২৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৫
`

খাশোগি হত্যায় ট্রাম্পের জামাতাও জড়িত!

খাশোগি হত্যায় ট্রাম্পের জামাতাও জড়িত! - সংগৃহীত

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি দূতাবাসে ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার বিষয়টি ইতোমধ্যে স্বীকার করেছে সৌদি আরব। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারও জড়িত বলে ইঙ্গিত দিলেন দেশটির হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের পররাষ্ট্র ও গোয়েন্দা বিষয়ক কমিটির সদস্য জোয়াকুইন ক্যাস্ট্রো।

শুক্রবার সকালে সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন ইঙ্গিত দেন এই আমেরিকান আইনপ্রণেতা। তিনি টেক্সাসের স্যান অ্যান্টোনিও থেকে নির্বাচিত প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান।

ক্যাস্ট্রো বলেন, আমার মতে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে জ্যারেড কুশনার সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে(মোহাম্মদ বিন সালমান) একটি হিট লিস্ট(শত্রুদের তালিকা) দিয়েছিলেন বলে খবরে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই হিট লিস্টের ভিত্তিতে প্রিন্স যাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিয়েছেন, তাদেরই একজন হলেন খাশোগি।
তার কথার মাঝখানেই রিপোর্টার পপি হারলো বলেন, সিএনএনে প্রকাশিত কোনও রিপোর্টে এই দাবি করা হয়নি। এমনকি প্রধান কোনও আমেরিকান মিডিয়াতেই এটা নিয়ে রিপোর্ট হয়নি। বিস্তারিত কিছু না বলে তিনি দাবি করেন, আমি দেখেছি এবং এটার তদন্ত হওয়া উচিত।

দ্য টেক্সাস ট্রিবিউনকে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, খাশোগি হত্যার পরিকল্পনায় জ্যারেড কুশনারকে অভিযুক্ত করার কোনও ইচ্ছাই আমার নেই কিন্তু বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া উচিত। কিন্তু কিছু গণমাধ্যমে রিপোর্টে কুশনার এবং মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এটাই যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা এবং একটি স্বচ্ছ আমেরিকান পররাষ্ট্রনীতি প্রত্যাশীদের উদ্বিগ্নতার কারণ বলেও উল্লেখ করেন হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের পররাষ্ট্র ও গোয়েন্দা বিষয়ক কমিটির এই সদস্য।

জোয়াকুইন ক্যাস্ট্রো বলেন, জ্যারেড বা কোনও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য সৌদি আরবকে দিয়েছে কিনা তা তদন্ত করা উচিত কংগ্রেসের। এর ফলেই খাশোগি হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা উচিত।

 

আরো পড়ুন : অপ্রকাশিত এক সাক্ষাতকারে যা বলেছিলেন খাশোগি
ওয়াশিংটন পোস্ট, ২২ অক্টোবর ২০১৮

‘আমাদের নেতারা ভাবেন, তারাই সব জানেন। আর আমরা শুধু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করি।’ ওয়াশিংটন পোস্টে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছিলেন সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি।

গত গ্রীষ্মে ওয়াশিংটন পোস্টের কার্যালয়ে সংবাদপত্রটির আন্তর্জাতিক মতামতবিষয়ক সম্পাদক (গ্লোবাল ওপিনিয়ন এডিটর) কারেন আতিয়াহর সঙ্গে এক আলোচনায় অংশ নেন সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। তিনজনের সেই আলোচনায় আরো ছিলেন ওই বিভাগের ইরানবিষয়ক মতামত লেখক ইরানি সাংবাদিক জেসন রেজাইয়ান, যাকে ইরানের কারাগারে ৫৪৪ দিন বন্দী থাকতে হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্য, সৌদি আরব ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ব্যাপারে বিশদ আলোচনা হয় তাদের মধ্যে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে খাশোগি বলেন, ‘সৌদি আরব দুই কোটি জনসংখ্যার দেশ। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ তরুণ, ৩০ বছরের কম বয়সী তারা। মোহাম্মদ বিন সালমান সব বিষয়ই তুলে আনছেন। অর্থনীতি, ধর্ম সৌদি আরব স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুতগতির ওপর রয়েছে।’ খাশোগির এই সাক্ষাৎকারের বিষয়টি তুলে ধরে সাংবাদিক জেসন রেজাইয়ান বলেছেন, তিনি আর জামাল খাশোগি বিপরীত বিষয়ে লিখলেও তা সমান সঙ্কটপূর্ণ। জামাল সৌদি নিয়ে লিখতেন আর তিনি ইরান নিয়ে। তার ভাষায়, সৌদি আরব খাশোগির আর ইরান তার বাড়ি হলেও দেশ দুইটির বর্তমান শাসকেরা এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দেশে ফেরার জন্য তাদের স্বাগত জানানো হবে না। যে বিষয়টি এই সময়ে তাকে কষ্ট দেয়, দুইজনই দেশের প্রশংসা করতেন, দেশকে ভালোবাসতেন। তারা নিজেদের সমাজের আরো ভালো চেয়েছিলেন, কিন্তু সরকারগুলোর নির্যাতন, অত্যাচার ও ভুলগুলো পাশ কাটাতে চাননি।

ওই সাক্ষাৎকারে খাশোগি আরো বলেছিলেন, ‘এমনকি কিছু মানুষ যারা আমার লেখার সঙ্গে অমত প্রকাশ করেন না, তারাও আমাকে বলবেন, ‘কিন্তু এটা বলার জন্য এখন সঠিক সময় নয়।’ আমরা গণতন্ত্র থেকে অনেক দূরে। আমেরিকা, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের গণতন্ত্রে নেতারা নত হন। এটা একজন নেতাকে সড়কে চলা একজন ক্ষুদ্র মানুষের প্রতিও দায়বদ্ধ করে। আমাদের নেতারা? না। আমাদের নেতারা নিজেদের এমন ভাবেন যে, তারাই সব জানেন এবং আমি ও জেসনের মতো মানুষ শুধু তাদের সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করি।’

খাশোগিকে নিয়ে এক টুইট পোস্টে সম্পাদক কারেন আতিয়াহ বলেছেন, ‘তারা হয়তো আমার বন্ধুকে নীরব করে দিতে পেরেছে, কিন্তু তার শব্দকে তারা হত্যা করতে পারবে না...।’


আরো সংবাদ



premium cement