২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন মেলানিয়া!

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন মেলানিয়া! -

সামাজিক মাধ্যমের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সাবেক সিআইএ পরিচালক জন ব্রেনানকে নিয়ে ট্যুইটারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিষোদগারের দিনে মেলানিয়া মন্তব্য করেছেন, সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার রুখতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রশ্ন তুলেছে, মেলানিয়ার এই মন্তব্য ট্রাম্পের ট্যুইটার বিষোদগারের প্রতিক্রিয়া কিনা। কারণ, এর আগেও সরাসরি কিংবা পরোক্ষে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এই মার্কিন ফার্স্ট লেডি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্যুইটারে জন ব্রেনানকে দেশের ইতিহাসে সবচেয় জঘন্য সিআইএ পরিচালক অভিহিত করেন। তাকে ‘রাজনীতির টাট্টু ঘোড়া’ আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। একইদিনে আমেরিকার মেরিল্যান্ডে সাইবার সন্ত্রাসের উপর একটি ফেডারেল কনফারেন্সে বক্তব্য রাখছিলেন মেলানিয়া। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, চলুন দেখি, কিছু বয়স্ক মানুষের চেয়ে বেশিরভাগ শিশু সামাজিক মাধ্যমের সুবিধা ও বিপদ সম্পর্কে বেশি সচেতন। তিনি বলেন, ‘আজকের সমাজে সামাজিক মাধ্যম আমাদের শিশুদের জীবনের একটি অনিবার্য অংশ। একে যেমন অনেক ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করা যায়, তেমনই ভুল ব্যবহারে এটা ধ্বংসাত্মক ও ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।’

মেলানিয়া এমন সময় এই মন্তব্য করলেন যখন তার স্বামী ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শত্রুদের বিরুদ্ধে ট্যুইটারে নিয়মিত বিষাদাগার করছেন। সম্প্রতি রবার্ট মুলারকেও ‘অসম্মানিত এবং নিন্দিত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। তবে মেলানিয়া ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে সরাসরি প্রেসিডেন্ট বা তাঁর ট্যুইটারের আক্রমণাত্মক ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো মেলানিয়ার বক্তব্যে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেছে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের শিরোনামে লিখেছে, ট্রাম্পের ধারাবাহিক ট্যুইটার আক্রমণের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমের ‘ভয়াবহ ক্ষমতার’ নিন্দা। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ট্রাম্প যখন ট্যুইটার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন, মেলানিয়া ঠিক সেই সময়ে সামাজিক মাধ্যমের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন। নিউ ইয়র্ক পোস্ট লিখেছে, ব্রেনানকে নিয়ে ট্রাম্পের ট্যুইটের কয়েক ঘণ্টার মাথায় সামাজিক মাধ্যমের সমালোচনা করলেন মেলানিয়া।

সম্মেলনে মেলানিয়া বলেছেন, বেশিরভাগ শিশুই বড়দের চেয়ে সামাজিক মাধ্যমের সুবিধা ও ফাঁদ সম্পর্কে বেশি সচেতন। কিন্তু তারপরও শিশুদের নিরাপদ ও সফল অনলাইন অভ্যাসের জন্য তথ্য ও উপায়সহ আমরা যা যা করতে পারি প্রাপ্তবয়স্কদের অবশ্যই তাই করতে হবে। তবে মেলানিয়া ট্রাম্প তার বক্তব্যে সরাসরি প্রেসিডেন্ট বা তার ট্যুইটারের আক্রমণাত্মক ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। বক্তব্যের সময় মেলানিয়া ডিজিট্যাল পণ্যের জন্য মাইক্রোসফটের একটি সম্মেলনে একদল শিক্ষার্থীকে দেখে বিমোহিত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও উপস্থিত অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন। মেলানিয়া জানান, মানবিক বোধ আর উন্মুক্ত যোগাযোগের মাধ্যমে সন্ত্রাস মোকাবিলায় তাদের দৃঢ় মানসিকতা তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, ওই শিশুদের ধারণা ও উদ্বেগের বিষয়গুলো শুনে আমার মনে হয়েছে, বয়স্করা এই জটিল বিষয়ে পথ নির্দেশ করতে তাদের আরো ভালোভাবে সাহায্য করতে পারবে। তরুণদের সাইবার সন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষার লড়াইয়ে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে মেলানিয়া বলেন, শিশুদের নিরাপদ অনলাইন ব্যবহারের অভ্যাস তৈরির জন্য তথ্য ও উপায়সহ আমরা যা যা করতে পারি প্রাপ্তবয়স্কদের অবশ্যই তাই করতে হবে।

এর আগেও ট্রাম্পবিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছেন মেলানিয়া। মার্কিন ক্রিড়াবিদ লি ব্রোন জেমসকে অপমান করে ট্যুইট করার পর মেলানিয়া জেমসের প্রশংসা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন। এছাড়া গত জুন মাসে ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানকে তাদের থেকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিলেও বিপরীত মন্তব্য করেছিলেন মেলানিয়া। তার মুখপাত্র বলেছিলেন, ফার্স্ট লেডি পরিবার থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করা দেখতে ঘৃণা করেন।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme