২১ জানুয়ারি ২০২০
যুক্তরাজ্যের নির্বাচন

বড় জয়ের পথে বরিস জনসন

বড় জয়ের পথে বরিস জনসন - ছবি : সংগৃহীত

বড় জয় নিয়ে আবারও ব্রিটেনের ক্ষমতায় বসার পথে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বুথ ফেরত জরিপের ফলে দেখা গেছে, জনসনের কনজারভেটিভ দল ৩৬৮ আসন পেতে চলেছে। ২০১৭ সালের চেয়ে যা ৫০ আসন বেশি।

অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধীদল জেরেমি করবিনের লেবার পার্টি মাত্র ১৯১ আসন পেতে পারে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটস পেতে পারে ১৩ আসন, স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এসএনপি)৫৫ আসন এবং ব্রেক্সিট পার্টি একটি আসনও পাচ্ছে না।

যুক্তরাজ্যে বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই বুথ ফেরত জরিপে এ আভাস পাওয়া গেছে। জরিপ পরিচালনা করেছে ইপসোস মোরি। ১৪৪ টি ভোটকেন্দ্রের ২২ হাজার ৭৯০ জন ভোটারের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

জরিপের ফল সত্য হলে তা হবে ১৯৮৭ সালের পর সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কনজারভেটিভ দলের বিজয়। আর লেবার পার্টির জন্য ১৯৩৫ সালের পর সবচেয়ে খারাপ ফল। ২০১৭ সালের তুলনায় এবার তাদের আসন ৭১টি কমবে।

এবারের নির্বাচনে কনজারভেটিভ দল লেবার দলের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত বেশ কয়েকটি নিরবাচনী আসনে জয়ের পথে আছে । ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল এবং ওয়েলসে কয়েকটি এলাকায় লেবার আসন খুইয়েছে।ওইসব এলাকায় ২০১৬ সালের গণভোটে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের (ব্রেক্সিট) পক্ষে রায় এসেছিল।

বিবিসি/আইটিভি/স্কাই নিউজের বুথ ফেরত জরিপে কনজারভেটিভ দল হাউজ অব কমন্সে ৮৬ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।যদিও বেশিরভাগ আসনের ফলই এখনো ঘোষণা হওয়া বাকী।আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা হবে আগামী ৭ ঘণ্টার মধ্যে।

যুক্তরাজ্যে বুথ ফেরত জরিপের ফল ভুল হয় না বললেই চলে। গত পাঁচটি সাধারণ নিরবাচনের মধ্যে কেবল ২০১৫ সালেই একবার বুথ ফেরত জরিপের ফল ভুল হয়েছিল।সেবার বুথ ফেরত জরিপে বলা হয়েছিল ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হতে চলেছে,অথচ প্রকৃত ফলে কনজারভেটিভ দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দেখা গিয়েছিল।

এবার বুথ ফেরত জরিপের ফল সত্য হলে পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি পাস করিয়ে নিতে সক্ষম হবেন বরিস জনসন। পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে সৃষ্ট যে অচলাবস্থার মধ্যে জনসনের প্রধানমন্ত্রীত্ব শুরু হয়েছিল তার অবসান ঘটবে।

এ পর্যন্ত ১৭৫ টি আসনের ঘোষিত ফলে দেখা গেছে,কনজারভেটিভ দলের ভোট গড়ে ২ শতাংশ বেড়েছে। বুথ ফেরত জরিপে যে আভাস দেওয়া হয়েছে তার তুলনায় এ ভোট ১ পয়েন্ট বেশি।অন্যদিকে,লেবারের ভোট গড়ে ৯ শতাংশ কম। যা বুথ ফেরত জরিপের আভাসের সঙ্গে মিলে গেছে।

এ ফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, জনগণ এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের পক্ষেই জোরালো রায় দিয়েছে।

পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় এবং এমপিদের বিরোধিতার কারণে এ পর্যন্ত ব্রেক্সিট কার্যকর করতে পারেনি কনজারভেটিভ দল। তাই এ অচলাবস্থা কাটাতেই প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগাম এ নির্বাচন ডেকেছিলেন। ক্ষমতায় ফিরলে ৩১ জানুয়ারিতেই ব্রেক্সিট সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।


আরো সংবাদ




krunker gebze evden eve nakliyat