২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে স্থাপনে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইমরান খান - ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি আশা করছেন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে শুরু হবে।
পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে ইসলামাবাদ যাওয়ার আগে তিনি এ মন্তব্য করলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দক্ষিণ এশিয়া সফরের প্রাক্কালে পম্পেও সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জালমে খলিলজাদ আফগানিস্তানে শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন ভূমিকা পালন করতে পারে বলে জানান।
ওয়াশিংটন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা তহবিল বাতিল করে দেয়ার কয়েকদিন পর পম্পেও পাকিস্তানের বিষয়ে আপোষমূলক এ মন্তব্য করেন।

ওই অঞ্চলে মার্কিন নীতির পক্ষে ইসলামাবাদ ‘সুস্পষ্ট পদক্ষেপ’ না নেয়ায় এই তহবিল বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র।
পম্পেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফর করছেন।
আফগান যুদ্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন এই অধ্যায় শেষের সময় এসেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রথমে পাকিস্তানে যাব। দেশটির নতুন নেতার সাথে সাক্ষাত করব। তার শাসন আমলে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে শুরু করতে চাই।’

পম্পেও বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের সামনেই কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী যে আমরা অভিন্ন স্বার্থ খুঁজে পাব এবং সেখানে আমরা একসঙ্গে আমাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারব।’
মার্কিন কর্মকর্তারা আফগান তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দেয়া, এমনকি তাদের সহায়তা করছে বলেও ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে।

উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর জন্য আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তান ভূখণ্ড অভয়ারন্যে পরিণত হয়েছে এবং সেখান থেকে তারা আফগানিস্তানে হামলা চালাচ্ছে বলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বরাবরই অভিযোগ করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের বিশ্বাস, পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি ও অন্য সামরিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে তালেবানের অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে আসছে। এভাবে তারা আফগানিস্তানে ভারতীয় প্রভাব ঠেকাতেও চেষ্টা চালাচ্ছে।

আরো পড়ুন :

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কাল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি হতে পারে
রয়টার্স

আগামীকাল ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে ‘টু প্লাস টু’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে ড্রোন বিক্রয়, যোগাযোগ ও উপগ্রহের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিনিময় নিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বৈঠকে বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষাবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ এশিয়াসহ এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির বিরুদ্ধে পাল্টা শক্তি হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

‘টু প্লাস টু’ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সাথে আলোচনার টেবিলে বসবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। সম্মেলন উপলক্ষে এক দিন আগেই নয়াদিল্লি পৌঁছাবেন পম্পেও এবং ম্যাটিস।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উভয় দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠানের ব্যাপারে একমত হওয়ার পর এবারই প্রথম এ ধরনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও এর আগে দেশ দুটির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক দুইবার বাতিল হয়। উভয় দেশের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনটি শুধু প্রতীকীভাবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুটি গণতান্ত্রিক দেশ এর মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের উন্নয়নও ঘটতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ মেরিন জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন কাজে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির পথ খুঁজে বের করতে টু প্লাস টু সম্মেলন উভয় দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।’

পেন্টাগনের এশিয়াবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা র্যানডাল স্ক্রাইভার গত সপ্তাহে বলেন যে, উভয় দেশের মধ্যকার এ সম্মেলনের মাধ্যমে একগুচ্ছ ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে। অবশ্য চীনের ক্রমবর্ধমান জোরালো অগ্রগতির কারণে নিজেদের অভিন্ন স্বার্থগুলো নিশ্চিত রাখতে এক দশক ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত পরস্পরের সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দৃঢ় করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভারত দীর্ঘ দিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। পরমাণু শক্তিধর এই দেশ দুটির সেনারা গত বছর পাশের ভুটানের ডোকলাম সীমান্তে টানা ১০ সপ্তাহ মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করেছিল।

চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ডের নাম পরিবর্তন করে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসগরীয় কমান্ড রাখে। এতেই বোঝা যায়, পেন্টাগনের কাছে ভারতের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অন্য দিকে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে ‘কমিউনিকেশনস কম্প্যাটিবিলিটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাগ্রিমেন্ট’ (কমকাসা) নামের এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সাথে দীর্ঘ দিন ধরেই এই চুক্তিটি স্বাক্ষরের ব্যাপারে আগ্রহী। কমকাসা স্বাক্ষরিত হলে অত্যাধুনিক গার্ডিয়ান ড্রোনসহ ভারতে সংবেদনশীল বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রির দরজা ওয়াশিংটনের জন্য উন্মোচিত হবে। উভয় দেশের আইনজীবীরা এই চুক্তির খসড়া তৈরি করছেন।


আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তির মূল বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। কিন্তু ভাষার ব্যবহার নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে ‘টু প্লাস টু’ সম্মেলনে চুক্তিটি হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে মনে করে। সেজন্য ওয়াশিংটনের সাথে মৌলিক কিছু চুক্তি ভারতের করা উচিত বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। আর চুক্তি হলেই কেবল ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এনক্রিপ্টেড কমিউনিকেশন অর্থাৎ গোপন বা স্পর্শকাতর যোগাযোগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় করতে পারবে। কমকাসা স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তাসংক্রান্ত যোগাযোগ বাড়বে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যোগাযোগের অত্যাধুনিক সরঞ্জাম কেনারও সুযোগ পাবে। তবে ভারতের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এসব সরঞ্জাম কিনলে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর গোপন যোগাযোগের বার্তা মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে চলে যেতে পারে।

অন্য দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরেই ভারতের মতো বড় একটি প্রতিরক্ষা বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে আগ্রহী। বর্তমানে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র জোগানদাতা দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত এক দশকে ওয়াশিংটন নয়া দিল্লিকে প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

 


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme