২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অভিযোগ মেনে নিলেন ট্রাম্প

ট্রাম্প
সোমবার হেলসিঙ্কিতে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি বৈঠকে মিলিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প - ছবি : বিবিসি

২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল বলে গোয়েন্দা সংস্থার বক্তব্য মেনে নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প- যদিও মাত্র একদিন আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অভিযোগটি নাকচ করে দিয়েছিলেন।

তিনি বলছেন, সোমবারের বক্তব্যে তিনি ভুল বলেছিলেন। আসলে তিনি বলতে চেয়েছিলেন, রাশিয়া ওই নির্বাচনে ভূমিকা রেখেছে, সেটা মনে না করার কোনো কারণ নেই।

সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর তার পূর্ব বিশ্বাস ও সমর্থন রয়েছে।

যদিও তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের নিন্দা জানাবেন কিনা, সেই প্রশ্নের কোন জবাব দেননি মি. ট্রাম্প।

তখন তিনি কি বলেছিলেন?
ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর একজন সাংবাদিক জানতে চান, ‘২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে কোন ধরণের ভূমিকা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। যদিও সব মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে পেরেছে যে, রাশিয়ার ভূমিকা ছিল। আপনি কাকে বিশ্বাস করেন?’

তার উত্তরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমার লোকজন আমার কাছে এসেছিল, তারা বলেছে, তারা মনে করে রাশিয়ার ভূমিকা ছিল। প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তিনি বলেছেন, এটা রাশিয়ার কাজ নয়। আমি বলবো, আমি এমন কোন কারণ দেখতে পাই না যে, তারা কেন এটা করবে।’

তিনি এখন কি বলছেন?
মি. ট্রাম্প বলছেন তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা পর্যালোচনা করে দেখেছেন এবং একটি ব্যাখ্যা দেয়া দরকার বলে মনে করেন।

‘আমার বক্তব্যে একটি প্রধান বাক্যে আমি বলেছিলাম, তারা (রাশিয়া) কেন এটা করবে? আসলে সেটা হওয়ার কথা, তারা কেন করবে না?’

‘বাক্যটা হওয়ার কথা এমন, আমি এমন কোনো কারণ দেখতে পাই না, কেন এটা রাশিয়া হবে না?’ বলছেন মি. ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো যোগ করেন, ‘আমাদের গোয়েন্দারা যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন যে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে, সেই সিদ্ধান্ত আমি গ্রহণ করেছি। হয়তো আরো অনেকেই করেছে, করার মতো আরো অনেকেই রয়েছে।’

যদিও ওই হস্তক্ষেপে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়েনি বলেও বলছেন মি. ট্রাম্প।

কেন এতো সমালোচনা?
সোমবারের ওই সামিটের পর রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট, উভয় পক্ষই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, নিজের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে মি. ট্রাম্প রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অনেক আইন প্রণেতা আরো আহত হয়েছেন এই কারণে যে, রাশিয়া এবং মি. পুতিনের বিষয়ে নির্দিষ্ট সমালোচনা করতে রাজি হননি মি. ট্রাম্প।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ভুলের কথা বলছেন, কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। হোয়াইট হাউজ এখন যতই বিবৃতি দিক না কেন, রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি আটকে গিয়েছিলেন। কোনো ব্যাখ্যাই সেটা আর পাল্টাতে পারবে না। সূত্র: বিবিসি

আরো পড়ুন :
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ২১ অঙ্গরাজ্যে হ্যাকিং-এর চেষ্টা করেছিলো রাশিয়া
বিবিসি, ২২ জুন ২০১৭
গত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় অন্তত ২১টি অঙ্গরাজ্যে রাশানরা হ্যাকিং-এর চেষ্টা চালিয়েছিল বলে জানিয়েছেন একজন মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সাইবার বিষয়ক কর্মকর্তা জেনেট ম্যানফ্রা সিনেট প্যানেলের শুনানির সময় এ তথ্য দেন।

তবে কোন কোন অঙ্গরাজ্যে এমন তৎপরতা চলে, তা তিনি জানাননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া প্রভাব বিস্তার করেছে কিনা এনিয়ে তদন্ত করছে এমন একটি সিনেট প্যানেলের কাছে সাক্ষ্য দেন দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের ওই কর্মকর্তা।

জেনেট ম্যানফ্রা নামের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের সেই কর্মকর্তা সেখানে জানান যে, তার কাছে প্রমাণ আছে মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হ্যাকিং প্রচেষ্টার।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ২১টি রাজ্যের নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যবস্থায় প্রমাণ পেয়েছি, যা আসলে তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল।’

ম্যানফ্রা এক প্রশ্নের জবাবে অবশ্য এ-ও বলেন যে, এই হ্যাকিং-এ প্রকৃত ভোটের ব্যালট পরিবর্তিত হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।

সিনেট প্যানেলের শুনানিতে কোন কোন রাজ্যে হ্যাকিং হয়েছিল সেগুলো প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

মিজ ম্যানফ্রা বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা পর্ব চলাকালে এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছিল।

সিনেটের গোপন এই শুনানিতে মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থার সার্বিক অখণ্ডতার বিষয়ে নিজের আস্থার কথা তুলে ধরেন এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

সেই সাথে এ-ও বলেন, তার সংস্থার পক্ষে ভোটের হিসেব পরিবর্তনের প্রচেষ্টা সনাক্ত করা সম্ভব যদিও ভোটিং মেশিনের ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হয়নি বলে স্বীকার করেন মিজ ম্যানফ্রা।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক আগে থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কথা বলে আসছিল। ক্রেমলিন এবং মি. ট্রাম্পের প্রচার অভিযান সময়ের মধ্যকার যোগসূত্র প্রমাণ করতে এফবিআইও পৃথক তদন্ত করে দেখছে।

অবশ্য প্রথম থেকেই রাশিয়া এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে এসেছে।

একইরকমভাবে সর্বশেষ মঙ্গলবারও হোয়াইট হাউস মুখপাত্র শন স্পাইসার এমন অভিযোগের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন।


আরো সংবাদ