২২ জুন ২০১৮

জাপান উপকূলে মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

যুদ্ধবিমান
মার্কিন যুদ্ধবিমান - সংগৃহীত

জাপানের দক্ষিণ উপকূলের অদূরে সোমবার একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে ইউএস এফ১৫ নামের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই পাইলট বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে জাপানি সৈন্যরা তাকে উদ্ধার করেছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম একথা জানিয়েছে। খবর এএফপি’র।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ খবর নিশ্চিত করেনি।

এ ব্যাপারে তারা তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানায়।

বার্তা সংস্থা কিয়োডো জানায়, মার্কিন কাডেনা বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণে থাকা এ যুদ্ধবিমান সোমবার ভোরে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া দ্বীপের আঞ্চলিক রাজধানী নাহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে বিধ্বস্ত হয়।

জাপানের এনএইচকে টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, এ ঘটনায় পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এতে পাইলটের একটি পা ভেঙ্গে গেছে।

জাপানে কাডেনা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি। এখানে প্রায় ৪৭ হাজার মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।

 

আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ওপর তার নীতি চাপিয়ে দিচ্ছে : রুহানি

আলজাজিরা
 
পুরো বিশ্বের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি চাপিয়ে দেয়ায় দেশটির কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। গতকাল চীনের উপকূলবর্তী কিংদাও শহরে অনুষ্ঠিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া ভাষণে রুহানি আরো বলেন, ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা বিশ্বের বাকি দেশগুলোর ওপর বিশাল হুমকির সৃষ্টি করেছে।

সম্মেলনে রুহানি বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেয়া এই ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ হচ্ছে ২০১৫ সালে ইরানের সাথে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়া। উল্লেখ্য সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট এবং ইরান এই জোটের পর্যবেক্ষক হিসেবে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে আসার এবং ইরানের ওপর নতুন অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই এই পরমাণু চুক্তি টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চালানোর কারণে চীন ও রাশিয়ার প্রশংসা করেন রুহানি।

পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে আসায় রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত শান্ত পরিস্থিতিকে কঠিনভাবে অস্থিতিশীল করতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। পুতিন বলেন, ইরানের সাথে চুক্তিকারী দেশ হিসেবে রাশিয়া এই চুক্তিকে সম্মান করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মস্কো এই চুক্তির বাস্তবায়নের পক্ষেই রয়েছে।

 

সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিম বৈঠক : কার পরিকল্পনা সফল হবে

১৭৮৯ সালে বিপ্লবের এক বছরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন লিখেছিলেন, মৃত্যু ও কর ছাড়া আর কিছুই নির্ধারিত নয়। আগামীকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সাথে ঐতিহাসিক বৈঠকের মাধ্যমে তার এই বাণীটিই হয়তো আবারো আপডেট করবেন আরেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকানরা যেমন আশা করছে তেমন আর কে আশা করছে যে, এ সাক্ষাতের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ধ্বংসের ব্যাপারে একটি কার্যকর চুক্তি সই হবে? বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া এ বৈঠকের মাধ্যমে তার পুরনো অবস্থা থেকে বের হয়ে আসবে কি না, এটাই এখন সবচেয়ে বড় অথচ উত্তরবিহীন প্রশ্ন।

তবে এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় নিশ্চিত, যখন ট্রাম্প কিমকে স্বাগত জানাবেন, নিশ্চিতভাবেই তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার মুহূর্তের মতো একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের কৃতিত্ব দাবি করবেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি মনে করছেন, সিঙ্গাপুরের সান্তোসা দ্বীপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ বৈঠকটি ডোনাল্ড ট্রাম্প শো হতে যাচ্ছে। এমনকি তিনি যা কামনা করছেন, তাতে যদি ব্যর্থও হন তাহলে তিনি অপর পক্ষকে হুমকি দেবেন। সাবেক এই টিভি উপস্থাপক চাইবেন, যেভাবেই হোক, সবার মনোযোগ যেন তার দিকেই থাকে।

ট্রাম্পের অস্বাভাবিক ইগো এক্ষেত্রে একমাত্র সমস্যা নয় বরং উত্তর কোরিয়ার বিচ্ছিন্ন, উচ্ছৃঙ্খল এক নেতার সাথে বিশ্ব মঞ্চ এভাবে শেয়ার করে নেয়ার মাধ্যমে তিনি একটি বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছেন। জি-৭ এর সদস্যদের সাথে বাণিজ্য, ইরান ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে মতপার্থক্যের পর হোয়াইট হাউজ সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে বৈদেশিক নীতি নিয়ে এ জুয়া খেলছেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সমস্যার মোকাবেলায় যে কোনোভাবে হোক এক্ষেত্রে একটি সাফল্য ট্রাম্পের খুবই দরকার। উত্তর কোরিয়ার বিষয়টি এ ক্ষেত্রে কাজে লেগে যেতেও পারে।

২০১১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়নে ব্যাপক জোর দেন কিম জং উন। গত বছর তিনি দাবি করেন, তার সর্বাধুনিক মিসাইলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম। এরপরই উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের নীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। ২০১৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা মুন জায়ে ইনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন কিম। তিনি তার পূর্বসূরি পার্ক গিউন হাইয়ের অবস্থান থেকে সরে আসেন। ট্রাম্পের ‘পুরো উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুমকির মতো পার্কও একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছিলেন উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে।

গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকটি ছিল এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বা টার্নিং পয়েন্ট। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন এ সময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে এ টুর্নামেন্টে একটি প্রতিনিধিদল পাঠাতে অনুরোধ করেন। তার এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি প্রতিনিধিদল পাঠান। তাদের সাথে পাঠান তার বোন কিম ইয়ো জংকে। ইয়ো জংয়ের কূটনীতি এ ক্ষেত্রে ভালো কাজ দেয় এবং তিনি সেখানকার মানুষের অন্তর জয় করে নেন। দুই কোরিয়ার যুদ্ধ থেকে চলে আসা দুই কোরিয়ার মধ্যকার শীতল সম্পর্কের পরিসমাপ্তি ঘটে এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে।

ওই সময়ে থেকে এ পর্যন্ত কিম দুইবার মুনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। উভয়বারই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। এ ছাড়া তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকেও আমন্ত্রণ জানান। এ সময় তিনি কিছু পরমাণু পরীক্ষার স্থানের কাঠামো ধ্বংস করেন এবং মার্কিন নাগরিকরদের মুক্তি দেন। সেই সাথে তিনজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। এখন ট্রাম্পের পালা, তিনি হাজার মাইল দূর থেকে গিয়ে কিমের সাথে করমর্দন করবেন এবং বড়াই করবেন শতাব্দীর সেরা চুক্তি নিয়ে; কিন্তু সংবাদমাধ্যমগুলো পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যাচ্ছে, ইতোমধ্যে কিমের জয় এসে গেছে।

ট্রাম্প-কিমের এই অস্থির সমঝোতার মধ্যেও একটি ঠাণ্ডা মাথার হিসেব রয়েছে। ট্রাম্প মনে করছেন, এ বৈঠকের সবকিছু তাকে ঘিরেই হচ্ছে। কিন্তু কিমের দিক থেকে, এ বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু অস্ত্র থেকে সরে যাওয়া এবং পরমাণু অস্ত্রের মজুদ ধীরে ধীরে সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া কী পেতে পারে সে জন্য।

সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপ করা অবরোধ উঠিয়ে নেয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ, মানবিক সাহায্য এবং একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি পেতে পারেন কিম। সেই সাথে উত্তর কোরিয়ার ওপর কখনো যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাবে না এবং দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উপেক্ষা করে অনির্বাচিত হলেও তাকে সারা জীবনের জন্য দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বলে স্বীকার ও সমর্থন করে যাবে।

কিমের এই পরিবর্তন কেন?
সাধারণভাবে সবার ধারণা চীন উত্তর কোরিয়ার অবিচ্ছেদ্য বন্ধু ও মিত্র। অবশ্য পিয়ংইয়ং সব সময় তার নিজের পথেই গেছে। তবে এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটির মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয় তখন যখন বিশেষ করে বেইজিংও জাতিসঙ্ঘের আরোপিত নতুন পরমাণু নিষেধাজ্ঞার প্রতি সমর্থন দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ বছরে ইতোমধ্যেই দুইবার কিমের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। জিনপিং উত্তর কোরিয়ার এ দিক পরিবর্তনে উদ্বিগ্ন। চীন মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমঝোতা হলে তা হবে ভয়ঙ্কর। আলোচিত এই বৈঠকের ব্যাপারেও চীন উদ্বিগ্ন। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করার ব্যাপারে চীনের আহ্বানে সাড়া দেয়নি উত্তর কোরিয়া। কে জানে হয়তো উত্তর কোরিয়াও একদিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চাইবে।


আরো সংবাদ