১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রে মাইকেলের ‘অকল্পনীয় ধ্বংসযজ্ঞ’

ঘূর্ণিঝড়
ফ্লোরিডায় প্রচণ্ড বাতাসে উল্টে পড়ে আছে একটি ট্রেন - ছবি : এএফপি

ঘূর্ণিঝড় মাইকেল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে ‘অকল্পনীয় ধ্বংসযজ্ঞ’ চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর রিক স্কট।

তিনি বলেন, ‘অনেক জীবন চিরতরে পরিবর্তিত হয়ে গেছে, অনেকগুলো পরিবার তাদের সবকিছু হারিয়েছে।’

বিবিসি জানিয়েছে, ফ্লোরিডার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা উত্তর-পশ্চিম উপকূলে দেখা যায়, বাড়িগুলোর ভিত্তিগুলো সব ফেটে গেছে, গাছগুলো মাটিতে পড়ে আছে, বিদ্যুতের লাইনগুলো রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

ঘূর্ণিঝড় মাইকেল বুধবার ২৫০ কিলোমিটার বেগে ওই এলাকায় আঘাত হানে।

উপকূলজুড়ে এর আঘাতে এ পর্যন্ত ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের বেশিরভাগই ফ্লোরিডায়।

ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য আদেশ দেয়া হয়েছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার বাসিন্দাকে। তবে অনেকেই তা অমান্য করেন।

গভর্নর স্কট বলেন, মার্কিন কোস্ট গার্ড উপকূলে ১০টি মিশন চালিয়েছে। এতে অন্তত ২৭ ব্যক্তিকে উদ্ধার করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা অন্যতম শক্তিশালী এ ঝড়টি সেদিন স্থানীয় সময় দুপুরেই মেক্সিকো বিচ শহরের কাছে ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেলে আছড়ে পড়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, এটি প্রতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে জর্জিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে এখন তা নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিনসবরোর কাছে রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মাইকেলের ক্ষতি মোকাবিলায় চারটি অঙ্গরাজ্য— ফ্লোরিডা, অ্যালাবামা, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

আঘাত হানার সময় পাঁচ মাত্রার প্রায় কাছাকাছি শক্তি ধারণ করা মাইকেলের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ৯ ফুট পর্যন্ত উঁচু ঢেউ দেখা গেছে।

তীব্র বাতাস ও ঝড়ের তাণ্ডবে গোড়া থেকে উপড়ানো বাড়ি এবং ভয়াবহ তাণ্ডবের ছবি মিলেছে হেলিকপ্টার থেকে নেয়া সিএনএনের ভিডিও ফুটেজেও।

অসংখ্য গাছ পড়ে রয়েছে মেক্সিকো বিচের উত্তরপশ্চিমের শহর পানামা সিটিতে। ধসে পড়া ভবনের পাশাপাশি নৌকা ও বিদ্যুতের তার ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

দুই হাজার তিনশ বাসিন্দার শহর আপালাচিকোলাও তছনছ হয়ে গেছে। ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারের কারণে সেখানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র।

ধ্বংসস্তূপ ও বন্যার পানির কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানো সহজ হচ্ছে না।

নিরাপদে সরে যাওয়া বাসিন্দাদের এখনি বাড়ি না ফিরতেও অনুরোধ করেছেন গভর্নর স্কট। বিদ্যুতের তার ও অন্যান্য ধ্বংসস্তূপজনিত বিপদ নেই, কর্মকর্তারা এমনটা জানানোর পর বাড়িতে ফেরারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে আছড়ে পড়ার আগে মাইকেল মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতেও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ঘূর্ণিঝড়টির তাণ্ডবে নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও এল সালভাদরে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

১৯৬৯ সালে মিসিসিপি ও ১৯৩৫ সালে লেবার ডে-তে ফ্লোরিডায় আছড়ে পড়া ঝড়ের পর মাইকেলকেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রেকর্ড অনুযায়ী, এর আগে ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেলে চার মাত্রার কোনো ঝড় আঘাত হানেনি বলে জানিয়েছেন এনএইচসির আবহাওয়াবিদ ডেনিস ফেল্টজেন।

ঝড় মোকাবেলায় ন্যাশনাল গার্ডের আড়াই হাজার সদস্যকে মোতায়েন করার কথা আগের দিনই জানিয়েছিলেন ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট।

একশ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হতে পারে শঙ্কার কথা জানিয়ে এর ‘অকল্পনীয় ক্ষয়ক্ষতির’ব্যাপারেও সতর্ক করে দিয়েছিলেন তিনি।

মাইকেলের কারণে ফ্লোরিডা, আলাবামা, ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ার ৯ লাখেরও বেশি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

শক্তি হারিয়ে ঘণ্টায় ৫০ মাইল গতির বাতাস নিয়ে ঝড়টি এখন উত্তর পূর্ব দিকের জর্জিয়া অতিক্রম করে নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিনসবরোর কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে সর্বশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি)।

উপকূলের পানির উচ্চতা বাড়ায় উত্তর-পশ্চিম ফ্লোরিডা ও নর্থ ক্যারোলাইনাতে প্রাণঘাতি বন্যা আঘাত হানতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

হারিকেন ফ্লোরেন্সের পর সৃষ্ট বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই ক্যারোলাইনায় নতুন এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তুলবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