২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মে যাচ্ছেন ৭ জুনে

ব্রেক্সিট নিয়ে বিরোধের জেরে আর গদি টেকাতে পারলেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। আগামী ৭ জুন পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার আবেগধর্মী এক বক্তৃতায় কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন মে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের পরপরই হবে তার পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা।

বক্তৃতায় ব্রেক্সিট সফল করতে না পারায় ‘গভীর অনুতাপ’ প্রকাশ করেন মে। কনজারভেটিভ পার্টির ‘১৯২২ কমিটির’ প্রধান স্যার গ্রাহাম ব্র্যাডির সঙ্গে সাক্ষাতের পর পদত্যাগের দিনক্ষণ ঠিক করে ওই বক্তব্য দেন তিনি।

‘‘আমাদের দেশের অসীম পরিবর্তনের আহ্বান ছিল ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোটের মধ্যে। আমি মানুষের ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়েছিলাম,’’ বক্তৃতায় বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘‘আমি দেশের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু শেষ নই। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন, নিজের প্রিয় দেশের জন্য কাজ করতে পারা।’’

সংসদে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন নিয়ে তৃতীয়বারের চেষ্টাও ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের জন্য চাপের মুখে ছিলেন টেরেসা মে। পরবর্তী উত্তরাধিকার আসার আগ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে হবে তাকে।

টেরেসা মে'র পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, ‘‘পদত্যাগ করে সঠিক কাজটি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এতদিন পর তিনি এমন একটা বিষয় গ্রহণ করলেন, যা পুরো দেশ গত কয়েক মাস ধরে জানতো: তিনি আর দেশ শাসন করতে পারেন না, এবং দেশ শাসন করতে পারে না তার বহুধাবিভক্ত দলও।’’

কট্টরপন্থি নেতা বরিস জনসন বলেছেন, ‘‘কনজারভেটিভ দলের নতুন নেতার দায়িত্ব হবে দলকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং সঠিক নেতৃত্ব ও নির্দেশনা দেওয়া। তার দায়িত্ব হবে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উৎকৃষ্ট পন্থা বের করা। এখন আমাদের ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন এবং দলে ও দেশের বিভক্তি দূর প্রয়োজন।’’

ব্রেক্সিট নিয়ে বিরোধের জেরে ব্রিটেনে দ্বিতীয় একজন প্রধানমন্ত্রী পদ খোয়াচ্ছেন। এর আগে ২০১৬ সালের গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় আসার পরপরই পদত্যাগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফরের পর ১০ জুন থেকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনের কাজ শুরু হবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ট্রাম্পের সফরের আনুষ্ঠানিকতা সারবেন মে।

প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা
সর্বশেষ মতামত জরিপে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন কট্টরপন্থি নেতা বরিস জনসন। যিনি ইতোমধ্যে এই পদে আসার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন।

সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আছেন সাবেক ব্রেক্সিট মন্ত্রী ডমিনিক রাব। এই দুজনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে দ্বিতীয়বারের মতো লড়বেন এন্ড্রিয়া লিডসম।

এর আগে ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মে-র সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও সফল হননি লিডসম।

তাদের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, সাবেক ইউরোপ মন্ত্রী ডেভিড লিডিংটন এবং দলের নেতা মাইকেল গোভও আছেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে। ডয়েচে ভেলে।


আরো সংবাদ