২১ অক্টোবর ২০১৯

তিন দশক পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

তিন দশক পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি - ছবি : সংগৃহীত

মস্কোর সাথে স্নায়ুযুদ্ধকালীন অস্ত্রচুক্তি প্রত্যাহারের পর প্রথমবারের মতো মাঝারি পাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল ওয়াশিংটন। গত রোববারের এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার রাশিয়া ও চীন হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে। 
চলতি মাসেই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া মাঝারি পাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র (আইএনএফ) চুক্তিটি প্রত্যাহার করে। ওয়াশিংটনের দাবি, চুক্তির শর্তটি আরেক বিশ্বশক্তি চীনকে মোকাবিলায় তাদের হাত বেঁধে রেখেছিল।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর গত রোববার এক ধরনের গ্রাউন্ড-লঞ্চ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার ঘোষণা করে। ১৯৮৭ সালের আইএনএফ চুক্তির আওতায় পারমাণবিক ও প্রচলিত মাঝারি পাল্লার অস্ত্রের ব্যবহারকে সীমিত করেছিল। এমন অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর কথা প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশাসন। 
রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর দিকে এগিয়ে গেছে। আমরা তাদের উসকানিতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাব না। আমরা নিজেদের ব্যয়বহুল অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় নামতে দেবো না। 
সের্গেই বলেন, তবে এই পরীক্ষায় দেখা যায় যে, ওয়াশিংটন চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার সরকারি ঘোষণার অনেক আগে থেকেই এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিয়ে কাজ করছিল। 
এ দিকে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ একটি অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে নতুন দফার সূচনা করবে, যা সামরিক দ্বন্দ্বকে আরো বাড়িয়ে তুলবে। এই পরীক্ষাটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সুরক্ষা পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি সতর্ক করেন। 
জেং আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা ছেড়ে দেয়া উচিত এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শান্তি ও প্রশান্তির পক্ষে আরো বেশি কাজ করা উচিত। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত সান নিকোলাস দ্বীপ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সংবাদ পাওয়ার আগে সোমবার ফ্রান্সে এক বক্তব্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছিলেন, মার্কিন পদক্ষেপের অনুরূপ প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাশিয়া কেবল মাঝারি বা স্বল্প-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে।
ফরাসি নেতা ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে বৈঠকে আগের এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, আমেরিকা যদি এই ধরনের আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা তৈরি করে, আমরাও তা করব। মস্কো এবং ওয়াশিংটন দীর্ঘকাল এই চুক্তির সমালোচনা করলেও পুতিনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ‘একতরফাভাবে’ চুক্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
পরমাণু ধারণক্ষম টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি করা হয় গত রোববার। আইএনএফ চুক্তির পরে টমাহকের গ্রাউন্ড-লঞ্চ সংস্করণটি পরিষেবা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই মোবাইল, প্রচলিত, স্থল-প্রবর্তিত ক্রুজ এবং ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম তৈরির কাজ শুরু করেছে বলে চলতি মাসের শুরুতেই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এসপার বলেছিলেন।
এসপার বলেন, এখন যেহেতু চুক্তি প্রত্যাহার করেছি, তাই আমাদের প্রতিরক্ষা বিভাগ রাশিয়ার পদক্ষেপের বুদ্ধিমান প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই স্থল-প্রবর্তিত গতানুগতিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বিকাশের জন্য পুরোপুরি কাজ করবে।

 
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকা নতুন অস্ত্রের লড়াইয়ে নামছে না। তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত ছিল প্রচলিত অস্ত্র প্রতিযোগিতার ধারণাটি। এই মুহূর্তে, আমাদের পারমাণবিক-সক্ষম আইএনএফ-রেঞ্জ অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নেই। এটি করছে রাশিয়ানরা, যারা সম্ভবত পারমাণবিক প্রশিক্ষিত অস্ত্র তৈরি করছে।
রাশিয়ার একটি পরীক্ষামূলক সাইটে মারাত্মক বিস্ফোরণের কয়েক সপ্তাহ পরেই মার্কিন পদক্ষেপটি দেখা যায়। রুশ পরীক্ষাটিকে পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা মস্কোর পারমাণবিক শক্তি চালিত ক্ষেপণাস্ত্র 
তৈরির প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত ছিল বলে জানান। এই বিস্ফোরণে পাঁচ বিজ্ঞানী মারা যান এবং বিকিরণ ছড়িয়ে পড়েছি, যদিও রুশ কর্তৃপক্ষ বিস্ফোরণটির প্রকৃতি নিয়ে দৃঢ়ভাবে মুখ বন্ধ করে রেখেছে। অবশ্য মার্কিন বিশেষজ্ঞরা একে ‘বুরেভেস্টনিক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার সাথে যুক্ত থাকার ব্যাপারে মত দেন, যার কথা এই বছরের গোড়ার দিকে পুতিন বলেছিলেন।

আইএনএফ এমন সব স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র নিষিদ্ধ করেছিল, যা পারমাণবিক অস্ত্রের শ্রেণীকে বাতিল করেছিল যা ওই সময়ে ইউরোপের জন্য হুমকির ছিল। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল ৫০০-৫৫০০ কিলোমিটার (৩১০-৩,৪০০ মাইল) এর মধ্যে আঘাত হানতে পারার সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রগুলো।

সূত্র : রয়টার্স 


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik