২২ জুন ২০১৮

ভারতের ওপর চটেছেন ট্রাম্প, ইরানকেও বাগে আনার আশা

ভারতের ওপর চটেছেন ট্রাম্প, ইরানকেও বাগে আনার আশা - সংগৃহীত

চীন, ইউরোপ, মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধাবস্থার মধ্যে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চটেছেন ভারতের ওপরেও। তার অভিযোগ ভারত অনেক মার্কিন পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্কারোপ করে রেখেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র কোনো শুল্কারোপ করেনি। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে একেবারে লুটেপুটে খাচ্ছে। এ নিয়ে বন্ধুরাষ্ট্র কানাডার সঙ্গে টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছে তার। পরে ট্রাম্প তার অভিযোগের তির ছোড়েন ভারতের দিকে। তিনি বলেছেন, ‘শুধু জি-সেভেন নয়; আমি বলতে যাচ্ছি ভারতও রয়েছে। ভারত অনেক পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্কারোপ করে রেখেছে। আর আমরা কিছুই চার্জ করিনি। এটা হতে পারে না।’

ভারতের ওপর অবশ্য ট্রাম্পের রাগটা প্রকাশ পায় চলতি বছরের শুরুতেই। যুক্তরাষ্ট্র থেকে হার্লি ডেভিডসন মোটরসাইকেল আমদানিতে ভারতের অতিরিক্ত শুল্কারোপের বিষয়ে সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি হুশিয়ারি দেন, ভারত থেকে মোটরসাইকেল আমদানিতেও অধিক শুল্ক বসাবেন। যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে মোটরসাইকেল আমদানি করে।
এরপর ভারত ওই মোটরসাইকেলে শুল্ক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫০ শতাংশ করে। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার প্রশ্ন, ভারত থেকে আসা মোটরসাইকেলে যখন তারা কর বসান না, তখন তা মার্কিন বাইকে কেন?

এদিকে একের পর এক পরমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে আতঙ্ক ছড়িয়ে যাওয়া কমিউনিস্ট শাসিত উত্তর কোরিয়াকে বাগে আনলেন মঙ্গলবার, ঐতিহাসিক নথি স্বাক্ষরের মাধ্যমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এবারের আশা হচ্ছে ইরানকে বাগে আনার। সিঙ্গাপুরে তার ম্যারাথন সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যেও দিয়েছেন সেই ইঙ্গিত।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যৌথ নথিতে স্বাক্ষরের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শত্রু ইরানের সঙ্গে একটি বাস্তব চুক্তি চান। আর এই চুক্তিতে তিনি পৌঁছাতে চান শিগগিরই। তিনি বলেন, যথাসময়ে ইরানের সঙ্গেও সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে আমি বিশ্বাস করি। আমি আশা করছি, তারা ফিরে আসতে যাচ্ছে এবং একটি বাস্তব চুক্তির ব্যাপারে আলোচনায় বসবে। কারণ, আমরা এটা করতে সক্ষম হবো। আমি মনে করি এই দেশটি (ইরান) তিন চার মাস আগে যে রকমের ছিল, এখন তার চেয়ে ভিন্ন। ভূমধ্যসাগরে এবং সিরিয়ায় তারা আগে যে ধরনের আত্মবিশ্বিাসী ছিল; এখন সেটি খুব দৃঢ় দেখা যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে।


আরো সংবাদ