২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাশিয়ার মহাকাশ অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি

রাশিয়ার মহাকাশ অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি - ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশে ব্যবহারের জন্য রাশিয়ার নতুন নতুন অস্ত্র ও প্রযুক্তি তৈরির বিষয়ে গত মঙ্গলবার গভীর উদ্বেগ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি সম্প্রতি রাশিয়ার পাঠানো একটি পর্যবেক্ষক উপগ্রহ ‘অস্বাভাবিকভাবে কাজ করছে’ বলেও জানিয়েছে দেশটি। 

উল্লেখ্য, মহাকাশেই উপগ্রহ ধ্বংস করে দিতে সক্ষম রাশিয়ার ‘মোবাইল লেজার সিস্টেম’ নামক প্রযুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের মূলে রয়েছে। মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করার লক্ষ্যে নতুন চুক্তি করতে নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি কনফারেন্সের আয়োজন করে জাতিসঙ্ঘ। ‘কনফারেন্স অন ডিজআর্মামেন্ট’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, যাচাই ও সত্যতা নিরূপণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইলিম ডি এস পবলেট বলেন, মহাকাশে রাশিয়ার পাল্টা অস্ত্র প্রতিযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই বিরক্তিকর।

অবশ্য, কনফারেন্সে যোগ দেয়া রাশিয়ার প্রতিনিধি পবলেটের মন্তব্যকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গত ফেব্রুয়ারি মাসে জেনেভা ফোরামে বলেন, মহাশূন্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধের বিষয়টিকে তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং তা হতে হবে এক দশক আগে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে প্রণীত যৌথ খসড়া চুক্তির আলোকে। কিন্তু মার্চ মাসেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ‘পেরেসভেট মিলিটারি মোবাইল লেজার সিস্টেমসহ মহাকাশে ব্যবহারযোগ্য ছয়টি নতুন ও বৃহৎ অস্ত্র উন্মোচন করেন বলে জানান পবলেট। তিনি আরো বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন আরো বেশি পরিষ্কার যে, রাশিয়ার কথা ও কাজের মধ্যে কোনো মিল নেই।’

গত বছরের অক্টোবর মাসে ‘স্পেস অ্যাপারেটাস ইন্সপেক্টর’ নামে মহাকাশে একটি পর্যবেক্ষক উপগ্রহ পাঠায় রাশিয়া। এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে পবলেট বলেন, ‘এই উপগ্রহটি কক্ষপথে বসানো হয়েছে; আমরা শুধু এটাই জানি।’ তিনি বলেন, রাশিয়ান উপগ্রহসহ আগেকার অন্যান্য সব উপগ্রহের তুলনায় কক্ষপথে এই পর্যবেক্ষক উপগ্রহটির কার্যক্রম খুবই অসঙ্গতিপূর্ণ।

এই অদ্ভুত কার্যক্রম পরিচালনাকারী উপগ্রহের বিষয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। জেনেভায় রাশিয়ার সিনিয়র কূটনীতিক আলেক্সান্ডার দেনেকোও পবলেটের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন। পবলেটের বক্তব্য সন্দেহ ও কল্পনাপ্রসূত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেনেকো আরো বলেন, ‘সিনো-রাশিয়ান খসড়া চুক্তিতে সংশোধনের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রস্তাব দেয়নি। আমরা দেখছি রাশিয়ার ব্যাপারে আমেরিকার পক্ষ থেকে মারাত্মক উদ্বেগ জানানো হচ্ছে। আমেরিকান জনগণের ১০০ ভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি চুক্তি করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরো সক্রিয় হওয়া উচিত। কিন্তু তারা এই গঠনমূলক কাজটি করছে না।’

আরো পড়ুন :

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নির্ভরযোগ্যতা হারাচ্ছে মার্কিন ডলার
ডেইলি সাবাহ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে মার্কিন ডলারের বিকল্প অন্য কোনো মুদ্রা খোঁজার বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই ডলারের আধিপত্য হ্রাস করবে। অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের বিকল্প খোঁজার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও রাশিয়ার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এ বিষয়টি সামনে আসে। ফলে বিনিময় মাধ্যম হিসেবে মার্কিন ডলার বাতিল করতে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বাজারগুলোতে অন্য দেশের মুদ্রাগুলোর শেয়ার বৃদ্ধি করার দাবি উঠেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মাথায় রেখে বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে তুরস্ক ও রাশিয়া সম্প্রতি স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত শনিবার দেয়া এক বক্তৃতায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেন, চীন, রাশিয়া, ইরান ও ইউক্রেনের মতো শীর্ষ বাণিজ্যিক মিত্র দেশের সাথে অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন করতে প্রস্তুত হচ্ছে তুরস্ক। তিনি আরো বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথেও একইভাবে লেনদেন করতে প্রস্তুত রয়েছে তার দেশ। এ দিকে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বক্তব্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। গত রোববার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বাসভবন ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র বলেন, তুরস্কের সাথে বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলার বা ইউরোর পরিবর্তে জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার করবে মস্কো। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে জাতীয় মুদ্রা কিভাবে ব্যবহৃত হবে, তা রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে অনেকবারই আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের বিষয়টি রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা করে এসেছে। প্রেসিডেন্ট পুতিনও বারংবার এ ধরনের সম্ভাব্যতার কথা বলেছেন। অবশ্যই এটা খুবই কঠিন একটি বিষয় এবং কঠিন হিসাব। কিন্তু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে আমরা এ বিষয়টিই বাস্তবায়ন করতে চাই এবং রাশিয়া-তুরস্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এ বিষয়টিই বহুবার আলোচনা করা হয়েছে।’

ট্রেজারি ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্চ ও এপ্রিল এ দুই মাসের মধ্যে বস্তুত রাশিয়া মার্কিন সরকারের বেশির ভাগ বন্ড বিক্রি করে দিয়েছে। রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী অ্যান্টন সিলুয়ানভ বলেন, ‘নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আমেরিকান সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া।’ তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অর্থ পরিশোধের ব্যাপারে মার্কিন ডলার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। তেল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের স্থলে জাতীয় মুদ্রা ব্যবহারের সম্ভাবনা আছে বলেও আভাস দেন এ মন্ত্রী।


আরো সংবাদ