১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

এমএইচ৩৭০ হারিয়েছে কোথায়?

এমএইচ৩৭০ হারিয়েছে কোথায়? - ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ সেই ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর অনুসন্ধান অভিযানে কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। নির্ধারিত দিনে এর শেষ অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রকাশ পেলে রহস্যময় এ ফ্লাইটের কোনো পজেটিভ তথ্য না পেয়ে হতাশ হয়েছে যাত্রীদের পরিবার। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে গত ২০ জুলাই মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোকে সোমবার (৩০ জুলাই) এমএইচ৩৭০-এর অনুসন্ধান অভিযানের রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন। সে হিসাবে এক হাজার ৫০০ পৃষ্ঠার অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রকাশ করে দেশটির সরকারি তদন্তদল। তাতে এর কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে ফ্লাইটটির অনুসন্ধানে নিয়োজিত তদন্ত কর্মকর্তা ড. কুক সো চুন বলেছেন, প্রকাশিত এ রিপোর্ট চূড়ান্ত নয়। চূড়ান্ত রিপোর্ট আমরা একা তৈরি করব না। অস্ট্রেলিয়াসহ আটটি দেশ মিলে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করে প্রকাশ করা হবে।

তিনি রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের জন্য ঐকমত্যে পৌঁছেছি। তদন্তদলের অগ্রগতিও অনেক ছিল। তাই আমরা বিষয়টি নিয়ে যা-ই পাই না কেন নিশ্চিত করে প্রকাশ করতে পারব। এর আগে ফ্লাইটটির সন্ধান না পেয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বেসরকারি অর্থায়নে শুরু করা অনুসন্ধান।

এ ছাড়া ফ্লাইটটির সন্ধানে ৯০ দিনের জন্য ভারত মহাসাগরের দক্ষিণের ৪৬ হাজার ৩০০ মাইল গভীরে একটি বিশাল এলাকায় জাহাজ নিয়ে অভিযান চালিয়েছিল মার্কিনভিত্তিক কোম্পানি ‘ওশিন ইনফিনিটি’। কিন্তু তারা এটির খোঁজ পায়নি এবং সে সময়ে মালয়েশিয়া সরকার বলেছিল, এর অনুসন্ধান সমাপ্ত, এ নিয়ে আর নতুন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করারও পরিকল্পনা নেই। তারপরও আবার অনুসন্ধান শুরু করেছিল, যার রিপোর্ট প্রকাশ পেল গতকাল সোমবার।

এমএইচ৩৭০’কে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় অ্যাভিয়েশন অন্তর্ধান। ২০১৪ সালের ৮ মার্চ দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বেইজিং যাওয়ার উদ্দেশ্যে ১২ জন ক্রু ও ২২৭ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করেছিল মালয়েশীয় এয়ারলাইন্স পরিচালিত বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর এ প্লেনটি। এর ঘণ্টাখানেক পরেই এটি আকাশে হারিয়ে যায়। এ পর্যন্ত এর কোনো সন্ধান মেলেনি। কোথাও কোনো ধ্বংসাবশেষও পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন পদ্ধতিতে অনুসন্ধান তৎপরতা অব্যাহত।

প্লেনটিতে চীনা যাত্রী ছিলেন ১৫৩ জন এবং ৩৮ জন মালয়েশিয়ান। এ ছাড়াও ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড, ইউক্রেন, রাশিয়া, তাইওয়ান ও নেদারল্যান্ডসের যাত্রী ছিলেন এ ফ্লাইটে। আর ১২ জন ক্রু যারা সবাই মালয়েশিয়ারই ছিলেন। এ বিষয়ে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, সম্ভবত ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাংশে প্লেনটি আকাশ থেকে পড়ে যায় এবং এর যাত্রীরা কেউ বেঁচে নেই।

আরো পড়ুন :

আনোয়ারকে পছন্দ করি বা না করি তাকে বিশ্বাস করতে হবে : মাহাথির
সিএনএন

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, আনোয়ার ইবরাহিম সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত মতামত পাকাতান হারাপান কর্তৃক গৃহীত উত্তরাধিকার পরিকল্পনার পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন শেষ পর্যন্ত তাকে তার বর্তমান পদ ছেড়ে দেয়া উচিত।

মাহাথির বলেন, ‘আমি তাকে পছন্দ করি বা না করি, আমাকে তার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আমি এখানে (প্রধানমন্ত্রী পদে) সব সময় থাকতে আসিনি।’ মাহাথির কর্তৃক ১৯৯৮ সালে আনোয়ারকে নাটকীয়ভাবে পদচ্যুত করার ঘটনা দেশটিতে সংস্কার আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি তার সাবেক ডেপুটির সাথে শান্তিচুক্তি করেন এবং উভয় নেতাই মিত্র জোটের অংশ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। সাম্প্রতিক ওই নির্বাচনে নাজিব রাজাকের বারিশান ন্যাশনাল পার্টিকে তারা পরাজিত করে। পিএইচ নেতৃত্বাধীন চুক্তি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পদে আনোয়ার মাহাথিরের উত্তরাধিকারী হিসেবে নিযুক্ত হবেন।

পিকেআর নেতা আনোয়ার এখন আগামী মাসে তার দলের নির্বাচনে প্রেসিডেন্সি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর আগে মাহাথির বলেছিলেন, তিনি দুই বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন এবং জোটের সহযোগীরা চাইলে তা আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে। মাহাথির বলেন, ‘আমাদের একসাথে কাজ করার শর্ত দুই বছর বা তিন বছর যাইহোক না কেন, সেটি আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি জনগণের ইচ্ছাকে মেনে চলব।’

গত মে মাসে আল জাজিরাতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আনোয়ার ইবরাহিম বলেছিলেন, মাহাথিরকে বিশ্বাস না করার কোনো কারণ নেই। কেননা তিনি ইতোমধ্যে তার প্রতিশ্রুতির প্রমাণ দিয়েছেন।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma