২১ নভেম্বর ২০১৮

চাপ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর, বেকায়দায় ট্রাম্প প্রশাসন

চাপ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর, বেকায়দায় ট্রাম্প প্রশাসন - সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ অবস্থায় ইরান থেকে তেল আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প ভাবনার জন্য আমেরিকার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। চতুর্মুখী চাপে অনেকটা বেকায়দায় আছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এরইমধ্যে চীন, ভারত ও তুরস্ক ইরান থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। জাপানও বলেছে, ইরান থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রখার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছে। এসব দেশের বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে না। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ইরানের তেল বিক্রির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা রয়েছে। আমেরিকা বলেছে, বিশ্বের কোনো দেশ ইরানকে তেল বিক্রি করতে দেয়া হবে না।

কিন্তু তেলের বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে এবং প্রতিদিন ২৪ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি করা হলে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত যে, চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না ইরান এবং দেশটিকে চাপ দিয়ে কোনো কিছু আদায় করা যাবে না। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর ল্যাভরভ একথা বললেন।   

নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে আরো বলেন, ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর  মধ্যে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমেরিকা জাতিসংঘের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের কঠোর নিন্দা করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে সমঝোতা পরিপূর্ণভাবে মেনে চলা হচ্ছিল। এ ধরনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অর্জনকে আন্তর্জাতিক সমাজের ধ্বংস করা  উচিত হবে না। ল্যাভরভ আরো বলেন, পরমাণু সমঝোতা রক্ষার বিষয়ে মস্কো সব রকমের প্রচেষ্টা চালাবে।

ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে চীন এবং রাশিয়া। একইসাথে তেহরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে দেশ দু'টি। ইরানের সাথে ব্যবসা করলে পরিণাম ভোগ করতে হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দেয়ার পর চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া এলো।

তেহরানের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল প্রসঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চীন সব সময় একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধীতা করে আসছে। বেইজিংয়ের সুসঙ্গত অধিকার রক্ষা করা হবে বলে বিবৃতিতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, ইরানের সাথে চীনের বাণিজ্যিক সহযোগিতার পথ খোলা রয়েছে এবং এ সহযোগিতা স্বচ্ছ, যৌক্তিক, আইনগত এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিয়ম নীতির মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।    

 ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের একতরফা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ‘গভীর হতাশা’ প্রকাশ করে রাশিয়া বলেছে, মস্কো অবশ্যই ইরানের পরমাণু সমঝোতা বাস্তাবয়ন করবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তেহরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার মাধ্যমে আমেরিকা জাতিসঙ্ঘের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে এবং তাদের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী।

ইউরোপের কোনো কোম্পানী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়ে ইরানের সাথে ব্যবসা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর এবার পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনির উপদেষ্টা নাথালি টোসি ব্রিটেনের বিবিসি রেডিওকে গত সোমবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যদি ইউরোপের কোনো কোম্পানি আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা অনুসরণ করে তাহলে তাদের ওপরও পাল্টা অবরোধ দেয়া হবে।

তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ মাত্রার অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সোমবার ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ২০১৫ সালে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সাথে ইরানের পরমাণু সমঝোতা সই হওয়ার পর তেহরানের ওপর থেকে তুলে নেয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল করেন  ট্রাম্প। গত ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার তিন মাস পর তেহরানের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন তিনি।  

মঙ্গলবার ভোরে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড তেহরানের ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞাকে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ মাত্রার এবং কঠোর হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যারা ইরানের সাথে ব্যবসা করবেন তারা আমেরিকার সাথে ব্যবসা করতে পারবেন না। আমি কেবল বিশ্ব শান্তির আহ্বান জানাচ্ছি আর কিছুই নয়। এরপরই ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হলো।

 


আরো সংবাদ