১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

ট্রাম্পের নারীবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে শিকাগোতে বিশাল পদযাত্রা

ট্রাম্প
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নারীদের একটি বিক্ষোভ - ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টে একজন বিচারপতি নিয়োগে তিক্ত বিতর্কের প্রেক্ষাপটে হাজার হাজার নারী শনিবার শিকাগোতে পদযাত্রা করবে। তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের নারী বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ হিসেবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দেবে।

যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সত্ত্বেও দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ট্রাম্পের মনোনীত ব্রেট কাভানার নিয়োগের বিরুদ্ধে ‘ওম্যান্ড মার্চ শিকাগো’ এই প্রতিবাদে আয়োজন করছে।

কাভানার নিয়োগের ঘটনাকে রাজনৈতিক পতনের নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন ৬ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে পারে।

আয়োজকরা জানাচ্ছেন যে, কাভানার নিয়োগের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রতিবাদ অক্টোবরের শেষ দিকে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাটি ট্রেক্সাস, জর্জিয়া ও সাউথ কেরোলিনাসহ অন্যান্য রাজ্যেও অনুষ্ঠিত হবে।

ওম্যান মার্চ শিকাগোর মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, কাভানার নিয়োগে নারীরা খুবই মর্মাহত। তারা ভোটে এর জবাব দেবে।
রিপাবলিকান পর্টির একজন ছাড়া অন্য সকল সিনেটর কাভানার নিয়োগের পক্ষে ভোট দেয়। অপরদিকে ডেমোক্র্যাটদেরও একজন এই মনোনয়নের পক্ষে ভোট দেয়।

ওম্যান মার্চ শিকাগোর এক বিবৃতিতে বলা হয়, রিপাবলিকান পার্টি ও হোয়াইট হাউজের নারী বিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল শেষে তারা ভোট দিতে শিকাগোর আগাম ভোট কেন্দ্রে যাবেন।

আরো পড়ুন :
মেয়েকে নিয়ে ভয়ে আছেন ট্রাম্প
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ১০ অক্টোবর ২০১৮
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার মেয়ে ইভানাকা ট্রাম্পকে জাতিসঙ্ঘের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে না। ট্রাম্প আরো বলেছেন, এ পদে ইভানাকাকে নিয়োগ দেয়া হলে তার মেয়ে বিশ্বস্ততা হারাবেন এবং তিনি নিজে স্বজনপ্রীতি অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।

গতকাল আকস্মিকভাবে জাতিসঙ্ঘ রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন নিকি হ্যালি। এরপর অনেকেই বলাবলি করছেন, জাতিসঙ্ঘের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে মেয়ে ইভানাকাকে নিয়োগ দিতে পারেন ট্রাম্প।

আইওয়াতে এক সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আপনাদের জানাতে চাই যে, সবাই জানে ইভানাকা এ পদের জন্য একজন শক্তিশালী প্রার্থী এবং বিশ্বের যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে বেশি যোগ্য হবেন। কিন্তু আপনারা জানেন, আমার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনা হবে, কথাটি আপানারা বিশ্বাস করতে পারেন।”

ট্রাম্প জানান, আগামী দুই তিন সপ্তাহের মধ্যে জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূতের পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে। ডায়ানা পাওয়েল নামে এক নারীকে তিনি এ পদে নিয়োগ দেবেন বলে জানান।

ডায়ানা পাওয়েল এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহকারী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন এবং চলতি বছরের প্রথম দিকে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন।

ইভানাকা বললেন ‘আমি সেই ব্যক্তি নই’
জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালির পদত্যাগের পর এ পদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় মেয়ে ইভানাকাকে নিয়োগ দেয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ইভানাকা মঙ্গলবার এক টুইটার বার্তায় এ গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমি জানি যে, নিকি হ্যালির জায়গায় প্রেসিডেন্ট একটি দুর্দান্ত নিয়োগ সম্পন্ন করবেন। তবে সেই ব্যক্তি আমি নই।’

গতকাল আকস্মিকভাবে নিকি হ্যালি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর অনেকেই বলাবলি করছেন, জতিসঙ্ঘের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে ইভানাকাকে নিয়োগ দিতে পারেন ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে ইভানাকা তার কোটিপতি বাবার হয়ে কাজ করেছেন। এছাড়া, বর্তমানে তিনি হোয়াইট হাউজের একজন অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি ইভানাকার ইহুদি স্বামী জারেড কুশনার হচ্ছেন ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা। কুশনার ও ইভানাকা দুজনকেই হোয়াইট হাউজের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


আরো সংবাদ