২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
৫ মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

ট্রাম্প বললেন ‘একটি অসাধারণ সাফল্য’, বিচারক বললেন ...

আমেরিকা
ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে সুপ্রিম কোর্ট সমর্থন দেয়ায় প্রতিবাদ - ছবি : বিবিসি

বিশ্বের পাঁচটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জনগণের আমেরিকা ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সমর্থন দিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এটি মিস্টার ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর মধ্যে একটি। ফলে একে তিনি মন্তব্য করেছেন ‘একটি অসাধারণ সাফল্য’ হিসেবে।

এর আগে নিম্ন আদালতে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করা হয়েছিল ।

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া এবং ইয়েমেন থেকে অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধার মুখে পড়বে।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে মি. ট্রাম্প ‘জাতি ও সংবিধানের জন্য মহান বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের এই সময়ে ‘আমাদের আরো কঠোর হতে হবে এবং আরো নিরাপদে থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, এই রুলিং প্রমাণ করছে যে, মিডিয়া এবং ডেমোক্রেটিক রাজনীতিকদের সবধরণের আক্রমণ ছিল ভুল এবং তারা নিজেরা ভুল হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

সেইসাথে তিনি আরো বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, তারা এই মুহূর্তে তাদের অভিবাসন নীতি আরো কঠোর করার জন্য সাক্ষাত করছে।

তবে শরণার্থী এবং মানবাধিকার গ্রুপগুলো এর ব্যাপক সমালোচনা করেছে।

যদিও একজন বিচারক এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষবশত উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে দোষারোপ করেছেন।

তবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা বৈষম্যমূলক বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা নাকচ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে এই নিষেধাজ্ঞা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নেয়া হচ্ছে । হোয়াইট হাউজ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয় এই রুলিং আমেরিকার জনগণ এবং সংবিধানের জন্য অসাধারণ সাফল্য।

কিন্তু সমালোচকরা মনে করছেন এর মধ্য দিয়ে আমেরিকার ভেতরে মুসলমানদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জন্য মি. ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ এটি।

সমালোচকরা এটাও বলছেন যে, এর আগে নাইন ইলেভেন হামলা, বোস্টন ম্যারাথন বোমা কিংবা অরল্যান্ডো নাইটক্লাবে হামলা চালিয়েছিল যারা তারা ছিল নিষেধাজ্ঞার তালিকার ভেতরে থাকার পাঁচটি দেশের বাইরের কোনও দেশের যেমন, সৌদি আরব, মিশর, কিরগিজস্থান কিংবা মার্কিন বংশোদ্ভূত কোনও হামলাকারী।

সূত্র: বিবিসি

আরো পড়ুন :

পিছু হঠলেন ট্রাম্প : বন্দিশালায় একসাথে থাকার সুযোগ পাচ্ছে অভিবাসী পরিবার
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২১ জুন ২০১৮
অবশেষে জনমতের কাছে নত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নির্বাহী আদেশে এখন থেকে বন্দিশালায় একসঙ্গে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন অভিবাসী বাবা-মা ও সন্তানরা।

বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাবা-মা ও তাদের সন্তানদের আলাদা করার প্রশ্নে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ অবস্থায় পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করার নীতি থেকে সরে এলেন তিনি। খবর বিবিসির।

ট্রাম্প বলেন, বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানদের আলাদা করার দৃশ্য তার মনে দাগ কেটেছে। তবে তার নীতির কারণে এরই মধ্যে যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি এই নির্বাহী আদেশে।

গত ৫ মে থেকে ৯ জুন সময়ের মধ্যে দুই হাজার ২০৬টি পরিবার থেকে দুই হাজার ৩৪২ শিশুকে আলাদা হয়ে গেছে।

বুধবার এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘এর ফলে পরিবারকে একসঙ্গে রাখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবারগুলো আলাদা হওয়ার দৃশ্য আমার ভালো লাগেনি। তবে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে তাদের ব্যাপারে প্রশাসন শূন্য সহনশীল বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প, মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রশ্নে অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, হৃদয়সম্পন্ন যেকোনো মানুষই অত্যন্ত আপ্লুত হয়ে পড়বেন।’

তিনি বলেন, ‘পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ুক, আমরা তা চাই না।’


আরো সংবাদ