২৩ জুন ২০১৮

সন্তান কোলে নিয়ে ছবি তুলে বিপাকে ট্রাম্প-কন্যা

ইভাঙ্কার পোস্ট করা এই ছবি ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক - ফাইল ছবি

ফুটফুটে ছেলেকে কোলে তুলে আদর করছেন মা। ছেলেও আঁকড়ে রেখেছে মায়ের হাতটা। মা-সন্তান স্নেহের এই টুকরো মুহূর্তের ছবিই সমালোচনার ঝড় তুলেছে টুইটারে! কেন?

কারণ, দু’বছরের ছেলে তিওডোরের সঙ্গে ছবিটি পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কা। সমালোচকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে সীমান্তে শরণার্থী শিশুদের কেড়ে নেয়া হচ্ছে বাবা-মায়ের থেকে। আর ঠিক সেই সময়ই কোল-ছাড়া হওয়ার ভয় না থাকায় ট্রাম্পের অন্যতম উপদেষ্টা ইভাঙ্কা আদরে ভরিয়ে দিচ্ছেন তার নিজের সন্তানকে।

চলতি মাসে অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে আরও কড়া নীতি ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রশাসন। যে নীতিতে, বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরোলে ধরা পড়া মাত্র গ্রেফতার করা হবে অনুপ্রবেশকারীদের। সঙ্গে ছোট শিশু থাকলেও এর অন্যথা হবে না। ইভাঙ্কা নিজে তার বাবার অন্যতম উপদেষ্টা। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সমালোচনা ধেয়ে এসেছে তার দিকেও।

ইভাঙ্কাকে সমালোচনা করে টুইট করেছেন কৌতুকাভিনেতা প্যাটন অসওয়াল্ট। ‘‘এটাই তো আপনার সন্তানকে আদর করার সেরা সময়। আপনি তো জানেন, ও আপনার হাতের ছায়ায় নিরাপদে রয়েছে’’, লিখেছেন প্যাটন। এক মায়ের আবার আর্জি, ‘‘আপনি তিন সন্তানের মা। আমিও তাই। কল্পনা করুন তো কেউ আপনার আদরের সন্তানকে কেড়ে নিচ্ছে। আপনি তাদের আর কোনো দিনও দেখতে পাবেন না। আপনার বাবার নেয়া সিদ্ধান্তের ফলে এ রকমই হচ্ছে। কিছু করুন।’’

অতীতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক পরিবারগুলোকে একসঙ্গে থাকতে দেয়া হতো যত দিন না সেই অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে। কিন্তু এই মাসের শুরু থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে সেই সময়টুকুও দেয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তা দফতরের এক কর্তা জানান, আটক ব্যক্তিদের সরাসরি আদালতে পাঠানো হচ্ছে। তাদের সন্তানদের তুলে দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য ও জনপরিষেবা দফতরের শরণার্থী পুনর্বাসন বিভাগের হাতে।
গত মাসে স্বাস্থ্য ও জন পরিষেবা দফতরের অন্যতম শীর্ষ কর্তা স্টিভেন ওয়াঙ্গার জানান, ২০১৭ সালে শরণার্থী পুনর্বাসন বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয় অন্তত ৪০ হাজার শিশু। উদ্ধারের পর এই শিশুদের সরকারি দায়িত্বে রাখা হয় কয়েক দিন। তার পর তাদের একটা বড় অংশকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল আত্মীয় ও পালক বাবা-মায়ের কাছে। গত বছর সেই রকম সাড়ে সাত হাজার শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল শরণার্থী পুনর্বাসন বিভাগ। স্টিভেন জানান, দেড় হাজার শিশু কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছে, তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, তার প্রশাসন এর জন্য দায়ী নয়। ২০০৮ সালের একটি শিশু পাচার বিরোধী আইনের উল্লেখ করে ডেমোক্র্যাটদের ঘাড়েই দোষ চাপিয়েছেন তিনি। কিন্তু ট্রাম্প যে নীতি ঘোষণা করলেন, তার জন্য কেন ডেমোক্র্যাটরা দায়ী তা অবশ্য স্পষ্ট করেনি তার প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন উত্তর কোরিয়ার সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান ইয়ং চল
আলজাজিরা, এএফপি ও রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠককে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের ডান হাত হিসেবে পরিচিত দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান কিম ইয়ং চল। পিয়ংইয়ং থেকে যাত্রা শুরুর পর বেইজিংয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে দেখেছেন বার্তা সংস্থা এপির সাংবাদিকেরা। কিম জং উনের ডান হাত হিসেবে মনে করা হয় চলকে।

দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। তার যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে বোঝা যায়, উভয় দেশ বৈঠক সফল করার বিষয়ে আবারো আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এর আগে রোববার উত্তর কোরিয়া সফর করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইয়োনহাপ বলছে, ‘মঙ্গলবার সকালের দিকে চীনের রাজধানীতে পৌঁছেছেন কিম ইয়ং চল। সেখান থেকে নিউ ইয়র্কগামী বিমানের টিকিট নিয়েছেন তিনি।’

এপি জানায়, ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়ার কথা ছিল তার, কিন্তু পরে ফ্লাইট পরিবর্তন করে নিউ ইয়র্কের টিকেট সংগ্রহ করেছেন তিনি। ইয়োনহাপ বলছে, সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সফরের পর যুক্তরাষ্ট্রে কিম ইয়ং চোল সফরে যেতে পারেন বলে ব্যাপকভাবে আশা করা হচ্ছিল। আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে কিম জং উনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সম্মেলনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ চোলের এই সফর।

সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরীয় শীর্ষ কর্মকর্তা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রস্তাবিত শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি এগিয়ে যাচ্ছে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে কিমের শীর্ষ সহযোগী কিম চ্যাং সন সিঙ্গাপুরে গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে জাপানি ব্রডকাস্টার এনএইচকে। আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিমের শীর্ষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সন সোমবার রাতে বেইজিং হয়ে সিঙ্গাপুরে উড়ে আসেন বলে এনএইচকের খবরে বলা হয়েছে।

সোমবারের একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তাদের একটি দলও জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ঘাঁটি ইয়োকোতা থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয় বলে জানিয়েছে এনএইচকে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, উত্তর কোরীয়দের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ‘প্রাক-অগ্রবর্তী’ দল সিঙ্গাপুরে গেছে। এসব খবর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ট্রাম্প গত সপ্তাহে বৈঠকটি বাতিল ঘোষণা করলেও ঐতিহাসিক এই শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি পরিকল্পনামতো এগিয়ে যাচ্ছে।


আরো সংবাদ