২৩ জুন ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্য জানিয়ে চীনকে হুমকি দিলো পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্য জানিয়ে চীনকে হুমকি দিলো পেন্টাগন - সংগৃহীত

পেন্টাগনের জয়েন্ট স্টাফ ডিরেক্টর মেরিন কোরের লে. জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেছেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ছোট ছোট দ্বীপ দখলের অনেক অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের আছে। এমনকি দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের তৈরি কৃত্রিম দ্বীপ দখলের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে দূরবর্তী ছোট ছোট নিঃসঙ্গ দ্বীপ দখলের অনেক অভিজ্ঞতাও মার্কিন সেনাবাহিনীর আছে।

পরে এক বিফ্রিংয়ে তিনি তার বক্তব্য হালকা করে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, কেবল ঐতিহাসিক কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে চীনকে কোনো বার্তা দেয়া হয়নি। দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে যখন ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের মধ্যে ক্রমাগত উত্তেজনা তুঙ্গে উঠছে তখন মার্কিন সেনা কর্মকর্তার এ বক্তব্য বেশ অর্থবহন করে।

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে দেয়া এক অনুষ্ঠানে মার্কিন নৌ-কমান্ডার অ্যাডমিরাল হ্যারি হ্যারিস বলেছেন, উত্তর কোরিয়া যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি সৃষ্টি করছে সেখানে চীনও দীর্ঘমেয়াদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এই মুহূর্তে পিয়ংইয়ং আমাদের জন্য বিরাট হুমকি সৃষ্টি করছে। উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আমেরিকার ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম এবং এটা অগ্রহণযোগ্য।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চীনও বৃহৎ হুমকিদাতা হিসেবে আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। আমেরিকা, আমাদের মিত্র ও অংশীদাররা এ বিষয়ে এখনই মনোযোগী না হলে এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এশিয়া অঞ্চলে নিজের বলদর্পী নীতি বাস্তবায়নের জন্য চীন যে স্বপ্ন দেখছে সেটির বাস্তবায়ন ঘটাবে বেইজিং।

আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে যে শীর্ষ বৈঠকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সেখানে অ্যাডমিরাল হ্যারিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউস গত ১৮ মে অ্যাডমিরাল হ্যারিসকে সিনেটের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করে দিয়েছে। ডোনাল্ড প্রশাসন তাকে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

হুমকি-পাল্টা হুমকি, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে উত্তেজনা
রয়টার্স 

চীনের ওপর নতুন করে আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বেইজিং যদি মার্কিন মেধাসত্ত্ব চুরি হওয়ার ইস্যুগুলো ঠেকাতে না পারে তবে চীন থেকে আমদানিকৃত ৫ হাজার কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। 

গত ২২ মার্চ ৫০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের আমদানিকৃত চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপের জন্য একটি আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিযোগ, চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মেধাসম্পদ চুরি ও স্থানান্তর করছে। জবাবে এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ১২৮টি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করে চীন।

এর আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর উপক্রম হয়। এ মাসে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার পর সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। সে সময় চীনের পণ্যে বাড়তি কর চাপাবে না,এমন প্রতিশ্রুতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার আবার দেশটির পণ্যসামগ্রীতে বাড়তি কর আরোপের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস চীনকে সতর্ক করে বলে, শুল্ক আরোপের হুমকি এখনও বহাল রাখা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ১৫ জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত কোন কোন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে তার একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করবে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি চীনে পণ্য রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। ৩০ জুনের মধ্যে বিনিয়োগ ও রফতানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে তারা। চীন জানিয়েছে, তারা তাদের স্বার্থজনিত সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন রণতরী, পাল্টা পদক্ষেপ চীনের
বিবিসি

ক্ষেপণাস্ত্র-বাহী জাহাজ- ইউএসএস হিগিনস এবং ক্রুজার অ্যান্টাইট্যাম দক্ষিণ চীন সাগরে পারাসেল নামক একটি দ্বীপের ১২ নটিক্যাল মাইলের ভেতরে পৌঁছুনর পর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে চীনে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে আমেরিকান যুদ্ধজাহাজ বিনা অনুমতিতে চীনের সমুদ্র-সীমায় ঢুকে তাদের 'সার্বভৌমত্ব' ক্ষুণ্ণ করেছে এবং স্পষ্টতই চীনকে 'উস্কানি' দিচ্ছে।

চীন দাবি করে প্যারাসেল দ্বীপটি তাদের, যদিও ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানও দ্বীপটির মালিকানা দাবি করে।

চীন জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ দুটিকে দ্রুত চলে যেতে বলার জন্য যুদ্ধ জাহাজ এবং যুদ্ধ বিমান পাঠানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বার্তা সংস্থা রয়টরসের কাছে নিশ্চিত করেছে তাদের দুটো জাহাজ দক্ষিণ চীন সাগরের একটি বিতর্কিত দ্বীপের কাছে কাছে গেছে।

১২ মে স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি থেকে দেখা যায় এই দ্বীপেই চীনা বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং জাহাজ ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। তারপরই হাওয়াই দ্বীপের একটি যৌথ সামরিক মহড়া থেকে চীনকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা।

এরপর রোববার দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজের তৎপরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বহু দিন ধরে নাখোশ।

চীন বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সাগরে তাদের প্রভাব বিস্তারে নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাগরের মাছে বিভিন্ন ডুবো চরে বেশ কিছু কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে সামরিক স্থাপনা তৈরি করেছে।

কিন্তু আমেরিকা চীনের এই সার্বভৌমত্বের দাবি মানে না।


আরো সংবাদ