২০ নভেম্বর ২০১৮

অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

সদ্য বরখাস্তকৃত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস - সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বুধবার এক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন,‘আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসকে তার কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং একই সাথে তার মঙ্গল কামনা করছি।’

তবে এই বরখাস্তের ঘটনা যে খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঘটেছে তা নয়। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকার শিবির তথা ট্রাম্পের পক্ষে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে বিচার বিভাগের তদন্ত নিয়ে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হন। ধারণা করা হচ্ছে নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বিষয়ে তদন্তের কারণেই জেফ সেশনসকে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসকে বরখাস্তকরার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইট

 

অবশ্য এর আগে জেফ সেশনস নিজের পদ ছেড়ে দিয়ে প্রেসিডেন্ট বরারবর একটি পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দেন। তবে সেশনস যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি সেটা স্পষ্ট ধরা পড়েছে পদত্যাগ পত্রটি তারিখবিহীন হওয়ায়।

জেফ সেশনস এর আগে আলাবামা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবেও পরিচিত।

পদত্যাগ পত্রে জেফ সেশনস বলেন,‘প্রিয় মি. প্রেসিডেন্ট, আপনার অনুরোধে আমি আমার পদত্যাগ পত্র জমা দিচ্ছি।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,‘সবচেয়ে বড় কথা আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকার সময় আমরা আইনের শাসনকে বলবৎ রেখেছি।’

উল্লেখ্য, সেশনসের সাথে ট্রাম্পের বিবাদের শুরুটা হয়েছিল ২০১৭ সালের মার্চ মাসে। তখনই সেশনস রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে যে তদন্ত হচ্ছিল সেখান থেকে সরে আসেন এবং এই দায়িত্ব তার অধীনস্ত রড রোজেনস্টেইনকে দেন।

এরপর থেকেই প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অ্যাটর্নি জেনারেল সেশনসের বিরুদ্ধে নানা ধরণের সমালোচনামূলক কথা বলতে শুরু করেন।

২০১৭ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেন,‘তিনি এই তদন্ত থেকে সরে যাবেন এই কথা আমাকে আগে বললে আমি তাকে এই দায়িত্ব দিতাম না। আমি অন্য কাওকে এই কাজের জন্য বেছে নিতাম।’

সেশনস তদন্তভার থেকে সরে যাওয়ার পর বিশেষ কাউন্সেল রবার্ট মুলারের চলমান তদন্ত-প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অসন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প। মুলার প্রতিনিয়ত ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টসিয়াল ক্যাম্পেইন এবং মস্কোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না এমন তথ্য-প্রমাণ খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

অবশ্য আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল যে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই হয়ত জেফ সেশনসকে বরখাস্ত করা হতে পারে। আর সেটাই এখন সত্য হলো।


আরো সংবাদ