১৭ অক্টোবর ২০১৮

ব্রিটেনে স্কুল ড্রেস পরা ছাত্রীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে

ব্রিটেনে স্কুল ড্রেস পরা ছাত্রীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে - ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটেনের এক তৃতীয়াংশ স্কুলছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। প্রতি তিনজনের একজন মেয়ে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থাতেই প্রকাশ্যে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। আর পুরুষের অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন দৃষ্টির সংস্পর্শে আসতে বাধ্য হয় ওই মেয়েদের দুই তৃতীয়াংশ।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা চ্যারিটি সংস্থা প্ল্যান ইনটারন্যাশনাল ইউকে’র নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

স্কুলগামী ১ হাজার মেয়ের উপর জরিপ চালানোর পাশাপাশি শিক্ষাবিদদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন হাজির করেছে সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে রাস্তা-ঘাটে হয়রানিকে নিজেদের বেড়ে ওঠার একটি অপরিহার্য অংশ বলে মনে করছে অনেক মেয়ে। প্রতিবেদনে হয়রানির ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের তা প্রতিহত করার আহবান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরীর জন্য প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এক হাজারের বেশি কিশোরী ও ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী তরুণ নারীদের উপর জরিপ চালিয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে মেয়েদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে।

গবেষণা ফলাফলে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেয়া মেয়েদের ৬৬ শতাংশই প্রকাশ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন নিপীড়ন অথবা পুরুষের যৌন হয়রানিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি শিকার হয়েছে। ৩৫ শতাংশ মেয়ে স্পর্শ করা, ধরা বা এলোমেলো স্পর্শের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে। স্পর্শ, তাকানো, কটূক্তি বা জোরে শিস দেয়ার মতো যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে এক তৃতীয়াংশের বেশি মেয়ে। এদের এক চতুর্থাংশ জানিয়েছে, অনুমতি না নিয়ে অপরিচিত লোকজন তাদের ছবি তুলেছে নয়তো ভিডিও করেছে। জরিপে অংশ নেয়া ৮ বছর বয়সী অনেক মেয়ে জানিয়েছে, তারাও যৌন হয়রানি থেকে রেহাই পায়নি।

প্রতিবেদনে বার্মিংহামের ১৯ বছর বয়সী তরুণী মালিকাহসহ আরো বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়েছে। মালিকাহ জানান, একদিন একাকী হাঁটার সময় একটি কারের মধ্যে বসে কেউ একজন তার পিছু নিয়েছিল। তিনি বলেন, আমার ফোন তখন বন্ধ ছিল কিন্তু আমি এমন ভাব করে ফোনে কথা বলি যাতে মনে হয় কিছুক্ষণের মধ্যে আমার বাবা এসে আমাকে নিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, এখন আমার বাড়ি ফেরা ও সন্ধ্যার পর বাইরে যাওয়ার বিষয়ে মা-বাবা বেশি সচেতন থাকে। ১৮ বছর বয়সী আরেক মেয়ে মনে করছেন, প্রকাশ্যে হয়রানির বিষয়টি তরুণদের পুরুষালি সংস্কৃতির অংশ। ওই মেয়ের বাবাও তাকে বলেছেন তুমি জানো যে, অনেক পুরুষ এমনই। ১৭ বছর বয়সী আরেক তরুণী বলেছে এটা এখন তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

গবেষণাকারী চ্যারিটি সংস্থা এই ধরনের প্রকাশ্যে হয়রানিকে সেক্সুয়াল হেরেজম্যান্ট ( যৌন হয়রানি) হিসেবে ঘোষণা দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। যৌন হয়রানি ঠিক নয় এমন বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য জনসেচতনতামূলক প্রচারাভিযান চালানোর পরামর্শ দিয়েছে তারা। সেইসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীরা কিভাবে নিরাপদে এইসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে পারেন তার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, কিশোর ও পুরুষদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও হয়রানি প্রতিহত করতে সহায়তা করা তরুণ জনগোষ্ঠিকে সম্পর্ক ও যৌন বিষয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষা দেয়ার সুপারিশ করেছে ওই গবেষণা সংস্থা। এর পাশাপাশি প্রকাশ্যে পাবলিক প্লেসে কাজ করা বাসচালক ও দোকান কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষকে হয়রানি প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ইউকে’র প্রধান নির্বাহী টানআ ব্যারন বলেন, দুঃখজনক ও গভীর উদ্বেগের বিষয় যে স্কুলপড়ুয়া মেয়েরাও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, ১২ বছর বয়সী একটি মেয়েকে প্রকাশ্যে শিস দেয়া হবে, ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্পর্শ করা হবে, বাজে দৃষ্টিতে তাকানো হবে বা পিছু নেয়া হবে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, এই লজ্জাজনক আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে, তা বন্ধ করতে হবে।


আরো সংবাদ