২৫ এপ্রিল ২০১৯

সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি, বিশেষ উপহার মালিকের

চাকরি
গাড়ির চাবি হস্তান্তরের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে যান ওয়াল্টার কার। - ছবি : বিবিসি

প্রথম চাকরিতে সবাই চায় সময়ে মতো অফিসে পৌঁছতে। কারণ প্রথম দিন দেরি করে অফিসে গেলে তার সম্পর্কে ধারণা খারাপ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু প্রথম দিন সময়ে মতো কাজে যোগ দেবার জন্য আমেরিকার অ্যালাব্যামা রাজ্যের ওয়াল্টার কার যে নজীর স্থাপন করেছেন সেটি সত্যিই অভাবনীয়।

মি. কার প্রথম দিন ঠিক মতো কাজে যোগ দেবার জন্য সারারাত ৩২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে সকালে তার কর্মস্থলে পৌঁছেছেন।

তার গাড়িটি ভেঙ্গে যাবার পর মি. কার পায়ে হেঁটে এ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন।

এ ঘটনা জানার পর কোম্পানির মালিক তাকে নতুন একটি গাড়ি উপহার দিয়েছেন।

মি. কার যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন সেখানে তার সাথে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তার দেখা হয়।

মি. কারের চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখে সে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে সকালে নাশতা করাতে নিয়ে যান।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সকলে তার এ চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রশংসা করছেন।

মি. কার যে কোম্পানিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন সেটির নাম মুভিং ফার্ম।

সেখানকার একজন গ্রাহক হলেন জেনি ল্যামি।

শুক্রবার সকাল আটটার দিকে তিনি এবং তার স্বামী মুভিং ফার্মে যাবার কথা ছিল। সেজন্য তারা ভোরে ঘুম থেকে উঠেন।

ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে তাদের বাড়ির কলিং বেল বেজে উঠে।

সে সময় মিস ল্যামি দরজা খুললে মি. কারের সাথে দেখা হয়। তার সাথে ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ কর্মকর্তা জানালেন, তিনি এ ব্যক্তিকে রাস্তা থেকে তুলে এখানে এনেছেন।

পেলহ্যাম পুলিশ বিভাগ এক টুইটর বার্তায় বলেছে মি. কারের মতো একজন ব্যক্তির সাথে দেখা হওয়ায় তারা গৌরব বোধ করছেন।

সে তাদের উপর একটি প্রভাব তৈরি করেছে বলে সে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

মিস ল্যামি বলেন, ‘সে যখন রাতে একা হাঁটছিল সেটি আমি কল্পনা করতে পারছি না। মধ্যরাতে একা হাঁটার সময় সে হয়তো ফিরে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু সে এখানে না পৌঁছানো পর্যন্ত থামেনি।’

মুভিং কোম্পানির প্রধান নির্বাহী লুক মার্কলিন এ খবর জানার পর তার কর্মচারীর সাথে দেখা করার জন্য এসেছেন।

মি. কার-এর সাথে চা পানের সময় কোম্পানির প্রধান নির্বাহী তাকে একটি গাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন।

তখন মি. কার কিছুটা বিস্মিত হয়ে যান। এরপর তিনি কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর সাথে কোলাকুলি করেন এবং গাড়ির চাবিটি গ্রহণ করেন।

এদিকে মি. কার-এর নষ্ট হয়ে যাওয়া গাড়ি মেরামতের জন্য অনলাইনে একটি প্রচারণা শুরু হয়। সে প্রচারণায় আট হাজার ডলারের বেশি সাহায্য এসেছে।

তিনি এ বছরের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে হেলথ সায়েন্সে ডিগ্রি নিতে চান।

মার্কিন মেরিন দলে যোগ দেবার ইচ্ছা রয়েছে মি. কারের।

তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি আমার প্রতিশ্রুতি দেখাতে চেয়েছি।আমি মানুষকে জানাতে চাই যে আপনি যদি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারেন, তাহলে কোন কিছুই চ্যালেঞ্জ নয়। কোন কিছুই অসম্ভব নয়, যদি আপনি সেটিকে অসম্ভব করে না তোলেন।’ সূত্র: বিবিসি

আরো পড়ুন :
নদীতে সাঁতার কেটে প্রতিদিন অফিসে যান তিনি
বিবিসি, ৩০ জুলাই ২০১৭
আপনি কি কখনো কাউকে বলতে শুনেছেন যে অফিসে যাতায়াত করতে তিনি ভালোবাসেন?

