২১ নভেম্বর ২০১৮

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ট্রাম্প,অভিশংসন চান ৪৯ ভাগ মার্কিনি

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ট্রাম্প,অভিশংসন চান ৪৯ ভাগ মার্কিনি - সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ নাগরিকের অভিমত, প্রেসিডেন্ট হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তার বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা উচিৎ- এই অভিমত ৪৯ ভাগ মার্কিনির। জরিপের ফল অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা এক নতুন মাত্রা লাভ করেছে।

সম্প্রতি এক জরিপে উঠে এসেছে এসব তথ্য। শুক্রবার ওয়াশিংটন পোস্ট এবং এবিসি নিউজ যৌথভাবে এ জনমত জরিপের ফল প্রকাশ করে। গত ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে অংশ নেন ১ হাজারের বেশি মানুষ।

জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন মাত্র ৩৬ শতাংশ মার্কিনি। ৫৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর দাবি, দেশের বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। 

সম্প্রতি দুর্নীতির দায়ে বিচারাধীন সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী পল ম্যানাফোর্টের বিচার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করায় আবারো প্রশ্নবিদ্ধ তার ভূমিকা।

ব্যর্থ হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আরব ন্যাটো
আলজাজিরার বিশ্লেষণ, ১২ আগস্ট ২০১৮

ইরানের সাথে পরমাণু ইস্যুতে চুক্তি করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সেই চুক্তি থেকে নিজেদের বের করে নিয়ে যায়। কিন্তু তারপরও মার্কিন শর্ত মেনেই আলোচনায় আসার জন্য বাধ্য করতে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। 

ইতোমধ্যেই ইরানের ওপর প্রথম দফায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় তেল খাতে আরেকটি বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে নভেম্বরের শুরুর দিকে। এখনই ইরানের ওপর বড় আকারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দেশটির মুদ্রার মান নেমে গেছে, ইউরোপীয় দেশগুলো তেহরান ত্যাগ করছে, তেল ক্রেতা দেশগুলো অন্য বিক্রেতার সন্ধান শুরু করেছে। ট্রা¤প প্রশাসন এটি অবশ্যই জানে যে, বৃহত্তর ঐক্য ছাড়া কোনো দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তেমন কার্যকরী হয় না। এ ধরনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা সাধারণত ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সফল হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে। এ অবস্থায় ট্রাম্প নতুন একটি ধারণা নিয়ে এসেছেন, তা হচ্ছে তথাকথিত ‘আরব ন্যাটো’।

ইরানের বিরুদ্ধে কয়েকটি আরব দেশকে নিয়ে ন্যাটো জোটের আদলে একটি সামরিক ও রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। সম্ভাব্য এই জোটের নাম হতে পারে মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স বা মেসা। এতে যুক্ত হতে পারে উপসাগরীয় ছয় দেশসহ মিসর ও জর্দান। ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এ জোটের ঘোষণা আসতে পারে। 

প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে ট্রাম্প আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে তার মিত্রদের আরো শক্তিশালী করার আকাক্সক্ষা থেকেই এই জোটের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অর্থটিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বরং এই জিনিসটিই এ ক্ষেত্রে সাফল্যের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। মূলত ট্রাম্প ইরানের মতো দেশ, আইএসআইএলের মতো রাষ্ট্রবিহীন দল বা উগ্র গোষ্ঠীগুলো থেকে নিরাপত্তার জন্য প্রাথমিকভাবে এ জোটের ধারণা উপস্থাপন করে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় এ ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা লক্ষ করা যেত। তখন মিত্র দেশগুলোকে হুমকি থেকে রক্ষা এবং তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হতো। কিন্তু সে সময়েও এ ধারণা সেভাবে কাজ করেনি। স্নায়ুযুদ্ধের পর এ ধরনের ব্যবস্থা আরো কমে যায়। 

অতীত অভিজ্ঞতা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এ ধরনের একটি আঞ্চলিক জোট তৈরির চেষ্টা চালিয়েছিল। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঠেকাতে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থান উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যে কমিউনিজমের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু আরব-ইসরাইল যুদ্ধ এবং ইউরোপিয়ান উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে আরবদের সংগ্রাম এ বিষয়টিকে কঠিন করে তোলে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই ধারণা বাস্তবায়নে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) ও সাউথ-ইস্ট এশিয়া ট্রিটি অর্গানাইজেশন (সিয়াটো) বাস্তবায়ন করে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঘিরে ফেলতে তৈরি করার কথা ছিল মিডল ইস্ট কমান্ডের। কিন্তু পরে তা মিডল ইস্ট ডিফেন্স অর্গানাইজেশন স্কিমের কারণে বাদ দেয়া হয়। আরো পরে সেটির পরিবর্তে তুর্কি, ইরান, ইরাক, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যকে নিয়ে গঠিত হয় ‘বাগদাদ প্যাক্ট’।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দেয়নি। বরং প্রত্যেকটি দেশের সাথে পৃথক পৃথক চুক্তির প্রস্তাব করে ওয়াশিংটন। কিন্তু এসব সংস্থার গঠনের পেছনে যে মূল উদ্দেশ্য ছিল, সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুপ্রবেশ ও কমিউনিজম ঠেকানোÑ উভয়টিই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। মস্কো সিরিয়া ও মিসরের সাথে ঘনিষ্ঠ চুক্তি করেছে, ইরাকের সঙ্গেও তারা যুক্ত রয়েছে। তেমনি অনেক দেশের সাথে বর্তমান রাশিয়ার সম্পর্ক অনেক গভীর। এর কারণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এর অন্তর্নিহিত বিষয়টিই বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। মূলত ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে ভিন্ন কিছু চিন্তা করিয়েছে। একই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হতে যাওয়া আরব ন্যাটোও ব্যর্থ হবে। 
বাধাগুলো কী

এ ধরনের সংস্থা বা জোট গঠনোর ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সর্বাগ্রে প্রয়োজন, তা হলো সব সদস্যের নিরাপত্তার প্রতি সমান হুমকি। অন্যথায় কোনোভাবেই এটি যৌথ নিরাপত্তা হতে পারে না। আরব ন্যাটোতে দুই ধাপে এ ধরনের সমস্যা রয়েছে। একটি হচ্ছে আন্তঃরাষ্ট্রীয়, দ্বিতীয়টি হচ্ছে রাষ্ট্র-সমাজ পর্যায়ে। এই জোটের বাইরে থেকে যতটা না নিরাপত্তার হুমকি আসে, তার চেয়ে বেশি আসে জোটের সদস্য দেশগুলো থেকেই। এর পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন কাতারে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের হামলায় বাধা দেন। যৌথ নিরাপত্তা ধারণায় সাধারণত ‘একে সবার জন্য, সবাই একের জন্য’। এক সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা মানেই সব সদস্যের বিরুদ্ধে হামলা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিষয়টি হচ্ছে পুরো উল্টো। 

আর রাষ্ট্র-সমাজ স্তরে, শাসকবর্গ আর সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে হুমকির অনুভূতিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। যেমন, অনেক আরব মনে করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের জন্য গুরুতর হুমকি। কিন্তু আবার বিরাটসংখ্যক আরবের মতামত এর উল্টো, তারা বিশ্বাস করে ইরানের চেয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রই তাদের জন্য বড় হুমকি। আরব ইনডেক্সের দেয়া তথ্যানুযায়ী ইরানকে বড় শত্রু মনে করে শুধু সৌদি আরব ও কুয়েত। আরবের অন্য দেশগুলো মনে করে, এ ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে। আবার অনেক আরব মনে করে এগুলোর চেয়ে তাদের জন্য বড় সমস্যা দারিদ্র্য দূরীকরণ, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্য।


আরো সংবাদ