২০ নভেম্বর ২০১৮

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফাঁস হওয়া ৬টি বড় ঘটনা

ছবি - সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ট্রাম্পের নামে বিভিন্ন তথ্য ফাঁস হতে থাকে। নারী কেলেঙ্কারি, বেফাঁস মন্তব্য, মিডিয়ার বিরেুদ্ধে বিষেদাগার, রাশিয়ার সাথে অবৈধ যোগাযোগসহ বিভিন্ন ঘটনায় তিনি প্রেসিডেন্ট থেকে খলনায়কে পরিণত হয়েছেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ছয়টি তথ্য ফাঁসের ঘটনাগুলো দেখে নেয়া যাক।

 

১. মাইকেল ফ্লিনের রাশিয়ার সাথে যোগাযোগ

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার একমাসের মধ্যেই আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে সরে যেতে হয়। তার বিরুদ্ধে রাশিয়ার সাথে অবৈধভাবে যোগাযোগ করার অভিযোগ উঠে।

গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশ পায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের আগে ফ্লিন টেলিফোনে আমেরিকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু ওই কথোপকথনের সব তথ্য হোয়াইট হাউজকে তিনি জানাননি।

ফ্লিন রুশ রাষ্ট্রদূতকে ওবামার আমলে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের শাসনামলে প্রত্যাহার করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এত বড় একটি নিরাপত্তা পদে থেকে রাশিয়ার মতো চিরশত্রুকে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের শামিল।পরে গোয়েন্দারা রাশিয়ার সাথে যোগাযোগের তথ্য পেলে তিনি এপদ ছাড়তে বাধ্য হন।

প্রথমে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে ফ্লিনের রাশিয়ান সরকারের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সিবিএস টেলিভিশনের একটি প্রোগ্রামেও এ ঘটনা অস্বীকার করেন।

কিন্তু পরে এঘটনা মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে যায়, পরবর্তীতে ট্রাম্পও স্বীকার করেন। স্বাভাবিকভাবেই এ ঘটনা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চরম অপমান বয়ে এনেছে।

 

২. আফ্রিকানদের নোংরা বলে সম্বোধন

ট্রাম্পের ফাঁস হওয়া অন্যতম একটি ঘটনা হল অভিবাসীদের ‘অশ্লীল ভাষায়’ গালাগাল। অভিবাসী আইন নিয়ে হোয়াইট হাউজে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক দলের সদস্যদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নোংরা মন্তব্য করেন যা ফাঁস হয়ে যায়।তিনি বলেন ‘ওসব নোংরা দেশের অভিবাসীদের কেন এখানে দরকার?’ ঐ বেঠকে উপস্থিত লোকজনের মতে, ট্রাম্প আফ্রিকান, এল সালভেদর ও হাইতিকে উদ্দেশ্য করে একথা বলেছেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, টাম্প তখন বলছিলেন কেন নরওয়ে বা তার মতো দেশ বাদ দিয়ে এসব দেশের মানুষ আমেরিকায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে!

এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর ট্রাম্প ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

 

৩.  ফায়ার এন্ড ফিউরি

ট্রাম্প প্রশাসন নিয়ে বিভিন্ন বই প্রকাশিত হয়েছে। আর ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু ট্রাম্পের ‘হাড়ির খবর’ নিয়ে বই প্রকাশ করে রীতিমত ঝড় তোলেছিলেন লেখক মাইকেল উলফ।

লেখক ট্রাম্পের ঘনিষ্টজনদের বিভিন্ন বক্তব্য ও কথোপকথন এই বইয়ের মাধ্যমে ফাঁস করেছিলেন।

এই বইয়ের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া তথ্যের কারণে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন ট্রাম্প ও তার প্রশাসন।

 

৪. মেক্সিকো ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে ট্রাম্পের আলাপ

২০১৭ সালের আগস্টে ওয়াশিংটন পোস্ট ট্রাম্পের দুইটি আলাদা কথোপকথনের রেকর্ড প্রকাশ করে যেখানে ট্রাম্প মেক্সিকো ও অস্ট্রেলিয়ার সরকার প্রধানদের সাথে রুঢ ভাষায় কথা বলেছেন।

ট্রাম্প মেক্সিকোর তখনকার প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতোকে মেক্সিকোর সীমান্তে দেয়ার নির্মাণের জন্য মেক্সিকোর উপর চাপ দেন। যাতে মেক্সিকো ঐ দেয়াল নির্মাণে অর্থ প্রদান করে। জবাবে নিয়েতো অস্বীকার করলে ট্রাম্প তাকে ধমক দেন।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টার্নবুলের সাথেও অভিবাসী আইন নিয়ে টেলিফোন আলাপে রূঢ আচরণ করেছিলেন।

 

৫. জেমস কমিকে বহিস্কার

২০১৭ সালের মে মাসে ট্রাম্প এফবিআই পরিচালক জেমস কমিকে বহিস্কার করেন।যিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন ও ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার সাথে অবৈধ যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত করছিলেন।

এর কিছুদিন পরেই ফাঁস হয়, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের বিরুদ্ধে তদন্ত থামাতে কমিকে অনুরোধ করেন ট্রাম্প।

 

৬. ট্রাম্প কিম বৈঠকের তথ্য প্রকাশ

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন তথ্য হোয়াইট হাউজ বা ওভাল অফিসের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যে  ফাঁস হচ্ছিল তা নয় খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম ব্যক্তি যিনি কিনা কিম জন উনের মতো ব্যক্তির সাথে বৈঠকের কথা টুইটারের প্রকাশ করে দেন।


আরো সংবাদ