১৯ নভেম্বর ২০১৮

মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম মুসলিম নারী প্রতিনিধি রশিদা তালিব

মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম মুসলিম নারী প্রতিনিধি রশিদা তালিব - ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রশিদা তালিব। ইতোমধ্যে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন।
৪২ বছর বয়সী রশিদা তালিব মিশিগানে কংগ্রেসের ১৩তম আসন থেকে মঙ্গলবারের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। স্থানীয় দৈনিক ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস জানিয়েছে, তিনি ৩৩.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রান্ডা জোন্স ২৮.৫ শতাংশ ও বিল উইল্ড ১৪.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। কোনো রিপাবলিকান কিংবা তৃতীয় কোনো প্রার্থী প্রাথমিক নির্বাচনে যাননি। কাজেই এমনটি বলা যায় যে, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হতে যাচ্ছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর কংগ্রেস সদস্য হিসেবে তার দুই বছর মেয়াদি দায়িত্ব আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হবে।

এ ছাড়া তিনি জন কনিয়ারসের মেয়াদের শেষ দুই মাসের দায়িত্ব পালন করবেন। যৌন হয়রানি ও স্বাস্থ্যগত কারণে গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তখন জন কনিয়ারস ডেট্রয়েট রেডিওকে বলেছিলেন, আমি পদত্যাগ করছি। আমি চাই, মেয়াদের বাকি সময় আমার ছেলে তৃতীয় জন কনিয়ারস এ দায়িত্ব পালন করবেন।

আরো পড়ুন :

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের : পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি মস্কোর
গার্ডিয়ান

যুক্তরাজ্যের সলসবারিতে সাবেক রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর বিষ প্রয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এ ঘোষণা দেয়। রাশিয়া এর বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। 

মার্কিন মুখপাত্র স্টুয়ার্ট নাওয়ের্ট বলেন, রাসায়নিক বা জৈবিক অস্ত্র ব্যবহারের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে রাশিয়া এই কাজ করেছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া তার নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই এই মারাত্মক রাসায়নিক বা জৈবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এ পদপেকে স্বাগত জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। যুক্তরাজ্য সরকারের পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে জানায়, সলসবেরির রাস্তায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের মধ্য দিয়ে রাশিয়া পরিষ্কারভাবে উত্তেজক, বেপরোয়া আচরণের বার্তা দিয়েছে। 

নিষেধাজ্ঞায় যা থাকছে
রাশিয়ার সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক উপাদান ও এ-সংক্রান্ত প্রযুক্তি রফতানির ওপর নতুন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। ২২ আগস্ট থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে গ্যাস টাইবাইন ইঞ্জিন, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট এবং বিমান চালনা সরঞ্জাম। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাশিয়ায় রফতানি করা পণ্যের অর্ধেকের বেশিই সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ। এ রফতানি পণ্যের মূল্যমান কোটি কোটি ডলার। দেশটির রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধ বন্ধ আইনের অধীনে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যদি রাশিয়া ৯০ দিনের মধ্যে রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র ব্যবহার পরিত্যাগ এবং পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার প্রদানের ব্যাপারে কোনো ঘোষণা না দেয়, তাহলে তাদের এ নিষেধাজ্ঞা কূটনৈতিক সম্পর্ক, সাধারণ বাণিজ্য, ব্যাংক ঋণ ও বিমান অবতরণের অধিকারের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে।

মস্কোর প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ খবরের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। দেশটির আইনপ্রণেতারা বলেন, রাশিয়াও এ ইস্যুতে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। এতে রকেটসহ বিভিন্ন ধরনের কাচামাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। জাতিসঙ্ঘে রাশিয়ার উপ স্থায়ী-প্রতিনিধি দিমিত্রি পলিয়ানস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের হাস্যকর নাটক চলছেই। কোনো প্রমাণ, কু, যুক্তি কিচ্ছু নেই। তাদের কেবল একটিই নিয়ম, সব কিছুতে রাশিয়াকেই দোষারোপ করা, তা যতই হাস্যকর, যুক্তিহীন বা ভুয়া হোক না কেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এ সময় ‘ইউনাইটেড স্যাঙ্কশন্স অব আমেরিকা বলেও বিদ্রুপ করেন। রাশিয়ার আরেকজন পার্লামেন্ট সদস্য যুক্তরাষ্ট্রকে পুলিশি রাষ্ট্র বলে অভিহিত করেন। 

এদিকে রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা রিয়া নভস্তি নিউজ এজেন্সি রুশ পার্লামেন্ট দুমার আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য লিওনিড সøুসকির বরাত দিয়ে জানায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রে আরডি-১৮০ রকেট ইঞ্জিন সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। তাছাড়া মার্কিন প্রশাসনকে আভাস দেয়া হয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞার ফলে মহাকাশ গবেষণা প্রকল্প এবং উড়োজাহাজ পরিচালনায় নিরাপত্তাবিষয়ক ইস্যুতে সহযোগিতা ও বিদেশী সহায়তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ঘটনার শুরু
গত ৪ মার্চ যুক্তরাজ্যের সলসবারি শহরের একটি বিপণিকেন্দ্রে বাইরে বেঞ্চিতে সের্গেই স্ক্রিপাল (৬৬) ও তার মেয়ে ইউলিয়া স্ক্রিপালকে (৩৩) অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায়, তাদের দু’জনের ওপর নার্ভ এজেন্ট (বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস) প্রয়োগ করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্য শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, রাশিয়ার গুপ্তচরেরাই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর ওই গ্যাস প্রয়োগ করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-ও নভিচক নামের এই নার্ভ এজেন্ট রাশিয়ার তৈরি বলে দাবি করেন। তবে এ বিষয়ে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে আসছে মস্কো। এ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চরমে পৌঁছে।

থেরেসা মে ৪ মার্চের ওই ঘটনাকে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে রাশিয়ার বেআইনিভাবে শক্তি প্রয়োগ বলে উল্লেখ করেন। তিনি রাশিয়ার কাছ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি ব্যাখ্যা চান। কিন্তু রাশিয়া এর ব্যাখ্যা না দিলে ২৩ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। পরে রাশিয়াও যুক্তরাজ্যের ২৩ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। এ কূটনীতিক বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের অনেক দেশ। সের্গেই স্ক্রিপাল একসময় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্নেল ছিলেন। ২০০৬ সালে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ওঠে। রাশিয়ায় তার ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। এরপর ২০১০ সালে ১০ জন মার্কিন গুপ্তচরের বিনিময়ে স্ক্রিপাল রাশিয়ার হাত থেকে মুক্তি পান। ওই বছরই স্ক্রিপাল যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেন।


আরো সংবাদ