অনেকটা নিশ্চিতভাবেই বলা যেতে পারে যে না, আপনি শোনেননি।

কারণ যানজট ডিঙিয়ে কিম্বা গরমে বাসে টিউবে ঠাসাঠাসি করে ঠিক সময়ে অফিসে গিয়ে পৌঁছানো খুব একটা সহজ কথা নয়।

কিন্তু বেনিয়ামিন ডাভিডের কথা আলাদা। বিশ্বাস হবে কিনা জানি না প্রতিদিন তিনি সাঁতার কেটে অফিসে যান। জার্মানির মিউনিখ শহরে থাকেন তিনি।

তার মতে বাসে গাড়িতে যাওয়ার ঝক্কি ঝামেলা বেশি। তাই তিনি ইসার নদীতে সাঁতার কেটে খুব সহজে ও ঠিক সময়ে পৌঁছে যান অফিসে।

প্রতিদিন সকালে তিনি তার ল্যাপটপ, জামা কাপড় আর জুতা একটি ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগের ভেতরে ভরে অফিসের জন্যে নেমে যান নদীতে। তারপর 'মেরিলি মেরিলি মেরিলি (অত্যন্ত আনন্দের সাথে) ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যান দুই কিলোমিটার দূরের অফিসে।

‘নদীর পাশ দিয়ে চলে যাওয়া সড়কটিতে সকালে প্রচুর গাড়ি থাকে। ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়া খুবই ঝামেলার,’ বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘সেকারণে আমি বাসে বা গাড়িতে করে অফিসে যাই না। যাই আমার শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে সাঁতার কেটে।’

‘তার চেয়ে সাঁতার কেটে যাওয়াই ভালো। কারণ আমি খুব দ্রুত ও টেনশন ছাড়াই অফিসে পৌঁছে যেতে পারি।’

গ্রীষ্মকালের সময় প্রতিদিনই সাঁতার কেটে অফিসে যান। বিশেষ করে ওই তিন মাস। সেসময় তিনি সাঁতার কেটে বাড়িতেও ফেরেন।
শুধু তাই নয়, শীতের সময়েও তিনি কখনো কখনো সাঁতরাতে সাঁতরাতে অফিসে চলে যান। কিন্তু সবসময় নয়। অফিসে যাওয়ার জন্যে তার আছে বিশেষ একটি ব্যাগ। তার ভেতরে থাকে তোয়ালে ও কাপড় চোপড়।

এর ভেতরে সবকিছু নিয়ে মুড়িয়ে মুখটা বন্ধ করে দেন। শুধু তাই নয়, সাঁতার কাটতেও এই ব্যাগটি তাকে সাহায্য করে। এটি ফুলে পিঠের সাথে লেগে থাকায় পানিতে ভেসে থাকতে সুবিধা হয়।

এভাবে অফিসে যাওয়া শুরু করার আগে তার মনে একটাই প্রশ্ন ছিলো যে শরীর না ভিজিয়ে কিভাবে তিনি সেখানে যেতে পারেন। এটাই ছিলো তার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি জানান, সাঁতরে অফিসে যাওয়ার পথে তিনি পায়ে রাবারের স্যান্ডেল পরেন। এই স্যান্ডেল জোড়া তাকে নদীতে পরে থাকা অনেক কিছু থেকে রক্ষা করে।

তবে প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগে যে কাজটা তিনি অবশ্যই করেন সেটা হলো নদীতে পানির উচ্চতা, তাপমাত্রা, স্রোতের গতি এসব তিনি ইন্টারনেটে পরীক্ষা করে নেন।

ইসার নদীটির উৎস আল্পস পর্বতমালায়। গ্রীষ্মকালে এর পানির তাপমাত্রা থাকে ১৪ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পানির তাপমাত্রা দেখেই তিনি ঠিক করেন কী পোশাক পরে তিনি নদীতে নামবেন।

তিনি জানান, প্রতিদিনই তিনি যখন অফিসে যান তখন লোকজন রাস্তার দু'পাশে কিম্বা ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে তাকে দেখেন এবং কেউ কেউ হাসাহাসিও করেন।

তিনি জানান, অনেকে তাকে দেখে সাঁতার কাটার ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন।

তিনি জানান, নদীটিকে জলপথ হিসেবে ব্যবহার করার দেড়শো বছর পূর্তিতে তার মাথায় এভাবে অফিসে যাওয়ার ধারণাটি আসে।

এরপর তার অনেক সহকর্মীও তার সাথে সাঁতার কেটেছেন দেখার জন্যে যে এভাবে অফিসে যেতে কেমন লাগতে পারে।

তিনি জানান, রোম ও ভিয়েনাতে যাওয়ার জন্যে এই ইসার নদীর একসময় ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। লোকজন নৌকায় করে চলাচল করতো। কিন্তু গত একশো বছরে এসব কিছু হারিয়ে গেছে।

‘এখন আর কেউ ইসার নদীকে ব্যবহার করে না। তাই আমি নিজেই প্রতিদিন ঝাঁপিয়ে পড়ি। এবং পৌঁছে যাই অফিসে। আমি অবাক হবো না যদি আগামী বছরে দেখি আরো বহু মানুষ এই নদীতে সাঁতার কেটেই অফিসে যাচ্ছেন।’

দেখুন:

আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat