২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

এক-তৃতীয়াংশ স্কুলছাত্রীই যৌন হয়রানির শিকার!

বৃটেনে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশু যৌন হয়রানি। - ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটেনের এক-তৃতীয়াংশ স্কুলছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। তাদের প্রতি তিনজনের একজন স্কুল ড্রেস পরিহিত অবস্থাতেই প্রকাশ্যে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। আর পুরুষদের অনাকাঙ্খিত যৌন দৃষ্টির সংস্পর্শে আসতে বাধ্য হয় ওই মেয়েদের দুই- তৃতীয়াংশ। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা চ্যারিটি সংস্থা প্ল্যান ইনটারন্যাশনাল ইউকের নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

স্কুলগামী এক হাজার মেয়ের ওপর জরিপ চালানোর পাশাপাশি শিক্ষাবিদদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই অনুমান হাজির করেছে সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে রাস্তাঘাটে হয়রানিতে নিজেদের বেড়ে ওঠার একটি অপরিহার্য অংশ বলে মনে করছে অনেক মেয়ে।

প্রতিবেদনে হয়রানির ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের তা প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এক হাজারের বেশি কিশোরী ও ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী নারীদের ওপর জরিপ চালিয়েছে। এ ছাড়া এ বিষয়ে মেয়েদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে।

গবেষণা ফলাফলে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেয়া মেয়েদের ৬৬ শতাংশই প্রকাশ্যে অনাকাক্সিত যৌন নিপীড়ন অথবা পুরুষের যৌন হয়রানিমূলক দৃষ্টিভঙ্গির শিকার হয়েছে। ৩৫ শতাংশ মেয়ে স্পর্শ করা, ধরা বা এলোমেলো স্পর্শের মতো অনাকাক্সিত স্পর্শের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে। স্পর্শ, তাকানো, কটূক্তি বা জোরে শিস দেয়ার মতো যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে এক-তৃতীয়াংশের বেশি মেয়ে। এদের এক-চতুর্থাংশ জানিয়েছে অনুমতি না নিয়ে অপিরিচত লোকজন তাদের ছবি তুলেছে নয়তো ভিডিও করেছে। জরিপে অংশ নেয়া আট বছর বয়সী অনেক মেয়ে জানিয়েছে, তারাও যৌন হয়রানি থেকে রেহাই পায়নি।

প্রতিবেদনে বার্মিংহামের ১৯ বছর বয়সী তরুণী মালিকাহসহ আরো বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়েছে। মালিকাহ জানান, একদিন একা একা হাঁটার সময় একটি কারের মধ্যে বসে কেউ একজন তার পিছু নিয়েছিল। তিনি বলেন, আমার ফোন তখন বন্ধ ছিল কিন্তু আমি এমন ভাব করে ফোনে কথা বলি যাতে মনে হয় কিছুক্ষণের মধ্যে আমার বাবা এসে আমাকে নিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, এখন আমার বাড়ি ফেরা ও সন্ধ্যার পর বাইরে যাওয়ার বিষয়ে বাবা-মা বেশি সচেতন থাকেন।

১৮ বছর বয়সী আরেক মেয়ে মনে করছেন প্রকাশ্যে হয়রানির বিষয়টি তরুণদের পুরুষালি সংস্কৃতির অংশ। ওই মেয়ের বাবাও তাকে বলেছেন, তুমি জানো যে, অনেক পুরুষ এমনই। ১৭ বছর বয়সী আরেক তরুণী বলেছে এটি এখন তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

গবেষণাকারী চ্যারিটি সংস্থা এই ধরনের প্রকাশ্যে হয়রানিকে সেক্সুয়াল হেরেজম্যান্ট (যৌন হয়রানি) হিসেবে ঘোষণা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। যৌন হয়রানি ঠিক নয় এমন বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য জনসেচতনতামূলক প্রচারাভিযান চালানোর পরামর্শ দিয়েছে তারা। সেই সাথে প্রত্যক্ষদর্শীরা কিভাবে নিরাপদে এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে পারেন তার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা , কিশোর ও পুরুষদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও হয়রানি প্রতিহত করতে সহায়তা করা তরুণ জনগোষ্ঠীকে সম্পর্ক ও যৌন বিষয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষা দেয়ার সুপারিশ করেছে ওই গবেষণা সংস্থা।

এর পাশাপাশি প্রকাশ্যে পাবলিক প্লেসে কাজ করা বাসচালক ও দোকান কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষকে হয়রানি প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ইউকের প্রধান নির্বাহী টানআ ব্যারন বলেন, দুঃখজনক ও গভীর উদ্বেগের বিষয় যে স্কুলপড়–য়া মেয়েরাও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন , ১২ বছর বয়সী একটি মেয়েকে প্রকাশ্যে শিস দেয়া হবে , ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্পর্শ করা হবে, বাজে দৃষ্টিতে তাকানো হবে বা পিছু নেয়া হবে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, এই লজ্জাজনক আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে এবং তা বন্ধ করতে হবে।

 

আরো পড়ুন: সিলেটে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

সিলেট ব্যুরো, ০৬ আগস্ট ২০১৮

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় ১২ বছরে শিশু সুলতানা বেগমকে ধর্ষণের পর হত্যা ও লাশ গুমের দায়ে চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম ও শিশু আদালতের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত গতকাল এ রায় ঘোষণা করেন। 

আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণের পর লাশ গুমের দায়ে অপর একটি ধারায় চার আসামির প্রত্যেককে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো কানাইঘাট উপজেলার এরালিগুল গ্রামের আবুল উদ্দিন, বাবুল আহমদ, রাসেল আহমেদ ও সাদিক উদ্দিন। এদের মধ্যে বাবুল আহমদ পলাতক। নিহত সুলতানা কানাইঘাটের এরালিগুল গ্রামের তেরাব আলীর মেয়ে। কানাইঘাটের ছোটফৌজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ত সে।

মামলা সূত্রে জান যায়, ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর বান্ধবী ফারজানার বাড়িতে বেড়াতে যায় সুলতানা। ওই দিন ফারজানার ভাই আবুল উদ্দিনসহ অন্য আসামিরা বাড়ির পাশে একটি টিলায় কাজ করছিলেন। এ সময় আবুল উদ্দিন তার বোন ফারজানাকে খাবার জন্য পানি আনতে বলে। কিন্তুফারজানা না গিয়ে সুলতানাকে পানি দিয়ে পাঠায়। ওই সময় আবুলসহ অন্যান্য আসামি সুলতানাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। জানাজানি হওয়ার ভয়ে তারা সুলতানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ মাটি চাপা দেয়।

সুলতানা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। পরদিন স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সুলতানার স্বজনেরা মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় লাশ উদ্ধার করেন। পরে এ ঘটনায় সুলতানার ভাই একলিম উদ্দিন বাদি হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme