের পর আটককৃতদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

আরেক মার্কিন সিনেটর বব ক্যাসি বলেছেন, জম্মু ও কাশ্মিরের মর্যাদা বাতিলের ভারতীয় সিদ্ধান্ত গত কয়েক দশকের নজির ও নীতি থেকে ‘কঠোরভাবে বদলে গেছে’। এতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সিদ্ধান্তের ফলে জম্মু ও কাশ্মিরের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে তিনি গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ক্যাসি বলেন, পাকিস্তানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ বা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। তাদের এই ব্যর্থতার কারণে জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথাযথ ভূমিকা রাখতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত নয় বলে জানান তিনি। সিনেটররা চিঠিতে লিখেছেন, পাকিস্তানকে তার ভূখণ্ড থেকে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় ভেঙে দিতে হবে। ভারত কিংবা কাশ্মিরকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করছে এমন ব্যক্তিরা যেন সেখানে ঠাঁই না পায়। কাশ্মির পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে দেশটিকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তারা লিখেছেন, ‘এই মানবিক সঙ্কট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা আপনাকে (ট্রাম্প) এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। জরুরি মানবিক পরিস্থিতি মোকাবেলার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুই পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অন্তর্নিহিত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সহায়তামূলক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমরা আশা করছি।’ সিনেটররা বলেন, কাশ্মির পরিস্থিতি গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

ফের ট্রাম্প-ইমরান বৈঠক

ডন ও টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, কাশ্মির নিয়ে ভারতের সাথে উত্তেজনার মধ্যেই ২১ সেপ্টেম্বর ফের যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতেই দেশটিতে যাচ্ছেন তিনি। এবারের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দুই দফা বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে ইমরানের।  প্রথম দফা বৈঠকে একসাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইমরান খান। তবে দ্বিতীয় দফা বৈঠক চা জাতীয় কিছু পানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে জিও নিউজ।

দ্য হিন্দু জানিয়েছে, ট্রাম্প ছাড়াও অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সাথেও সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে ইমরান খানের। এসব সাক্ষাতে তিনি ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং অঞ্চলটির উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্বনেতাদের অবহিত করবেন তিনি।

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই ভাগ করে দেয় দিল্লি। ওই দিন সকাল থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে নিমজ্জিত হয় ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মির উপত্যকা। ফোনে ট্রাম্পকে সামগ্রিক পরিস্থিতি জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই ইস্যুতে ট্রাম্পকে ফোন করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নালিশ জানান। দুই প্রধানমন্ত্রীর সাথে ফোনালাপের পর টুইটারে দেয়া এক পোস্টে তিনি কাশ্মিরের বিদ্যমান অবস্থাকে ‘একটি কঠিন পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরদিন হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অঞ্চলটির বিদ্যমান অবস্থাকে ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum