১৭ নভেম্বর ২০১৮

তুরস্কে সর্বাধুনিক অস্ত্র মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক পারমাণবিক অস্ত্র বি-৬১ এর দ্বাদশ সংস্করণ - ছবি : সংগ্রহ

বি-২ যুদ্ধবিমানে করে বি-৬১ পারমাণবিক বোমার সর্বাধুনিক ১২তম সংস্করণের সফল বহনের পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এই পরীক্ষা চালানোর খবর প্রকাশ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দায় সরব হয়েছে  রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ ও রাষ্ট্রীয় মিডিয়া। তারা এ ঘটনায় উদ্বেগও প্রকাশ করেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র নতুন প্রযুক্তি এই পারমাণবিক বোমা বিমানে বহনের সফল পরীক্ষা চালানোর খবর প্রকাশ করে। আর নতুন এই বোমা তুরস্কে মোতায়েন করার চিন্তা করছে যুক্তরাষ্ট্র এমনটাও জানিয়েছে, রুশ সংবাদমাধ্যম।

বি-৬১ পারমাণবিক বোমার সর্বাধুনিক সংস্করণ(১২) তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি বিমানে বহনযোগ্য। বোমাটির বহনের সফল পরীক্ষার পরই এই খবরে নড়েচড়ে বসেছে রাশিয়া। রুশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অত্যাধুনিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম বিমানকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে এই পরীক্ষার মাধ্যমে।

সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল ও সামরিক বিশ্লেষক আলেকজান্ডার ঝিলিন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আরআইএ’কে বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী মানসিকতা এখনো টিকে আছে, যা অতিমাত্রায় বর্বর।’
আরেক রুশ বিশেষজ্ঞ সের্গেই সুডাকোভ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক বি-৬১(১২) পরীক্ষাকে ‘দম্ভ ও শক্তিপ্রদর্শন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, নতুন এই বোমা কেবল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেবে। যেসব দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল, তাদের সাথেই এই বোমা ব্যবহার করা যাবে।

রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ বলছে, তুরস্কের ইনকিরলিক বিমান ঘাঁটিতে নতুন এই বোমা ও এর বহকারী বিমান মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডেও এটি মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

বি-২ বিমান ছাড়াও পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমানেও বহন যোগ্য নতুন এই বোমা। ২০২০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র অতিরক্তি হিসেবে এ ধরনের বিমানও মোতায়েনের চিন্তা করছে, বিদেশে তাদের ঘাঁটিগুলোতে।

আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রকে তোয়াক্কা করবে না তুরস্ক, প্রয়োজনে পাল্টা ব্যবস্থা
যুক্তরাষ্ট্র আগামী নভেম্বর থেকে ইরানের তেল রফতানি বর্জনের যে আহ্বান জানিয়েছে তা অস্বীকার করে এ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু।

তিনি বলেন, আঙ্কারা অন্য কোনো দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে না। তুরস্কের সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের চাপের তোয়াক্কা করবে না তুরস্ক। বরং সব চাপ মোকাবেলা করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে দেশটি।

এর আগে ইরানের ওপর নতুন করে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তেহরানকে বিশ্বের কোনো দেশের কাছে তেল বিক্রি করতে দেবে না ওয়াশিংটন।

মিত্রদেশগুলো যাতে চলতি বছরের নভেম্বর থেকেই ইরানি তেল আমদানি না করে সে দাবি জানাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে ভারত, চীন, জাপান তেল আমদানি ‘শূন্যের কোটায়’ নামিয়ে আনবে বলে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এস-৪০০ কিনলে এফ-৩০০ যুদ্ধবিমান সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে পিছু হটবে না তুরস্ক। বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগানের মুখপাত্র ইবরাহিম কালিন তার দেশের এ অবস্থান পরিষ্কার করেন।

তার্কিশ ব্লুমবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কালিন বলেন, একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে তুরস্ক এ বিষয়ে তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তুরস্ক যার থেকে ভালো মনে করবে তার থেকে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংগ্রহ করবে।

কালিন বলেন, বর্তমান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবসময় ভালো সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু এমন কোনো শর্তে যাবে না বা মেনে নেবে না যা সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হয়।

এস-৪০০ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রশ্নে তিনি বলেন, অবরোধ কোনো সুফল আনে না। তাই আমরাও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পাল্টা পদক্ষেপ নেব।


আরো সংবাদ