২৪ আগস্ট ২০১৯

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী চার নারী কংগ্রেস সদস্যের

যুক্তরাষ্ট্র
ট্রাম্পের একটি টুইট নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন চার নারী কংগ্রেস সদস্য - ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন কংগ্রেসের চার ডেমোক্র্যাটিক মহিলা সদস্যের উদ্দেশ্যে একটি টুইট করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ করেছেন সমালোচকেরা। আর যাদের উদ্দেশ্য করে টুইট করেছিলেন ট্রাম্প, তারা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনায় নীরব না থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

গত রোববার এক টুইটে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, চার কংগ্রেসওম্যান আদতে এমন দেশ থেকে এসেছেন, যেখানের সরকার নৈরাজ্য চালাচ্ছে। এই মহিলাদের উচিত সেই দেশে ফিরে গিয়ে পরিস্থিতি সামলানো। টুইটে সরাসরি কারো নাম না করলেও ট্রাম্পের মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি কাদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছেন।

টুইটটি ভাইরাল হওয়ার পরই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। বিরোধী নেত্রী এবং ডেমোক্র্যাটরা তো বটেই, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

যাদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্পের এই টুইট, তাদের মধ্যে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ, রশিদা তালেব এবং আয়না প্রেসলির জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা আমেরিকাতেই। অন্য কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ১২ বছর বয়সে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার জন্ম সোমালিয়ায়।

তাদের প্রত্যেকেরই বক্তব্য, প্রেসিডেন্টের এ ধরনের মন্তব্য চূড়ান্ত বিদ্বেষমূলক। এ ব্যাপারে আমরা নীরব থাকব না।

এ ব্যাপারে ডেমোক্র্যাটিক সদস্যদেরও পাশে পেয়েছেন তারা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

এই চার কংগ্রেসওম্যান ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার, সেই রাগেই ট্রাম্প টুইট করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছিলেন, ‘এ ধরনের ‘প্রগতিশীল’ ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান দেখতেও ভালো লাগে, যারা আদতে এমন দেশ থেকে এসেছেন, যেখানের সরকার সবচেয়ে খারাপ, দুর্নীতিগ্রস্ত, নৈরাজ্যবাদী। অথচ এই মহিলারাই চিৎকার করে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশ আমেরিকার মানুষকে বলেন, কিভাবে এই দেশের সরকার চলা উচিত। তারা কেন নিজেদের ফেলে আসা দেশে ফিরে গিয়ে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করছেন না? তার পর ফিরে এসে আমাদের বলুন, কিভাবে এটা হলো। আমি নিশ্চিত, ন্যান্সি পেলোসি সানন্দে তাদের বিনামূল্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন!’

হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সাথে এই চার মহিলার আগে থেকেই মতভেদ হয়েছে। সম্ভবত সেই সূত্র ধরেই টুইটে পেলোসির নাম উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু পেলোসি এ ব্যাপারে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যানদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তিনি টুইট করেছেন, ‘আমাদের দেশকে বিভক্ত করতে ট্রাম্পের এই বিদ্বেষমূলক মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। কংগ্রেসের সদস্যদের আক্রমণ না করে তার উচিত অভিবাসন নীতি নিয়ে আমাদের সাথে আলোচনা করে কাজ করা, যাতে আমেরিকার মূল্যবোধ প্রতিফলিত হয়। শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ হোক।’

মিশিগানের কংগ্রেসওম্যান তালায়েব ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টের দাবি তুলেছেন।

ক্যাপিটাল হিলে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চার কংগ্রেসওম্যান বলেন, আমাদের বৈচিত্রই আমাদের শক্তি। আমাদের একতাই আমাদের ক্ষমতা। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আমরা নীরব থাকতে পারি না। ট্রাম্প চেষ্টা করছেন বিভক্তির বীজ বপণ এবং অভিবাসন, স্বাস্থ্য ও কর বিষয়ক ব্যর্থ নীতি থেকে মানুষের দৃষ্টিকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওকাসিও কার্টেজ বলেন, দুর্বল মনের মানুষ ও নেতারা নীতি নিয়ে বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ এড়াতে দেশের প্রতি আনুগত্যকে চ্যালেঞ্জ করে।

এর আগেও একাধিকবার বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ান ট্রাম্প। তিনি এমন দাবিও করেছিলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্ম আমেরিকায় নয়। দুই বছর আগে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলের আন্দোলনে শ্বেতাঙ্গবাদের সমর্থন দিয়েছিলেন তিনি।

এসব বিতর্কের মুখেও ২০১৮ সালে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আপনারা যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, তাদের মধ্যে আমি সবচেয়ে কম বর্ণবিদ্বেষী।’

সূত্র : আলজাজিরা


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet